kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বাংলাদেশে সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে জন কেরিকে চিঠি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে জন কেরিকে চিঠি

বাংলাদেশে চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে তা বন্ধে উদ্যোগ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির ১১ জন কংগ্রেস সদস্য। গত বুধবার পাঠানো ওই চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, সহিংসতা কখনো রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ১১ কংগ্রেস সদস্য হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলি, পিটার কিং, মাইক হোন্ডা, এলিয়ট এঞ্জেল, গ্রেস মেং, স্টিভ চ্যাবট, জেমস পি ম্যাকগভার্ন, হোযে সেরানো, জেরাল্ড ই কনোলি, আর্ল ব্লামেনুর ও উইলিয়াম আর কিটিং।

দুই মাস ধরে বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধ-হরতালে সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সদস্য কেরিকে উদ্যোগী হতে এ আহ্বান জানানো হলো। অবরোধ-হরতালে নাশকতার জন্য কর্মসূচি আহ্বানকারী বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করে আসছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

গত বুধবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা সহিংসতা বন্ধ করতে বলেন। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করতে আলোচনার ওপর জোর দেন তাঁরা।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের এই ১১ জন সংসদ সদস্য চিঠিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে লিখেছেন, যতটা অগ্রগতি সাধনে বাংলাদেশ সক্ষম হয়েছে, চলমান সহিংসতার কারণে তা ব্যাহত হতে পারে। বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সহিংসতাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যে কারণে দ্বিমত রয়েছে তা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রকাশ ঘটানো যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো যাতে তাদের কর্মকাণ্ড শান্তিপূর্ণভাবে চালাতে পারে, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে সেদিকেও খেয়াল রাখার প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

এ ধরনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব না হলে সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে বলে চিঠিতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরা।

নিশা দেশাইয়ের সঙ্গে ওসমান ফারুকের বৈঠক : এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক। বাংলাদেশ সময় গত বুধবার মধ্যরাতে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে এ বৈঠক হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই প্রথম বিএনপির কোনো নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসলেন পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো প্রতিনিধি।

ওসমান ফারুকের সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা এল শাই বলেন, 'নিশা দেশাই তাঁর দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনার জন্য একান্ত বৈঠকের আয়োজন করেন। এসব একান্ত আলোচনার বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না। তবে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিসওয়াল বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রায় উদ্বিগ্ন আছেন।' জানা গেছে, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে ড. ওসমান ফারুক বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধী নেতা-কর্মীদের হয়রানি, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ জানান।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা