kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

জীবনীভিত্তিক উপন্যাস লিখে তৃপ্তি পেয়েছি

হাসনাত আবদুল হাই। একুশে পদকজয়ী কথাসাহিত্যিক। সৃজনশীল ও মননশীল সাহিত্যের উভয় শাখায়ই নিরন্তর লিখে যাচ্ছেন। তাঁর জীবনের গল্প শুনেছেন রুদ্র আরিফ। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৯ মিনিটে



জীবনীভিত্তিক উপন্যাস লিখে তৃপ্তি পেয়েছি

শৈশব বেড়ে ওঠা...

পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হলেও আমার জন্ম কলকাতায়, ১৯৩৭ সালে (প্রাতিষ্ঠানিক হিসেবে ১৯৩৯ সাল)। বাবা আবুল ফাতাহ ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁর চাকরির সুবাদে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে। শৈশবের স্মৃতি বলতে কলকাতা নয়, বরং রানাঘাটের কথা মনে পড়ে। তখন আমার তিন-চার বছর বয়স। থানার কাছে একতলা বাড়িতে থাকতাম। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখতাম, মিছিল করে লোক আসছে। তাদের হাতে পতাকা। থানার কাছে এসে তারা চিৎকার করত। পুলিশ তখন বালুর ব্যারিকেডের পেছনে পজিশন নিত। পরে শুনেছি, মিছিল করে আসা সেই লোকগুলো স্বদেশি। একদিন দেখি, আমাদের বাড়ির সামনে অনেক লোক। পরনে ভালো পোশাক। বাবা বললেন, জাপানিরা কলকাতায় বোমা ফেলছে। তাই ওরা আশ্রয়ের জন্য এখানে এসেছে। একই সময়ে আরেক ধরনের লোক দেখলাম—শীর্ণ দেহ। হাত-পা দিয়াশলাইয়ের কাঠির মতো। হাতে থালা নিয়ে কী যেন বলে, আর বাড়ির সামনে দাঁড়ায়। বড় ভাই বললেন, ওরা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। এই তিনটি ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও বোঝার বয়স তখনো আমার হয়নি। তবু ঘটনাগুলো আমার মনে গভীর দাগ কেটে দিয়েছে।

 

পড়াশোনার শুরু কোথায়?

১৯৪৪ সালে আমরা নড়াইলে চলে আসি। বাড়ির পাশেই একটা ভালো স্কুল। বাবা সেখানে বড় ভাইকে ভর্তি করালেও আমাকে করালেন এক মক্তবে। নদীর পারে একতলা দালান। সেটির বারান্দায় বসে পড়তে হয়। আমার মন খারাপ হলো। বাবা বললেন, ‘মুসলমান পরিবারে আগে মক্তবে পড়তে হয়। যেন আমরা নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি। তা না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের সংস্কৃতিতে আচ্ছন্ন হয়ে যাব।’ আমি সেটা পরে বুঝেছি। বাবা মুসলমান হিসেবে সচেতন থাকলেও চিঠিতে আমার বড় ভাইদের ‘শ্রীমান’ বলে সম্বোধন করতেন। আমরাও বড় ভাইকে ‘বড়দা’, বড় বোনকে ‘বুবু’ ডাকতাম। হিন্দুরা যে আমাদের বিদ্বেষের চোখে দেখে, ওই সময়ে সাম্প্রদায়িকতার সেই পরিচয় আমি পেয়েছি।

 

কেমন ছিল সেটি?

আমাদের গরু ছিল। বাছুরটি জন্মের পরপরই মারা যায়। বাছুর মারা গেলে দুধ দোহানোর জন্য বাছুরের ছাল ছাড়িয়ে ভেতরে খড় দিতে হয়। তারপর সেটিকে সামনে দাঁড় করালে গরু দুধ দেয়। আমরাও তাই করেছি। বাড়ির পাশেই ছিল একটা হিন্দু পরিবার। তারা এটা দেখে শহরের বিভিন্ন হিন্দু পরিবারকে জানাল। তারা এসে বিক্ষোভ শুরু করল—এখানে গো-হত্যা করা হয়েছে। তারা চাপ দিল, বাছুরটাকে মাটিচাপা দিতে হবে। আব্বা তখন নড়াইলের পুলিশপ্রধান। তবু সাম্প্রদায়িকতার চাপে নত হলেন। আমি তখন বুঝলাম, হিন্দুরা আর আমরা আলাদা সম্প্রদায়। এদিকে মক্তবের হুজুর আমাদের নিয়ে মিছিল বের করতেন—‘কায়েদে আজম জিন্দাবাদ, পাকিস্তান জিন্দাবাদ...।’ একটা দোতলা বাড়ি ছিল। সেই বাড়ির লোকটি মুসলমান হলেও কংগ্রেস করতেন। বাড়িটির পাশে এসে আমাদের স্লোগানের জোর বেড়ে যেত। কায়েদে আজম কী, পাকিস্তান কী—বোঝার বয়স হয়নি আমার। পরে বুঝেছি, এটা রাজনীতির বিষয়। এভাবে নড়াইলে দুই বছর থাকাকালে সাম্প্রদায়িকতা ও রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা হলো আমার। এরপর বাবা আবার বদলি হয়ে গেলেন কলকাতায়।

 

আপনিও কলকাতায় গেলেন?

না। সেখানে তো হুট করে বাড়ি পাওয়া মুশকিল। সেখানকার বেশির ভাগ বাড়িই হিন্দু পরিবারের। তারা মুসলমানদের বাড়িভাড়া দিতে চায় না। আব্বা তাই গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন আমাদের। গ্রামের বাড়িটি কসবা থানা থেকে তিন মাইল দূরে, সৈয়দাবাদ। খাল-নদী পার হয়ে যেতে হয়। যানবাহন তো নেই তখন। বড়জোর পালকিতে চড়ে যাওয়া হতো। গ্রামের সেই দাদার বাড়িতে কোনো ঘড়ি নেই। আমরা আকাশ দেখে বুঝতাম—সকাল নাকি দুপুর। সেখানে নেই কোনো পত্রিকা, নেই বইপত্র। গ্রামের কয়েকটি ছেলের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হলো। তারা রাখালগিরি করত। তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। আমিও তাদের সঙ্গে গরু নিয়ে মাঠে যেতাম। গাছে চড়তাম। পাখির বাসা থেকে ডিম পাড়তাম। বর্ষাকালে চারদিকে পানি। আমরা শালুক তুলতাম। জোছনা রাতে বিলের পানির নিচে সব দেখা যায়। মাছগুলো শুয়ে থাকত। আমরা ধরতাম। এভাবে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম।

 

সেই গ্রামটি ছাড়লেন কবে?

তত দিনে ৮-৯ মাস হয়ে গেল। বাবা বাড়ি পাচ্ছেন না। দাদার ওপর চাপ হয়ে যাচ্ছে। নানা তখন আমাদের তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন। হেঁটে সকালে রওনা দিয়ে বিকেলে পৌঁছানো। সেখানেও বিদ্যুত্ নেই; তবে কিছু বইপত্র আছে। আছে কিছু ছাত্র। তারা রেলস্টেশনের পাশের পাঠশালায় যায়। সেই পাঠশালার কোনো দেয়াল নেই। চারদিক খোলা। সেখানে যে যার আসন নিয়ে পড়তে যায়। সবাই একসঙ্গে বসে। মাস্টার একজনই। ওখানে খুব একটা পড়া হতো বলে মনে হয় না। তবে আমি মাঝেমধ্যে যেতাম। আর খুব ঘুড়ি ওড়াতাম। নানাবাড়িতে বিরাট এক পুকুর ছিল। সেই পুকুরে কলাগাছ নিয়ে সাঁতার দিতাম। এভাবে সাত-আট বছর বয়সে আমার সাঁতার শেখা। সেখানে আমার এক ফুফাতো ভাই ছিলেন। শৌখিন মানুষ। সন্ধ্যায় আমরা গোল হয়ে বসতাম। লণ্ঠন জ্বলত। তিনি গোয়েন্দা কাহিনি পড়তেন। আমরা খুব রোমাঞ্চ নিয়ে শুনতাম। একদিন গ্রামের এক লোক হুঁকা খাচ্ছিলেন। গল্প শুনতে শুনতে এতই উত্তেজিত হয়ে গেলেন, কলকি থেকে আগুন ছিটকে পড়ল আমার ছোট ভাইয়ের গায়ে। সেই পোড়া দাগ ওর আজীবনের সঙ্গী হয়ে আছে। সব মিলিয়ে নানাবাড়ির জীবনটা রোমাঞ্চকর ছিল।

 

সেই সময়েই প্রথম সিনেমা দেখেছেন?

ফুফাতো ভাই একদিন বললেন, ‘চল, তোদের সিনেমা দেখাতে নিয়ে যাব।’ আগরতলা খুব কাছেই। যেতে দুই-তিন ঘণ্টা লাগে। সেখানে গিয়ে সিনেমা দেখলাম—অশোক কুমার অভিনীত ‘ঝোলা’। অবশ্য এর আগে নড়াইলে থাকাকালেই প্রথম সিনেমা দেখেছি। আমরা ওখানে যাওয়ার পর প্রথম জেনারেটর এলো। টাউন হলে জেনারেটর দিয়ে সিনেমা দেখানো হতো। আমরা সপরিবারে দেখলাম—শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘শহর থেকে দূরে’।

 

কলকাতায় ফিরলেন কবে?

১৯৪৫ সালের শেষ দিকে আব্বা আমাদের কলকাতায় নিয়ে গেলেন। পার্ক সার্কাসের কাছে একটা কলোনির মতো বড় তিনতলা বিল্ডিং, অনেকগুলো ফ্ল্যাট। আমরা দোতলায় একটা ফ্ল্যাট পেলাম। সামনে মাঠ। তার সামনে একটা হলুদ দোতলা বাড়ি। বাড়িটির জানালা সব সময় বন্ধ থাকত। শুনেছি ওটা হিন্দু বড়লোকের বাড়ি। যেহেতু এদিকে সব মুসলমান থাকে, তাই তারা জানালা বন্ধ করে রাখত। আরেক পাশে বড় একটা খাটালের মতো ছিল। গরু-মহিষ পালে—এমন অবাঙালিরা থাকত। অন্য পাশে থাকত সেই ক্যালকেশিয়ানরা, যারা উর্দুভাষী মুসলমান। আমরা যাওয়ার কিছুদিন পর উত্তেজনা বাড়তে থাকল। বালিগঞ্জের দিক থেকে আওয়াজ ওঠে—‘বন্দেমাতরম’, আর আমাদের এখানকার ক্যালকেশিয়ানরা জবাব দেয় ‘আল্লাহু আকবর’। একসময় এটা খুব চরমে উঠল। ১৯৪৬ সালের আগস্টে দাঙ্গা হলো। তারপর থমথমে ভাব। একদিন দেখি, আমাদের সামনের বাড়ির সেই হিন্দু পরিবারটি জানালা খুলে দুই হাত তুলে মিনতি করছে ‘আমাদের বাঁচান’। কেননা তার আগের দিন আমরা দেখেছি, ক্যালকেশিয়ানরা ছুরি আর বল্লম দিয়ে খাটালে থাকা লোকগুলোকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মেরেছে। এই প্রথম আমার ছেলেবেলায় চোখে দেখলাম, মানুষ মানুষকে মারছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়ছে। আর এদিকে হিন্দু পরিবার আমাদের কাছে মিনতি করছে। কেননা ওখানে আর কেউ ছিল না ওদের উদ্ধার করার মতো। আব্বা ক্যালকেশিয়ানদের ডাকলেন; অনেক কষ্টে বোঝালেন। তাঁর অনুরোধে পরিবারটি রক্ষা পেয়েছিল। সেই বছরের শেষ দিকে আমি ভর্তি হলাম পার্ক সার্কাস হাই স্কুলে। পরের বছরের শুরুর দিকে আব্বা পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় বদলি হলেন।

 

ঢাকায় কোথায় ছিলেন?

কালিপ্রসন্ন স্ট্রিটে। আমাকে আর্মানিটোলার মতো ভালো স্কুলের বদলে হাম্মাদিয়া মাদরাসার মতো একটা স্কুলে ভর্তি করানো হলো। আব্বা বললেন, ‘ঢাকায় দাঙ্গা হচ্ছে। তুমি স্কুলে যাবা, কোনো সমস্যা হলে?’ একদিন শুনি, দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। ঢাকা এখন পাকিস্তানের অংশ। এরই মধ্যে আব্বা পদোন্নতি পেয়ে যশোর চলে গেলেন। আমরাও গেলাম। স্টেশন রোডে দোতলা বাড়ি। আশপাশে সব হিন্দু বাড়ি। আমার বয়সী এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে পরিচয় হলো। তাকে দেখলাম, অন্যদের সঙ্গে প্রত্যেক পাড়ায় লাইব্রেরি করছে। আমিও চাঁদা দিলাম। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস হলো আমার। কে কত বই পড়তে পারে—এ রকম একটা প্রতিযোগিতা ছিল। রেওয়াজ ছিল বই বিনিময়ের। যশোরেও আব্বা আমাকে জেলা স্কুলে ভর্তি না করিয়ে যশোর একাডেমিতে করালেন। সেখানে ক্লাস ফাইভ-সিক্স পর্যন্ত পড়েছি। তবে স্কুলে কোনো বন্ধু হয়নি। সব বন্ধু পাড়ায়। ওখানে একজনের সঙ্গে পরিচয় হলো—পার্থ ব্যানার্জি। এই বন্ধুকে নিয়ে আমি নিয়মিত ‘তসবীর মহল’ সিনেমা হলে সিনেমা দেখতাম। পুলিশের ছেলে বলে টাকা লাগত না। প্রত্যেক পাড়ায়ই একটা ‘দাদা’ থাকে। আমাদের ছিলেন অরবিন্দ দা। আমাকে দিয়ে তিনি পার্থের বড় বোন লতিকার কাছে চিঠি পাঠাতেন। এসব চিঠি চালাচালি করতে করতে আমারও মনে হলো, একটা লিখি না কেন! আমাদের বাড়ির পাশে সন্ধ্যা নামে এক মেয়ে ছিল। সে-ও বই পড়ত। একদিন বইয়ের ভেতর তাকে চিঠি দিলাম। পরের দিন বলল, ‘তুই চিঠি দিয়েছিস কেন?’ বললাম, ‘সবাই তো দেয়।’ বলল, ‘আমি তো বয়সে তোর বড়।’ প্রেমের ব্যাপারেও যে সিনিয়রিটি আছে, সে-ই প্রথম জানলাম। যশোরের ছেলেবেলাটা খুব আনন্দে কেটেছে। লেখাপড়ায় সব সময় প্রথম হয়েছি। পাড়ায় নাটকও করেছি। নড়াইলে সাম্প্রদায়িকতার যে রূপ দেখেছিলাম, এখানে তার বিপরীত অভিজ্ঞতা হলো। চারপাশের মানুষগুলো অসাম্প্রদায়িক ও আন্তরিক ছিলেন। ফলে এখানে তিন বছর কাটিয়ে আব্বা ফরিদপুরে বদলি হলে আমার খুব খারাপ লেগেছিল।

 

ফরিদপুরে কেমন কেটেছে?

দোতলা বাড়ি। বড় মাঠ। ফাঁকা। ফুলে ভরা। সামনে তৃণভূমি। পেছনে বাগান। এত সুন্দর বাড়ি আগে কখনো পাইনি। ফরিদপুর জেলা স্কুলে ভর্তি হলাম ক্লাস সিক্সে। এইটে পড়ার সময় অন্যদের দেখাদেখি হাতে লেখা ম্যাগাজিন করলাম। বলতে গেলে সব লেখা নিজেই লিখতাম। সব সময় ক্লাসে প্রথম হতাম। নাইন কিংবা টেনে পড়ার সময় স্কাউটের জাম্বুরিতে অংশ নিতে করাচি গিয়েছিলাম। এ সময়ে ট্রেনে করে পাকিস্তান, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) সব দর্শনীয় স্থান আমার দেখা হয়ে গেল। এভাবে স্কুলে থাকাকালেই দেশভ্রমণের নেশা হয়ে গেল আমার। এরপর ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় চলে এলাম। জাহাজ থেকে নারায়ণগঞ্জে নেমে প্ল্যাটফর্মে এসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি আর কাঁদছি। এক দম্পতি এসে বলল, ‘খোকা, তুমি কাঁদছ কেন? কিছু হারিয়েছে?’ বললাম, ‘আমার বন্ধুদের ফেলে এসেছি। এ জন্য কাঁদছি!’

 

ঢাকায় এসে সাহিত্যচর্চা...

ঢাকায় আব্বা পেয়েছিলেন লালবাগের পশ্চিম পাশের একটা পুরনো বাড়ি। প্লাস্টার নেই। অনেকগুলো ঘর। আমি এ সময় ঢাকা কলেজে ভর্তি হলাম। কলেজের ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লিখলাম আধুনিক বাংলা কবিতার ওপর। এদিকে ম্যাট্রিকে আমি চারটা লেটারসহ মেধাতালিকায় ষষ্ঠ হয়েছিলাম। সেই স্কলারশিপের প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে নিউ মার্কেট থেকে বই কিনলাম তিনটা—বুদ্ধদেব বসুর ‘সাহিত্য চিন্তা’, সমর সেনের কবিতা এবং আরেকটি সমারসেট মমর বই। আমি তখন কবিতার কিছুই বুঝি না। বুদ্ধদেব বসুর নামও শুনিনি। এসব বই কেন কিনলাম—জানি না। এখনো বইগুলো আমার কাছে আছে। এ সময়ে আমি ‘আজাদ’ পত্রিকায় ভ্রমণকাহিনি লিখতে শুরু করি। কলেজজীবনে আমার লেখালেখি খুব বেশি না হলেও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেল। ইন্টারমিডিয়েটে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়ে ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হলাম। ক্যাম্পাসে দেখলাম, জহির রায়হানরা দেয়াল পত্রিকা করেন। কলেজজীবন থেকেই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল মনছুর আহমেদ (অকালপ্রয়াত জয়েন্ট সেক্রেটারি)। আমি আর মনছুরও হাতে লেখা পত্রিকা করে জহির রায়হান যেখানে টাঙাতেন, তার পাশে টাঙালাম। তাঁদের মতো আমরাও সাহিত্য সংগঠন করলাম। প্রতিবছর হলগুলোতে সাহিত্য প্রতিযোগিতা হতো। সেগুলোতে অংশ নিতাম। এদিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হলাম আমি। সেই সময় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘ইত্তেহাদ’-এ আমার ছোটগল্প ছাপা হলো। অন্য পত্রিকাগুলোতেও লিখতাম। প্রথম দিকে ছড়া লিখলেও পরে মূলত গল্পই লিখতাম। এ ছাড়া একটি সিনেমা পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় দুটি উপন্যাস ছাপা হলো আমার—‘সাগর ফেরা পাখি’ ও ‘অরণ্য নগর’। তারপর মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে ১৯৬০ সালের অক্টোবরে আমি স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় চলে যাই, সিয়াটলের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে পড়ার জন্য।

 

প্রবাসের দিনগুলো কেমন ছিল?

ওখানে ইংরেজি সাহিত্যের প্রচুর বই কিনলাম। আমেরিকায় দেড় বছর ছিলাম। প্রচুর ঘুরেছি। এরপর এ দেশ-ও দেশ ঘুরে-ঘুরে ঢাকা ফেরার পথে লন্ডনে এক সহপাঠীর সঙ্গে দেখা। তার পরামর্শে লন্ডন ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তি হলাম, অর্থনীতিতে। পাকিস্তান হাইকমিশনে একটা পার্টটাইম চাকরিও জুটে গেল। একসময় হাইকমিশন থেকে ফুলটাইম চাকরি করতে বলা হলো আমাকে। কিন্তু তাহলে পড়াশোনা? এরই মধ্যে আমাদের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) উপাচার্য মো. আবদুল গণি স্যারের সঙ্গে হঠাত্ দেখা। তাঁকে সমস্যাটি জানালাম। তিনি পরামর্শ দিলেন, যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে এক বছর পর স্কলারশিপ নিয়ে আবার পড়তে আসি। ঢাকায় ফিরে, এক বছর অধ্যাপনার পর মূলত মা-বাবাকে খুশি করার জন্যই সরকারি চাকরিতে ঢুকলাম। এক বছর ট্রেনিং হলো লাহোরে। তারপর ঢাকায় ফিরলাম। ময়মনসিংহে থাকলাম এক বছর। এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো।

 

স্বাধীনতার পরই সাহিত্যচর্চার প্রকৃত শুরু?

স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত খুব বেশি লিখিনি, তবে প্রচুর পড়েছি। স্বাধীনতার পর লেখায় গতি এলো। ২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, প্রবন্ধ, কলাম...অনেক লেখাই লিখেছি। তবে অবসরের পর নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়ছি ও লিখছি। গত বছর সাড়ে ৫০০ পৃষ্ঠার একটা বই লিখলাম—‘শিল্পকলার নান্দনিকতা’। এর আগে লিখেছি—‘সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব’। সেটাও তাত্ত্বিক বই; ৪০০ পৃষ্ঠার। ‘চলচ্চিত্রের নান্দনিকতা’ও লিখেছি।

 

উপন্যাসে আপনি নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছেন...

আমার ধারণা, সব উপন্যাসের কাহিনি মোটামুটি একই। গল্পগুলোর কাহিনিও একই। প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, সংগ্রাম...। এই কাহিনি ও গল্পটা বলতে গিয়ে যদি নতুনত্ব না আনি, তাহলে আমার বলার মধ্যে কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। আমি যদি একটা পরিচিত কাহিনিকেই নতুন আঙ্গিকে সাজাই, তাহলে আমার বলাটা সার্থক। এই ভাবনা থেকেই নিরীক্ষা করি।

 

শেষের কবিতানতুন করে লেখাএই ভাবনা কী করে এলো?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে তথ্যগত কিছু ভুল রয়েছে। এটির নায়ক অমিত রায় ইংল্যান্ডে গিয়েছিল ব্যারিস্টারি পড়তে। সে অক্সফোর্ডে কেন যাবে? অক্সফোর্ডে তো ব্যারিস্টারি পড়ায় না। ব্যারিস্টারি শুধু লন্ডনে। সে জন্য আমি দেখালাম, অক্সফোর্ডে সে অন্য বিষয়ে পড়ছিল, এরপর লন্ডনে সে ব্যারিস্টারি পড়বে। অন্যদিকে আমার মনে হয়েছে কাহিনিটা তিনি অবাস্তবভাবে শেষ করেছেন। আমি ওটাকে বাস্তবসম্মত করলাম। যেমন তিনি দেখিয়েছেন, অমিত রায় যখন কেটিকে বিয়ে করার মনস্থির করল, লাবণ্য তখন ঠিক করল যতিশঙ্করকে বিয়ে করবে। কিন্তু হঠাত্ করে তো সে এই ছেলেকে বিয়ে করতে পারে না। কারণ ছাত্রজীবনে খুব লাজুক ছিল ছেলেটা। চিঠি দিত, এটা-ওটা দিত; কিন্তু পাত্তা পায়নি। তাই অমিতের ওপর শোধ নিতে গিয়ে হঠাত্ করে যতিশঙ্করকে বিয়ে করতে পারে না লাবণ্য। তার হয়তো মনে হবে, ‘আমাকে তো ভালোবাসত ছেলেটা!’ এই অনুরাগের পর্ব সৃষ্টি করতে আমি দেখালাম, তাদের মধ্যে পত্রালাপ হচ্ছে। আমি সম্পর্কটার গড়ে ওঠা দেখালাম। সেটাকে বাস্তব করার জন্য প্রলম্বিত করলাম।

 

নভেরা নেপথ্যে...

আমার বাড়িতে এক পার্টিতে চিত্রশিল্পী আমিনুল ইসলাম একদিন বললেন, ‘আপনি নভেরাকে নিয়ে লেখেন না কেন?’ বললাম, ‘তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানি না। কোনো বই নাই, লেখাজোখা নাই, পত্রিকা নাই।’ তিনি বললেন, ‘যাঁরা তাঁকে চিনত, আমি আপনাকে তাঁদের নাম দেব। তাঁদের ইন্টারভিউ নেওয়ার মাধ্যমে নভেরাকে আপনি ফিরিয়ে আনতে পারবেন।’ ইন্টারভিউ নিলাম। তাতে শতকরা ৭৫-৮০ ভাগ হলো, বাকি ২০ ভাগ কল্পনা মিশিয়ে ‘নভেরা’ উপন্যাসটি আমি লিখেছি। বই বের হওয়ার পর আমার অফিসে এসে একদিন এক ভদ্রলোক বললেন, ‘আমি নভেরার বড় বোনের জামাই। আমরা খুব ক্ষুব্ধ। আপনি আমাদের সম্পর্কে খারাপ কথা লিখেছেন।’ বললাম, ‘এগুলো আমার কথা না। নভেরার ভাবিই আমাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, তাঁর গহনা, কাপড়চোপড় বোনেরা লুকিয়ে রাখত। আপনাদের কিছু বলার থাকলে সংশোধনী দিন। পরের সংস্করণে সংযুক্ত করে দেব।’

 

আপনার লেখার প্রেরণা কী?

বিষয়ই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে, প্রায় ষাটটি উপন্যাসসহ শতাধিক বই আমি লিখেছি। চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানকে নিয়ে ‘লড়াকু পটুয়া’, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে নিয়ে ‘সুলতান’, চিন্তাবিদ আরজ আলী মাতুব্বরকে নিয়ে ‘একজন আরজ আলী’ এবং ভাস্কর নভেরা আহমেদকে নিয়ে ‘নভেরা’—এই চারটা জীবনীভিত্তিক উপন্যাস লিখে আমি তৃপ্তি পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘সাতজন’ও আমাকে তৃপ্তি দেয়। আমি দেখিয়েছি, সাতজন জেলবন্দি আসামি একাত্তরের মার্চ মাসের অসহযোগ আন্দোলনের সময় জেল ভেঙে বেরিয়ে এসে পালিয়ে গেল না; বরং শহীদ মিনারে এসে শপথ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিল। এই কাহিনিটিতে সত্যের ছায়া রয়েছে। এই উপন্যাস লিখতে গিয়ে আমি জাপানি চলচ্চিত্রকার আকিরা কুরোসাওয়ার ‘সেভেন সামুরাই’ চলচ্চিত্রটি থেকে প্রেরণা নিয়েছি। অন্যদিকে আমি মনে করি ‘পানেছার বানুর নকশীকাঁথা’ আমার সবচেয়ে সফল উপন্যাস। কারণ এই উপন্যাসে আমি গ্রামবাংলাকে তুলে ধরতে পেরেছি। গ্রাম থেকে কিছু ছেলে ভাগ্যান্নেষণের জন্য বে-আইনিভাবে বর্ডার পার হচ্ছে। ওদের নিয়ে যাওয়া হবে ইউরোপে। ওরা যাচ্ছে। পদে পদে ধরা পড়ছে। নির্যাতিত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে। ওদের নেতা ইলিয়াসকে আমি মহাকবি হোমারের মহাকাব্য ‘ওডিসি’র নায়ক ইউলিসিসের সঙ্গে তুলনা করেছি। ইউলিসিসের বিপদ হয়েছিল আসার সময়, ইলিয়াসের হচ্ছে যাওয়ার সময়।

 

সাহিত্যজীবনের বিশেষ স্মৃতি?

১৯৯৫ সালে আমি জাপানে গিয়েছিলাম। ওখানে ছয় মাস কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে পড়িয়েছি। একদিন আমার একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ফোন করে বললেন, ‘হাসনাত, কনগ্র্যাচুলেশন। তুমি তো একুশে পদক পেয়েছ সাহিত্যে।’

 

ব্যক্তিগত জীবন...

আমাদের ছিল ৯ ভাই-বোনের সংসার। পরিবারে আমি চতুর্থ। আব্বার ছিল সীমিত উপার্জন। খুব সচ্ছল পরিবার ছিল—বলা যায় না। কিন্তু মা আয়েশা সিদ্দিকা আমাদের কোনো দিন অভাব বুঝতে দেননি। অন্যদিকে আমি বিয়ে করেছি ১৯৭৩ সালে। স্ত্রী নাসরীন বেগম ২০১২ সালে ক্যান্সারে মারা গেছেন। আমাদের ছেলে শাহেদ হাসনাত পেশায় ডাক্তার। মেয়ে সোনিয়া হাসনাত একটি মোবাইল কম্পানিতে চাকরি করত; এখন বেকার বসে আছে!

 

আপনার আমলা জীবন...

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সরকারের শিল্পসচিব, পরিকল্পনাসচিব, ভূমিসচিব, শিক্ষাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে আমলাদের যে স্বভাব কিংবা যে চরিত্র গড়ে ওঠে, কর্তাভজা বলতে যা বোঝায়—ওই ধরনের মানসিকতা আমার গড়ে ওঠেনি। যখনই কোনো কিছু আমার অপছন্দ হয়েছে, তখনই প্রতিবাদ জানিয়েছি; কিংবা এমনভাবে কাজ করেছি, যা আমার সিনিয়রদের, এমনকি মন্ত্রীদেরও পছন্দ হয়নি। জিয়াউর রহমান যখন প্রেসিডেন্ট, আমি তখন জেলা প্রশাসক। ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার জামাল উদ্দিন আহমদ একদিন চট্টগ্রামে এসে বললেন, তাঁর গ্রামে একটা রাস্তা করে দিতে হবে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম, ওটা ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তাও না, পারিবারিক রাস্তা। পরের বার এসে তিনি আমাকে বললেন, ‘কই, রাস্তা তো হলো না?’ আমি বললাম, ‘স্যার, ওটা তো হবে না।’ ‘কেন হবে না?’ বললাম, ‘ওটা ইউনিয়ন পরিষদেরও রাস্তা না। ওটা তো আপনাদের পারিবারিক রাস্তা।’ তিনি রেগে গেলেন, ‘আমি একজন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার। আপনি আমাকে এই সব হাইকোর্ট দেখান!’ বললাম, ‘স্যার, এই রাস্তা তো আইনে হয় না।’ পরে এনায়েতউল্লাহ খানের কাছে আমি শুনেছি, ক্যাবিনেট মিটিংয়ে জামাল সাহেব অভিযোগ করেছিলেন—‘আমাদের এই ডিসি পার্টির বিরুদ্ধে কাজ কছে। রাস্তাঘাট করছে না।’ জিয়াউর রহমান তাঁর কথা শুনে হোক কিংবা যেভাবেই হোক, আমাকে কিছুদিন পর বদলি করে দিলেন।

 

এমন অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই আরো হয়েছে?

১৯৮২-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত আমি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ছিলাম। তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এক ভায়রা ছিলেন কাস্টমসের ইন্সপেক্টর। তিনি আমাকে ফোন করে বললেন, ‘আমাকে একটা দোতলা বাড়ি দিতে হবে; প্রেসিডেন্ট এরশাদ ফোন করেছেন।’ আমি বললাম, ‘আপনি এখন কোথায় থাকেন?’ বললেন, ‘আমি একটা ফ্ল্যাটে থাকি।’ বললাম, ‘আপনি যে একলা একটা দোতলা বাড়ি নেবেন, আপনার যে সিনিয়র কর্মকর্তা—কাস্টমস কালেক্টর, তিনিও তো একটা ফ্ল্যাটেই থাকেন। আপনি এটা কিভাবে নেবেন? আপনার লজ্জা করবে না? আর আমি যে দেব, আমারও তো খারাপ লাগবে—আপনি প্রেসিডেন্টের ভায়রা বলে দিচ্ছি।’ পরে আমি তাঁকে বাড়ি দিইনি। এ কারণে যিনি অসন্তুষ্ট হওয়ার কথা, তিনি হলেন। কমিশনারের পদ থেকে আমাকে বদলি করে দিলেন কুমিল্লা একাডেমিতে। আমি জানতাম এমন কিছু হবে। আমার মধ্যে আমলাসুলভ বিষয়গুলো থাকলে এই সব ছোটখাটো কাজ করেই দিতাম। এগুলো হয়তো অনিয়ম না, তবু করিনি।

 

জীবনকে কিভাবে দেখেন?

মানুষের জীবনকে আমি একটা উপহার মনে করি। এই উপহারের মূল্য একেকজনের কাছে একেক রকম। এই উপহারটাকে সবাই কিন্তু ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না, সদ্ব্যবহার করতে পারে না; অথচ তা করা উচিত। জীবনের শেষ দিকে এসে আমার মনে হয়, এই জীবন—যেটা কি না উপহার হিসেবে আমি পেয়েছি, এই উপহারটাকে ঠিক যেভাবে ব্যবহার করা উচিত ছিল, আমি সেটা পারিনি। এই আফসোসটাকে ঢাকার জন্য কেউ কেউ সুযোগও পায়। আমি যেমন লেখার মাধ্যমে পাচ্ছি। যিনি সমাজসেবা করেন, তিনি সমাজসেবার মাধ্যমে পাচ্ছেন। যিনি গাছপালা লালন-পালন করেন, ফুল ফোটান—তাঁরা সেভাবে পাচ্ছেন। আমি সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছি। এ জন্যই এখনো বই পড়ি।

 

শ্রুতলিখন : মাসুদ রানা আশিক

(ধানমণ্ডি, ঢাকা; ৪ জুলাই ২০১৯)

 

মন্তব্য