kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তরিকুলসহ বিএনপির কয়েক নেতার বাড়িতে হামলা

মধ্যরাতে বোমায় প্রকম্পিত যশোর

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর   

৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্যরাতে বোমায় প্রকম্পিত যশোর

যশোরে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় চূর্ণবিচূর্ণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের বাড়ির কাচ। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোর শহরে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অন্তত ১০টি বাড়িতে ৩০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

যেসব বিএনপি নেতার বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের প্রায় সবাই পুলিশের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি। ঘটনার সময় তাঁরা কেউ বাড়ি ছিলেন না। তবে দলটির নেতারা মনে করেন, সরকারি দলের লোকেরা এ হামলায় জড়িত।

হামলার শিকার নেতাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন জানায়, শহরের ঘোপ এলাকায় বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের বাড়িতে পাঁচটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। বোমার স্প্লিন্টারে বাড়ির দোতলার জানালার কাচ ভেঙে যায়।

তরিকুল ইসলামের বাড়িতে বোমা হামলার কয়েক মিনিট পরই জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর উপশহরের বাড়িতে পাঁচটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে জেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, পৌর কাউন্সিলর সালাহউদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়নের ছেলে মুল্লক চাঁদ, বিপ্লব চৌধুরী ও সঞ্জয় চৌধুরীর বাসা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা চালানো হয়।

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম সাংবাদিকদের বলেন, 'বোমা হামলার পর বাড়ির দোতলা ও নিচতলাজুড়ে বিস্ফোরিত বোমার অংশ, স্প্লিন্টার ও জানালার কাচ ছড়িয়ে পড়ে।'

বোমা হামলার ঘটনায় তরিকুল ইসলাম প্রকাশিত দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টু গতকাল শুক্রবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, 'তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার সম্পাদক। বোমা হামলার ঘটনার পর পত্রিকাটির সম্পাদক, সাংবাদিক ও কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।'

আনোয়ারুল কবীর অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে বোমা হামলার ঘটনার কথা থানায় জানানো হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সকালে আবার জানানো হলে ৯টার দিকে পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থলে যান এবং বিস্ফোরিত বোমার আলামত সংগ্রহ করেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু বলেন, 'বোমা হামলার পাশাপাশি গুলিও ছোড়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই হামলার সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন যুক্ত থাকতে পারে।'

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিকদার আক্কাস আলী হামলার ঘটনার সত্যতা কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'বোমার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত।'

বোমা হামলায় সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকতে

পারে, বিএনপি নেতা সাবেরুল হক সাবুর এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের

সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা বোমা মারব কেন? বিএনপি বোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে। সে কারণে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।'

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা