kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজস্বদাতারা সোচ্চার দাবির ফর্দ নিয়ে

আবুল কাশেম   

৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



রাজস্বদাতারা সোচ্চার দাবির ফর্দ নিয়ে

যাদের ওপর ভর করে আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, সেই বেসরকারি খাতেরই এখন যায় যায় অবস্থা। টানা হরতাল-অবরোধকে কারণ দেখিয়ে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে পাড়া-মহল্লার পান-বিড়ির দোকানদাররা পর্যন্ত লোকসানের বড় বড় হিসাব তুলে ধরছেন। তাঁদের দেওয়া লোকসানের হিসাব মেনে নিয়েছে সরকারও। এখন সোয়া লাখ কোটি টাকার লোকসান পুষিয়ে নিতে আগামী বাজেটে নানা সুবিধার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠছে বেসরকারি খাত। সব ধরনের শুল্ককরে ছাড়ের পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে নগদ ভর্তুকি দাবি করতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চিন্তিত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ বাজেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ শুল্ককরে ছাড় দিলে কেবল চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কার্যক্রমই থমকে যাবে না, নতুন অর্থবছরে সরকারি চাকুরেদের বর্ধিত বেতন-ভাতার জোগান দেওয়াও দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরেও বড় বাজেট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস স্বস্তিতে কাটলেও গত জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে অস্বস্তিকর পরিবেশ। তাই চলতি বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জন হবে অনেক কম। এ অবস্থার মধ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে গিয়ে ত্রাহি অবস্থা। কয়েক বছর ধরে বাজেটের আকার যেভাবে বাড়ছিল, নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার তার ধারে কাছে যাওয়াও সম্ভব হবে না। গেল বছর রাজনীতি শান্ত থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। চলমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গতবারের তুলনায় আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও নিস্তেজ হয়ে পড়বে। ফলে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নতুন অর্থবছরেও রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি সন্তোষজনক হবে না। অথচ সরকারের নেওয়া বড় প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগাদা রয়েছে শীর্ষ পর্যায় থেকে।

কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নেই অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার দরকার হবে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ৫২ দিনের হরতাল-অবরোধে ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এরপর যত দিন যাচ্ছে, ক্ষতির অঙ্ক ততই বাড়ছে। সেই ক্ষতি পোষাতে শুল্ককরে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি সুবিধা দিতে হবে বেসরকারি খাতকে। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের উৎস সংকুচিত হলেও ব্যয়ের ঝুলিটা বাড়াতেই হবে। তাহলে আয়ের উৎস কী হবে সে নিয়েই চিন্তিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবুও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে- এমন অনুমানের ভিত্তিতে প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করার কথা ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

বিশ্বমন্দা আর অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির টালমাটাল সময়ে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দুটি বাজেট প্রণয়ন করেছিলেন ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। সে হিসাবে জাতীয় বাজেটের আকার সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ শতাংশ বাড়ালে তা যৌক্তিক হবে। এ হিসাবে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার হওয়া উচিত দুই লাখ ৬৫ হাজার থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো। তবে রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করা যৌক্তিক হতো বলে মনে করেন তিনি।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, 'বাজেট হলো এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও লোকদেখানোর জন্য বড় আকারের বাজেট দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সে বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে ভবিষ্যতে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি আরো নাজুক হবে। কারণ সরকারের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগই দিয়ে থাকে বেসরকারি খাত। কিন্তু চলমান হরতাল-অবরোধে বেসরকারি খাতের কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তারা রাজস্ব ছাড় পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে নানা ধরনের প্রণোদনা চাইবে। ফলে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়বে।'

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে চলতি অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হবে বলে মনে করছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব মতে, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা এক লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) আদায় হয়েছে ৬৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা কম। অর্থবছর শেষে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। আরেক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকারের ব্যয় কমেছে। সরকারের ব্যয় কমার অর্থ হলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়া। কারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় কমানোর সুযোগ নেই। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ৩০ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৭৬ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এখন তা কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। চলমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরো কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। সরাসরি হরতাল-অবরোধের কথা উল্লেখ না করে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশে বলেন, 'মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ যেন অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই গতিধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সে জন্য সচেতন হতে হবে। আর মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবীমা এবং এ সম্পর্কিত অন্যান্য বীমার পরিধি বিস্তৃত করতে হবে। স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বীমার সুবিধা সম্পর্কে জনগণকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।'

হঠাৎ থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের চেয়েও কপালে ভাঁজ বেশি পড়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। টানা দুই মাসের হরতাল-অবরোধের মধ্যে সরকারের অন্য মন্ত্রীরা কোনো 'সংকট' খুঁজে না পেলেও আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে 'এক ধরনের জাতীয় সংকট' রূপে মুহিতের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। হরতাল-অবরোধের এক মাসের মাথায় গত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, 'চলমান হরতাল-অবরোধ শুধু বাজেট নয়, সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব পড়বে। মানুষের কাজ-কর্ম বন্ধ। দেশের উন্নতি হবে কিভাবে? এটা দেশের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।' অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, দুই মাস ধরে যে হরতাল-অবরোধ চলছে, তার নেতিবাচক প্রভাব এখন যতটা দেখা যাচ্ছে, সামনের দিনগুলোয় প্রভাব আরো বাড়বে।

গত ২ মার্চ অর্থমন্ত্রী বলেন, 'চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমস্যা সবারই হচ্ছে। তবে এ দুই মাসে হয়তো প্রভাব অতটা পড়বে না। এটা আরো পরে বোঝা যাবে। সুতরাং সবার জন্যই কিছু করতে হবে।'

বড় ব্যবসায়ীদের ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সরকার যে সুবিধা দিচ্ছে, একই ধরনের সুবিধা আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন ছোট দোকানদাররাও। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ভ্যাট না দেওয়ার পাশাপাশি এ দাবিও করছে। এটি হলে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হলেও মুনাফা কমবে। ফলে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয়ের উৎস আর্থিক খাত থেকে নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আদায় কমার আশঙ্কা রয়েছে। আর রাজনৈতিক অস্থিরতার সুরাহা না হলে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমবে। ব্যাহত হবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও। ফলে এসব উৎস থেকেও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের গত মেয়াদের মতো বড় বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এমনিতেই বাজেটের আগে ব্যবসায়ীদের দাবি বাড়ে। এবার সেই দাবির ফর্দ কয়েকগুণ বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বড় করে দেখিয়ে দাবিনামা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এরই মধ্যে পোশাক ও বস্ত্র খাতের মালিকরা অর্থমন্ত্রীর কাছে ২১ দফা দাবিনামা তুলে ধরে বলেছেন, রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করতে হবে। টাকার বিপরীতে ইউরোর দরপতন হয়েছে। ওই ঘাটতি পোষাতে ইউরোপে রপ্তানির বিপরীতে ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা থাকতে হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে নতুন করে কোনো রপ্তানি ঋণ শ্রেণিবিন্যাস (খেলাপি) হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। রাজনৈতিক অস্থিরতা চলাকালে কোনো ব্যবসায়ী তাঁর ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিন মাসের পরিবর্তে ছয় মাসের মধ্যে তা শ্রেণিবিন্যাস করা, পোশাকসহ সব রপ্তানিকারককে ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণ করার সুযোগ দেওয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুনঃ তফসিলি করা ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখা, পাঁচ বছরের প্রকল্প ঋণ তিন বছর বাড়িয়ে আট বছরের কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া, ৫০০ কোটি বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ঋণ পুনঃ তফসিলের যে সুযোগ জানুয়ারি মাসে দেওয়া হয়েছে, তা সব রপ্তানিকারকের জন্য প্রযোজ্য করা।

পোশাক মালিকদের করা এসব দাবির সঙ্গে একমত হয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু যে রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা নয়, সব শ্রেণির ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই পোশাক মালিকদের জন্য যেসব সুবিধা দেওয়া হবে, তা অন্যান্য খাতের রপ্তানিকারকদেরও দিতে হবে। একই সঙ্গে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পুনঃস্থাপনের যে সুযোগ বড় ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে, ওই সুযোগ সব শ্রেণির ব্যবসায়ীকেই দিতে হবে।

হরতাল-অবরোধে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করলেও রপ্তানিকারকদের বাড়তি সুবিধা না দেওয়ার পক্ষে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে ঝুঁকি থাকবেই। তাই বলে সব সময়ই তাদের ক্ষতি পোষাণোর জন্য সরকারের তহবিল থেকে অর্থ দিতে হবে এমন নয়। গত কয়েক বছর টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য অনেক বেশি ছিল। ৭০ টাকা থেকে এক ডলারের মূল্য ৮০-৮১ টাকায় পৌঁছে ছিল। অর্থাৎ আগে এক ডলারে পোশাক রপ্তানি করে তারা যেখানে ৭০ টাকা পেত, ডলারের দাম বাড়ার কারণে তখন পেয়েছে ৮০-৮১ টাকা। এতে ডলারপ্রতি অতিরিক্ত ১০ টাকা মুনাফা হয়েছে তাদের।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা