kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাইবার হেল্পলাইনে ফেসবুককেন্দ্রিক অভিযোগ ৯০%

এস এম আজাদ   

৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'সাইবার হেল্পলাইনে' এখন পর্যন্ত জমা পড়া ছয় হাজার অভিযোগের প্রায় ৯০ শতাংশই ফেসবুককেন্দ্রিক। ফেসবুক আইডি হ্যাক, নকল আইডি খুলে অন্যকে হয়রানি, একজনের সঙ্গে অন্যের ছবি জুড়ে দেওয়া (সুপার ইমপোজ), অপপ্রচার চালানো এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার ঘটনাই বেশি। অনেকে ফেসবুক ব্যবহারের অসক্তির ব্যাপারেও অভিযোগ করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ৫ শতাংশ অভিযোগকারীর বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটেছে ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে দ্বন্দ্ব-সন্দেহের কারণে। তাই সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটির নানা অভিযোগ সুরাহা করতেই ব্যস্ত থাকছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি, মোবাইল ফোনে হুমকি, ফেসবুক ও ব্লগে হুমকি, ই-মেইল হ্যাকিং ও হুমকির অভিযোগও আসছে হেল্পলাইনে। 'বিকাশ'সহ মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগও জমা পড়ছে। তবে সব মাধ্যম মিলে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকির অভিযোগ এসেছে মাত্র ৫ শতাংশ।

জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে সরকার একটি কর্মসূচির অধীনে সাইবার হেল্পলাইন চালু করেছে। সাইবার জগতে ঘটে যাওয়া অপরাধ এবং সমস্যার ব্যাপারে ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ জানানো যায় সেখানে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ছয় হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে হেল্পলাইনে। সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মুক্ত-মনা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহজনক ব্লগ ও ফেসবুক পেজে নজর বাড়িয়েছে গোয়েন্দারা। সেখানকার স্টেটাসের সূত্র ধরে খুনি শনাক্তের চেষ্টা করছে তারা। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে হয়রানিও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। একজন আলোকচিত্রীর নাম ব্যবহার করে ব্লগে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য ও ছবি। বিষয়টি নজরে এলে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ওই আলোকচিত্রী। 'ঝামেলায়' পড়ার ভয়ে পুলিশের কাছেও যাননি তিনি। একপর্যায়ে সহায়তা চেয়েছেন সাইবার হেল্পলাইনের। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে কাজও শুরু করেছে।

জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি) একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক বছরের জন্য 'সাইবার হেল্পলাইন' চালু করেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'ইনসাইট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন' এ হেল্পলাইনটি পরিচালনা করছে। মোবাইল ফোনে কল করে, এসএমএস পাঠিয়ে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করা যায় সেখানে। ইনসাইট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অপারেশন) তানভীর হাসান জোহা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এখন ব্লগবেইজড ক্রাইম বেড়েছে। ওই আলোকচিত্রীর মতো ব্লগাররা হুমকি পেলেও কোথাও অভিযোগ দিচ্ছেন না। সাইবার জগতের সব মাধ্যম মিলে পাওয়া ছয় হাজার অভিযোগের প্রায় ৯০ শতাংশ ফেসবুককেন্দ্রিক।'

তানভীর হাসান জোহা আরো জানান, ফেসবুকে ছবি ডাউনলোড, ফেক আইডি, আইডি হ্যাকসহ নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগকারীদের অনেকেই সন্দেহ-দ্বন্দ্বের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। একজন কলেজশিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী ২৪ ঘণ্টাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। এতে তাঁর সংসারে অশান্তি হচ্ছে। সেই স্বামীর মেয়ে বন্ধুদের মধ্যে অনেক আইডিই

ভুয়া। তবে হেল্পলাইন সেই ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান দিতে পারেনি। জোহা জানান, তাঁরা তথ্য পান একটি প্রতিষ্ঠানেরই ২৭ জনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে ফেসবুককেন্দ্রিক অপরাধে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনৈতিক সম্পর্ক ও সন্দেহ তৈরি করছে ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার।

ইনসাইট বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, সাইবার হয়রানিসহ নানা অভিযোগ পেলে তাঁরা দুই উপায়ে সমাধান করেন। প্রথমত, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করে পুলিশের তদন্ত কাজে সহায়তা করা হয়। দ্বিতীয়ত, যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন হেল্পলাইন থেকে নিজেরাই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে ভুক্তভোগীকে দিয়ে থানায় মামলা করায় হেল্পলাইন। পরে পুলিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং আলামত আইনের আওতায় আনা হয়।

সাইবার হেল্পলাইন সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচিটি চলবে। পরে প্রকল্প আকারে সময় বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। সাইবার হেল্পলাইন সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে। সাইবার হেল্পলাইনের মোবাইল ফোন নম্বর : ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮; ই-মেইল : [email protected] এবং [email protected]

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা