kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইরাকে বহু প্রত্ননিদর্শন গুঁড়িয়ে দিল আইএস

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুলের ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে নমরুদের অবস্থান। খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তাইগ্রিস নদীর তীরে গড়ে ওঠে এই সভ্যতা। প্রাচীন আসিরীয়দের রাজধানী ছিল এটি। অবশ্য তখন এটি কালহু নামে পরিচিত ছিল। এখানেই এখন নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে জঙ্গিরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরাকে বহু প্রত্ননিদর্শন গুঁড়িয়ে দিল আইএস

আইএস জঙ্গিরা নমরুদে ঢুকে বৃহস্পতিবার থেকে সব ধরনের ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেছে। ছবি : বিবিসি

সভ্যতার সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ইরাকের প্রাচীন শহর নমরুদের ইতিহাস-ঐতিহ্য মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা। তাদের ধ্বংসের তালিকায় কেবল ভাস্কর্য নয়, রয়েছে সুন্নিদের প্রাচীন মসজিদও। আইএসের ভাষ্য, প্রাচীন এসব ভাস্কর্য আর মসজিদ- স্রষ্টার পরিবর্তে যেগুলোর উপাসনা করা হতো, সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়াই দরকার।

গত বৃহস্পতিবার বুলডোজার নিয়ে আইএস তাদের তাণ্ডব শুরু করে। নমরুদের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানাতে পারেনি ইরাকের পর্যটন ও প্রাচীন নিদর্শনবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আইএস জঙ্গিরা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।

আইএসের এ বর্বর কাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ইউনেসকো এই ধ্বংসযজ্ঞকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আহ্বান জানান। এছাড়া 'নতুন ধরনের বর্বরতা'র বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বিশ্বের সব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার প্রতিও আহ্বান জানান ইউনেসকো প্রধান।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুলের ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে নমরুদের অবস্থান। খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তাইগ্রিস নদীর তীরে শহরটি গড়ে ওঠে। প্রাচীন আসিরীয়দের রাজধানী ছিল নমরুদ। অবশ্য তখন এটি কালহু নামে পরিচিত ছিল। এক সময় হারিয়ে যাওয়া এ শহরের খোঁজ পাওয়া যায় ১৮২০ সালে। বিংশ শতাব্দীতে যত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে, এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো নমরুদ। এখানকার বেশির ভাগ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সরিয়ে ফেলা হয়েছে ইরাকের মসুল ও বাগদাদ, ফ্রান্সের প্যারিস, লন্ডনসহ বিভিন্ন স্থানের জাদুঘরে। এর পরও রয়ে যায় বেশ কিছু নিদর্শন। মানুষের মাথাবিশিষ্ট ও ডানাওয়ালা বিরাটকায় ষাঁড়ের ভাস্কর্যগুলো এর মধ্যে অন্যমত। এই নমরুদ শহরেই ১৯৮৮ সালে খুঁজে পাওয়া যায় মূল্যবান পাথর আর স্বর্ণের গহনার একটি অমূল্য ভাণ্ডার। এই শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও করেছিল ইউনেস্কো।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টোন ব্রুক ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক আবদুল আমির হামদানি বলেন, 'মেসোপটেমিয়ার ইতিহাসে নমরুদ সত্যিই এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আসিরিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান শিল্প ভাণ্ডারের অনেকগুলো এখান থেকে পাওয়া গেছে।' ইরাকি এই প্রত্নতাত্ত্বিক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, 'প্রত্যেকেই ধরে নিয়েছে যে, এমনটা ঘটবে। তাদের (আইএস) পরিকল্পনা হলো- একের পর এক ইরাকি ঐতিহ্য ধ্বংস করে ফেলা।' নমরুদের পর আইএস হাত্রা শহরেও হামলা চালাবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। হামদানি জানান, নিনেভেহ প্রদেশে অবস্থিত হাত্রা একটি সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী শহর। প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো শহরটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত।

নমরুদে আইএসের ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপারে ইউনেস্কোর ইরাক অংশের পরিচালক অ্যাঙ্লে প্লাথ বলেন, 'ইরাকের ঐতিহ্যের ওপর আরেকটা মর্মন্তুদ হামলা হলো।' প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে আইএস মসুল জাদুঘরে চালানো ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, হাতুড়ি আর ড্রিল মেশিন দিয়ে জাদুঘরে সংরক্ষিত শিল্পকর্মগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে আইএস জঙ্গিরা। ইরাক ও সিরিয়াজুড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠাকারী আইএস ২০১৪ সালের জুনে মসুলের দখল নেয়। সেই সঙ্গে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরের এক হাজার ৮০০টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের দখলও চলে যায় আইএস জঙ্গিদের কবলে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা