kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

সমুদ্রসীমার নতুন মানচিত্র প্রকাশ করল চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

১৭ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমুদ্রসীমার নতুন মানচিত্র প্রকাশ করল চবি

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নতুন ও পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট। আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা মামলার রায়ের প্রেক্ষাপটে এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। শিগগিরই মানচিত্রটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে হস্তান্তর করা হবে জানানো হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটিই বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সমুদ্রসীমা মানচিত্র।
গতকাল বুধবার ‘বাংলাদেশের সমুদ্র প্রদেশ’ শীর্ষক মানচিত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আনোয়ারুল আজিমের কাছে হস্তান্তর করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র ও মাৎস্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। মানচিত্রটিতে বিভিন্ন এলাকায় সম্পদের সম্ভাব্য পরিমাণও উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। মানচিত্রে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার আয়তন দেখানো হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ১১০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ১০ মিটার গভীরতার অভ্যন্তরীণ জলরাশি, নদীর মোহনা ও অগভীর জলরাশির পরিমাণ ২৪ হাজার ৭৭ বর্গকিলোমিটার। ১০ থেকে ২০০ মিটার গভীরতার অগভীর সোপান অঞ্চল ৪২ হাজার সাত বর্গকিলোমিটার। গভীরতর সমুদ্র অঞ্চল ৪৪ হাজার ৩৮৩ বর্গকিলোমিটার, যার গভীরতা ২০০ থেকে দুই হাজার ১০০ মিটার। মহীসোপানের জন্য অবশিষ্ট সমুদ্র অঞ্চলের পরিমাণ ১০ হাজার ৬৪৪ বর্গকিলোমিটার এবং গভীরতা হচ্ছে দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে গভীরতর সমুদ্র অঞ্চল, যা মোট সমুদ্র আয়তনের ৩৬.৬ শতাংশ। মানচিত্রে কোন কোন এলাকায় কী কী সম্পদ থাকতে পারে, তাও চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছে।
গবেষকরা জানান, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সমুদ্র বিজয়ের পর বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানার নতুন ও পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র তৈরি অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছিল। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর সাইদুর রহমান চৌধুরী কয়েকজন গবেষকের সহায়তায় মানচিত্রটি প্রণয়ন করেন।
মানচিত্রটি তৈরিতে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ইটলসের ২০১২ সালের রায়, স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালতের ২০১৪ সালের রায়, আমেরিকার সমুদ্র ও আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা (নোয়া), আন্তর্জাতিক সমুদ্র মানচিত্রবিষয়ক গ্রুপ গেবকো, বে অব বেঙ্গল লার্জ মেরিন ইকো সিস্টেম প্রজেক্ট এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (আনক্লস)। এ ছাড়া ন্যাচারাল আর্থ নামক সংস্থা এবং বিভিন্ন সমুদ্রবিজ্ঞান ও ভূতত্ত্ববিষয়ক জার্নালে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের সহায়তা নিয়েছেন গবেষকরা।
সমুদ্রসীমার নতুন মানচিত্র প্রণয়ণকারী দলের প্রধান প্রফেসর সাইদুর রহমান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় মানচিত্রের কাজটি শেষ করতে পেরেছি। সমুদ্র সীমানার নতুন মানচিত্রটির বাংলা ও ইংরেজি উভয় সংস্করণ করা হয়েছে। মানচিত্র প্রণয়নে ইনস্টিটিউট সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে।’

মন্তব্য