kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ড্রোন বানানোর প্রস্তুতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ড্রোন বানানোর প্রস্তুতি!

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তারের পর আটক সরঞ্জামসহ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে 'ড্রোন' বা কোয়াড হেলিকপ্টারের মতো দূর নিয়ন্ত্রিত 'ফ্লাইং মেশিনের' সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন বা কোয়াড হেলিকপ্টার তৈরি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি তুলে সেসব জায়গায় হামলার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মুখপাত্র ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক হোসেন এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন তানজিল হোসেন বাবু (২৬) ও তাঁর সহযোগী গোলাম মাওলা মোহন (২৫)। দুজনেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে কোয়াড হেলিকপ্টার বা ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও উগ্র মতবাদসম্বলিত কিছু পুস্তিকা জব্দ করা হয়। গতকাল তাঁদের আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, গোলাম মাওলা বেসরকারি গ্রীন ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। তানজিলও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গ্রেপ্তার না হওয়া নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

মনিরুল ইসলাম বলেন, মনুষ্যবিহীন বিমান নিয়ে পৃথিবীব্যাপী গবেষণার প্রেক্ষাপটে দেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা ক্যামেরা বহনে সক্ষম ছোট আকৃতির দূর নিয়ন্ত্রিত বিমান তৈরি করছে। তবে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি সংগঠনের হাতে এ ধরনের প্রযুক্তি থাকার কথা আগে শোনা যায়নি। তবে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল যে জঙ্গিরা কারিগরি বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একটি অংশ প্রযুক্তির সহায়তায় নাশকতার পরিকল্পনা করে সংগঠিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কিংবা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে টার্গেট করে বড় মাপের হামলার পরিকল্পনা করছে তারা- এমন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির জঙ্গি সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছিল। এর অংশ হিসেবে গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। শেষে গত মঙ্গলবার ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডিবিকে জানিয়েছেন, দুজনই আনসারুল্লাহ জঙ্গি দলের অন্যতম নেতা মাওলানা জসীম উদ্দিন রাহমনীর অনুসারী হিসেবে জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ২৫-৩০ তলা কোনো ভবনের সমতুল্য উচ্চতায় উড়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় সক্ষম মনুষ্যবিহীন যান তৈরির সক্ষমতা অর্জনের জন্য তাঁরা কাজ করে যাচ্ছিলেন। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে ওপর থেকে আক্রমণের পরিকল্পনা চলছিল। কমপক্ষে ৩০ কিলোগ্রাম ওজনের বোমা বহনে সক্ষম একটি যান তৈরির কাছাকাছি দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন দুজন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় ও ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দিনের রিমান্ড : আমাদের আদালত প্রতিনিধি জানান, তানজিল ও গোলাম মাওলাকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চান।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম সংরক্ষণ করছেন। আর কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং তাঁদের আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আসামিদের পক্ষে কোনো আবেদন না থাকায় শুনানি শেষে ঢাকা প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবির রাজ উভয়ের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসঙ্গত, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নাম প্রথম আলোচনায় আসে গত বছরের শেষ দিকে। আগস্টে বরগুনা থেকে এ সংগঠনের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর রাহমানীসহ অন্যদের কাছ থেকে জানা যায়, তথাকথিত 'জিহাদের' মাধ্যমে সরকারকে হটানোর লক্ষ্যে তারা থানা থেকে অস্ত্র লুট ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিল।

 

 

 



সাতদিনের সেরা