kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

হয়তো এ কারণেই সৃষ্টিকর্তা আমাকে রাস্তায় নামিয়েছিলেন

ইলিয়াস কাঞ্চন। একুশে পদকজয়ী অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রবর্তক। অভিনয় করেছেন সাড়ে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তাঁর জীবনের গল্প শুনেছেন রুদ্র আরিফ ও পিন্টু রঞ্জন অর্ক। ছবি তুলেছেন কাকলী প্রধান

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২০ মিনিটে



হয়তো এ কারণেই সৃষ্টিকর্তা আমাকে রাস্তায় নামিয়েছিলেন

শৈশব কেমন ছিল?

আমার জন্ম ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬; কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায়, আশুতিয়াপাড়া গ্রামে। বাবা হাজি আব্দুল আলি। মা শরুফা খাতুন। দুই মায়ের ঘরে আমরা ছিলাম ছয় ভাই, তিন বোন। আমার দাদির ছিল সাত ছেলে, দুই মেয়ে। আমি ছিলাম দাদির খুব প্রিয়। ছেলেরা তাঁকে কিছু এনে দিলে আমাকে খুঁজতেন। আমার প্রথম শিক্ষক ছিলেন বড় চাচা। তিনি ইমাম ছিলেন। খুব শাসন করতেন। একদিন স্লেটে ‘অ’ লিখে দিয়ে হাত ঘোরাতে বললেন। তা করতে গিয়ে ওটার চেহারাই চেঞ্জ হয়ে গেল! ‘অ’ আর বানাতে পারছি না। একসময় দেখতে ‘অ’-এর মতো কিছু একটা দাঁড়াল। তখন আমার কী যে আনন্দ! যেন রাজ্য জয় করে ফেলেছি।

 

প্রথম স্কুলে যাওয়ার স্মৃতি?

আমাকে ইমিডিয়েট বড় চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে করিমগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে পাঠানো হলো। বাড়ি থেকে সোয়া কিলোমিটারের পথ। স্কুলের পরিবেশ আমার ভালো লাগল না। দেখলাম শিক্ষকের হাতে একটা বাড়তি আঙুল। পড়া না পারায় এক ছাত্রকে তিনি খুব মারলেন। পরের দিন আমি আর আমার ভাই ঠিক করলাম, আর স্কুলে যাব না। তাহলে কী করব? তখন শীতকাল। মটরশুঁটির সময়। দুই ভাই নিজেদের জমিতে গেলাম। ক্ষুধা মেটাতে মটরশুঁটি খেলাম। তারপর সময় হলো বাড়ি ফেরার। আমাদের ছিল টিনের ঘর। উঁকি দিয়ে দেখলাম, বড় চাচা কোথায়। হঠাৎ সবচেয়ে ছোট চাচার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। বললেন, ‘তোরা যে স্কুলে যাস নাই, সেটা ভাই তো টের পেয়েছেন। কে তোদের আজ বাঁচাবে—জানি না। তোদের বই কোথায়?’ স্কুলে যেন আর যেতে না হয়, সে জন্য এরই মধ্যে আমরা বইপত্রও ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছি। এ কথা শুনে তাঁর মাথায় হাত। বুদ্ধি দিলেন, ‘বই ছেঁড়ার কথা বলিস না। বলবি আমাদের বলদটা খেয়ে ফেলেছে!’ আমাদের ভয় আরো বেড়ে গেল। হঠাৎ পেছন থেকে বড় চাচা থাবা দিলেন। আমার চাচাতো ভাই পড়িমরি দৌড়। আমি ধরা! উঠানের মাঝখানে বাঁশের খুঁটিতে আমাকে বাঁধলেন তিনি। আর চিত্কার করতে লাগলেন, ‘দাও নিয়া আয়! এ রকম ছেলে রাখার কোনো দরকার নাই!’ আমি ভয়ে চিত্কার দিলাম, ‘দাদি গো...!’ বরাবরের মতোই দাদি এসে বাঁধন খুলে সে যাত্রায় রক্ষা করলেন।

 

স্কুলে আর যাননি?

পরের দিন চাচা অপশন দিলেন, ‘স্কুলে যাবি না? তাহলে মাদরাসায় যাবি?’ মাদরাসায় তো আগে যাইনি। ভাবলাম ভালোই হবে। মাদরাসাও আমাদের গ্রাম থেকে অনেক দূরে। সেখানে প্রথম দিনই শিক্ষক আমাকে পেনসিল দিয়ে কানে চাপ দিলেন। পরের দিন বললাম, মাদরাসায়ও যাব না। চাচা চিন্তায় পড়ে গেলেন। বললেন, ‘পড়বি না যখন, তাহলে মাঠে গরু নিয়ে যাবি? চল আমার সঙ্গে।’ খুশিমনে গেলাম। তাঁর হাতে গরু, আমার হাতে বাছুর। সেই বাছুরটি নিয়ে আমি ঘণ্টা দেড়েক বাইরে ছিলাম, রোদের মধ্যে। বাড়ি ফিরে দেখি, পিঠে ফোস্কা পড়ে গেছে। স্কুলে যাব না, মাদরাসায়ও যাব না, গরু রাখতে গেলে পিঠ পুড়ে যায়—এখন কী হবে? এ রকম কয়েক দিন যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, স্কুলেই যাব। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়লাম ওখানে। তারপর এক চাচার সঙ্গে ঢাকায় চলে এলাম।

 

ঢাকায় কেমন লাগল?

এপ্রিল মাসে ক্লাস ফোরে ভর্তি হলাম গ্রাজুয়েট’স স্কুলে। জুন-জুলাইয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। এক সাবজেক্টেও পাস করলাম না। দীর্ঘ পথ হেঁটে গিয়ে ক্লাস করতাম, প্রাইভেটও পড়তাম। সেখানে এক ছাত্র পেলাম, আমার চেয়ে দুই বছরের সিনিয়র। আবদুর রহিম। ভালো ছাত্র। বুদ্ধিমান। সাতচারা ভালো খেলত। সবাই ওকে পছন্দ করে। আমার ইচ্ছা হলো, ওর মতো হবো। ফোরের ফাইনাল পরীক্ষায় আমি সেকেন্ড হলাম। ক্লাস ফাইভে দুই সেকশন। আমি সেকেন্ড হয়েছি বলে বি-সেকশনে পড়লাম। তার মানে এই সেকশনে আমিই নাম্বার ওয়ান। ফাইভে আমার অনেক বন্ধু জুটল। ১০ পর্যন্ত রোল নম্বর ছিল যাদের, সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হলো। আমরা শেয়ার করে পড়াশোনা করতাম। স্কুলে আমাদের খুব সুনাম হলো। ফাইভে পড়ার সময়ই স্কাউটে যোগ দিলাম। স্কাউটের নীতি হলো—প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করা। এ বিষয়টি খুব ভালো লাগল আমার। এভাবেই সমাজকর্মের বীজ বপন হলো মনে।

 

মিছিল-মিটিং...

সেভেনে যখন পড়ি, তত দিনে স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকে চেনা-জানা তখন থেকেই। সিনিয়র ছাত্ররা ক্লাস বন্ধ করে আমাদের মিছিলে নিয়ে যেতেন। এরই মধ্যে যে শিক্ষক আমাকে বাসায় এসে পড়াতেন, তাঁর বাড়ি ছিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে। তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। তিনি আমাকে রাজনৈতিক প্রেরণা দিতেন। অন্যদিকে আমি যে চাচার বাড়িতে থাকি, যিনি পরবর্তী সময়ে আমার শ্বশুর, তিনিও রাজনীতি করতেন। তখন আব্দুর রশীদ নামে এক নামকরা নেতা ছিলেন। দেখতে বঙ্গবন্ধুর মতোই। আমার শ্বশুরের সঙ্গে আব্দুর রশীদের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। ক্লাস এইটে পড়ার সময় রশীদ সাহেবের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বাসায় গেলাম, আড়াইহাজারের মিটিংয়ে দাওয়াত দিতে। কিন্তু তিনি আরেক জায়গায় সময় দিয়ে রেখেছেন। তখন দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেছে। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। রশীদ সাহেবকে বললেন, ‘তুই যা। ভাষণ দিয়ে চলে আসবি। তুই যে বঙ্গবন্ধু না—এটা বলার দরকার নাই।’ ঠিক তাই হলো। নূরে আলম সিদ্দিকী ভাষণ দিলেন। শুনে লোকজন ঝরঝর করে কাঁদছে। তারপর ভাষণ দিলেন আব্দুর রশীদ। সবাই ধরে নিল, তিনিই বঙ্গবন্ধু! একজনের কাজ যে আরেকজন করে দিতে পারে—নিজের চোখে দেখলাম।

 

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো?

বন্ধু নাসির উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে শার্ট-প্যান্ট আর কেডস পরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম। আমার আড়াইহাজারের সেই শিক্ষক গোপালদি থেকে একটা নৌকা দিলেন। রাস্তার ম্যাপ করে দিলেন। আর তুখোড় নেতা (মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক) আবদুল কুদ্দুস মাখন ভাইয়ের উদ্দেশে একটা গোপন চিঠি লিখে দিলেন। গোপালদি থেকে নৌকায় উত্তাল নদীপথে কুমিল্লার হোমনায় পৌঁছলাম। সেখানকার হাই স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বললাম—কিভাবে যাওয়া যায়। তাঁরা বললেন, ঘইন্নারচর বলে একটা বাজার আছে, সেখানে সকালবেলা জিনিসপত্র নিয়ে এখানকার অনেক লোক যায়। তাদের সঙ্গে ঘইন্নারচর পর্যন্ত গিয়ে, সেখান থেকে রামচন্দ্রপুর অঞ্চল দিয়ে বর্ডার পার হতে পারব। সকালে এক দুধওয়ালার সঙ্গে আমাদের পাঠানো হলো। আমার বন্ধুটা শহরের মানুষ। গ্রাম দেখেনি। ‘ধানগাছ দিয়ে কী হয়? তক্তা হয় নাকি?’—এ ধরনের প্রশ্ন করতে লাগল। দুধওয়ালার সন্দেহ হলো, আমরা পাকিস্তানিদের গুপ্তচর নাকি। বাজারে গিয়ে তিনি আমাদের কথা প্রচার করে দিলেন। এদিকে শিক্ষক আমাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলে মুসলিম লীগের একটা গ্রুপ আছে। বাজারে যখন সবাই আমাদের ঘিরে ধরল, ভাবলাম, এরা বুঝি মুসলিম লীগের। বললাম, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধে যাচ্ছি না।’ ব্যস হয়ে গেল সর্বনাশ। যখন ভুল বুঝতে পারলাম, ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তবু আমরা যে বাঙালি এবং মুক্তিযুদ্ধে যেতে চাচ্ছি—সেটা প্রমাণের চেষ্টা করলাম। ওখানে একটা নদী ছিল। নদীতে ছিল ভাঙা নৌকা। তাঁরা বললেন, ‘যদি এই নৌকা বেয়ে ওপারে যেতে পার, তাহলে বুঝব তোমরা বাঙালি।’ বন্ধুকে লগি ধরতে বলে আমি পানি সেচলাম। ওপারে এসে দেখি গ্রামের সব মানুষ জড়ো হয়ে আছে। আমাদের কথা চারদিকে রটে গেছে—বিহারি ধরা পড়েছে! ওই এলাকার এমপি সাহেব খবর পেয়ে লোক পাঠালেন। সেই লোকটিকে আমি মাখন ভাইকে লেখা স্যারের চিঠিটা দেখালাম। তিনি বুঝতে পেরে লোকদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাঁরা মানতে নারাজ! কানাঘুষা করছেন। এমপির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো আমাদের। উত্তেজিত লোকজনকে এমপি বললেন, ‘আপনারা বিকেলে আসুন। ওরা যদি আসলেই পাকিস্তানি গুপ্তচর হয়, তাহলে আপনাদের হাতে তুলে দেব। আর ওরা যদি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য এসে থাকে, তাহলে আপনারা মাফ চাইবেন।’ বিকেলবেলা সালিস বসল। চিঠিটা দিলাম। গ্রামবাসী নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলেন; আমাদের খুব আদর-আপ্যায়ন করলেন।

 

যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে যেতে পেরেছিলেন?

দুদিন ওখানে থাকার পর আমাদের জানানো হলো, কিছুদিন আগেই ভারতে একটা ব্যাচ পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া আমাদের বিষয়টি যেহেতু জানাজানি হয়ে গেছে, তাই বিপদ হবে। আমরা যেন আপাতত বাড়ি ফিরে যাই। আরেকটি তারিখ দিয়ে বলা হলো, তখন গেলে নিয়ে যাবে। এমপি সাহেবের সেই লোকটিই খুলনা পর্যন্ত আমাদের এগিয়ে দিলেন। তারপর লঞ্চে করে নারায়ণগঞ্জ এলাম। লোকজন নেই। বাসে উঠলাম। কয়েকজন মাত্র মানুষ। আমার পরনে লুঙ্গি আর পায়ে কেডস। লোকগুলো সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে। আর্মিরা এসে জেরা করল। যাহোক প্রাণে বাঁচলাম। অবশেষে বাড়ি ফিরে শুনি, মা-বাবার অবস্থা খারাপ। বাবাকে কী জবাব দেবেন—এই নিয়ে চাচা পড়েছেন বিপদে। অন্যদিকে স্কুল থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, ক্লাসে না গেলে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাবে। নাইনে উঠেছি, কিন্তু বই তো কেনা হয়নি। তোপখানা রোডের ‘পুঁথিঘর’ বইয়ের দোকানে যেতেই বৃষ্টি শুরু হলো। বই ভিজে যাবে বলে না কিনেই ফিরছিলাম। আমরা যখন টিপু সুলতান রোডে, একটা খোলা ট্রাকে আর্মিরা যাচ্ছিল। আমাদের ডাক দিল। প্রথমেই প্রশ্ন করল আমাকে। আমি তো উর্দু ভালো পারি না। বলল, ‘তু বাঙালি হ্যায়?’ বললাম, বাঙালি। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে এমন জোরে একটা চড় মারল, চোখে আমি সত্যিই সরষে ফুল কিংবা নানা রকমের তারাবাতি দেখলাম। ওখানে বয়স্ক একটা আর্মি ছিল, সে বারবার গালাগাল করে বলছিল, আমাদের যেন তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্বিতীয় প্রশ্ন করল, ভোট কাকে দিয়েছি। বললাম, আমি ভোটার নই। জানতে চাইল, বাবা কাকে ভোট দিয়েছেন? এভাবে জেরা করতে করতে আরেক গালে আরেকটা চড় দিল। আমার তো গাল ফুলে পাউরুটি!

 

কী করে বাঁচলেন?

যাঁরা ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এসেছেন, তাঁদের মোহাজের বলা হতো। আমার সঙ্গে থাকা বন্ধু ওমর খৈয়াম ছিল মোহাজের। ওকে নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করে খুশি হলো আর্মি অফিসারটি। ওর জন্য সেই যাত্রায় বেঁচে গেলাম। বাসায় যাওয়ার পর গালের অবস্থা দেখে চাচা যখন ঘটনাটি জানতে পারলেন, পরের দিনই আমাকে গ্রামে পাঠিয়ে দিলেন। কিশোরগঞ্জে আমাদের বাড়িটি থানার পেছনে। মুক্তিযোদ্ধারা থানায় আক্রমণ করার পরদিন এক মুরব্বি মারা গেলেন। তাঁকে কবর দিতে দিতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। হারিকেন, মশাল জ্বালিয়ে কবরস্থান থেকে ফিরছিল লোকজন। আর্মিরা ভেবেছিল, বোধ হয় মুক্তিবাহিনী। তারা শেল নিক্ষেপ শুরু করল। রোজার মাস। ইফতারের পর হাত-মুখ ধুয়ে আমি চকির ওপর বসে ছিলাম। পাশে আমার দুই বোন কথা বলছিল দাদির সঙ্গে। এমন সময় শেল এসে পড়ল। এক বোনের পিঠ পুড়ে গেল বারুদে। আরেক বোনের পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল। আমি যেহেতু স্কাউট করতাম, কোনো রকমে রক্তপাত থামাতে পারলাম। এদিকে বাবা উঠানে বাংকার বানিয়ে রেখেছিলেন। তিনি আমাদের সেখানে নিয়ে যেতে চাইলেন। আমি মানা করলাম। কারণ বাংকারে যদি একটা শেল এসে পড়ে, সবাই একসঙ্গে মারা পড়ব। তারপর পাশের গ্রামে, নানাবাড়ি চলে গেলাম আমরা। এক হাতুড়ে ডাক্তার এনে বোনের প্রাথমিক চিকিত্সা করানো হলো। পরের দিন ওদের হাসপাতালেও নিতে দিল না আর্মিরা। যাহোক, হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিত্সায়ই বোন দুটি প্রাণে বেঁচে গেলেও একটা বোন আজীবনের মতো খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল।

 

অভিনয়ে জড়ালেন কখন?

জীবনের প্রথম অভিনয় করেছিলাম স্কাউটের ক্যাম্পফায়ারে, বন্ধু রায়হান আলী মল্লিকের সঙ্গে। স্বাধীনতার পর আমাদের অটো প্রমোশন দেওয়া হলো। আমরা নিউ ম্যাট্রিকে উঠলাম। সে সময় স্কুলে একটা নাটক হলো—‘বাংলার মুক্তি’। সেটিতে অভিনয় করেও প্রশংসিত হলাম। ম্যাট্রিকের পর কবি নজরুল কলেজে ভর্তি হলাম। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছি। যাহোক, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার শেষের দিকে একদিন রাস্তায় রায়হানের সঙ্গে দেখা। শার্টের কলার উঁচিয়ে বেশ ভাব ধরে বলল, ‘আমরা তো একটা নাটক ধরেছি। সিনেমার নায়িকা জুলিয়াকে নিয়েছে। ডিরেক্টর নিয়েছি নায়ক কায়েসকে। রিহার্সাল দেখতে আসিস।’ আমি গেলাম। কায়েস ভাই অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। একসময় রায়হানকে বললেন, ‘আপনার এই বন্ধুকে নাটকে নিচ্ছেন না কেন?’ রায়হান ভ্যাবাচেকা খেল। একদিন রিহার্সালে এক অভিনেতা আসেননি। কায়েস ভাই বললেন, ‘একটু প্রক্সি দেবেন?’ দিলাম। কায়েস ভাই তখন রায়হানকে বললেন, ‘আরে দেখেন! আপনি কি শিল্পী দিয়েছিলেন, ১০ দিন ধরে কিছুই বের করতে পারিনি। আর এ তো প্রক্সি দিতে উঠেই...।’ আমার বন্ধুটি পড়ল আরো বিপদে। রিহার্সাল শেষে তাঁরা খোঁজ নিয়ে দেখলেন, একটা চাকরের পাঠ বাকি আছে। আমাকে এটা দেওয়া যেতে পারে। আমার খুব প্রেস্টিজে লাগল। এদিকে ম্যাট্রিকের পর আমাদের গ্রাজুয়েট’স হাই স্কুলের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ওয়ারিতে একটা ক্লাব গড়ে দিয়েছিলেন—‘সৃজন সংঘ’। তিনি চাননি আমাদের এত চমত্কার গ্রুপটি ভেঙে যাক। সেই ক্লাব থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমরা একটা সংকলন প্রকাশ করি। সেটাতে আমার জীবনের প্রথম কবিতা ‘আমার মালা’ ছাপা হয়েছিল। রায়হানদের নাটকের সঙ্গে টেক্কা দিতে ক্লাবের সবাইকে ডাকলাম। বললাম, আমরাও নাটক করব; আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘সুবচন নির্বাসনে’। সেই নাটকে প্রধান অতিথি করেছিলাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংগীতজ্ঞ মোহাম্মদ আসাফউদ্দোলাকে। জরুরি কারণে তিনি হাজির হতে পারবেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি পাঠালেন। ওয়ারিতেই থাকতেন সুভাষ দত্ত। প্রধান অতিথি হিসেবে কেউ কেউ তাঁর নাম প্রস্তাব করতেই আমি ঘাবড়ে গেলাম। কারণ তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে যেতে নানা সময়ে অকারণে তাঁকে বিরক্ত করতাম আমি। চিত্কার করে তাঁর নাম ধরে ডেকে চম্পট দিতাম। তাই ভয় ছিল, যদি আমাকে দেখলে রাজি না হন! যাহোক, তিনি রাজি হলেন।

 

সুভাষ দত্তের হাত ধরেই তো চলচ্চিত্রে আসা?

অভিনয় দেখে তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, ‘খুব সুন্দর করেছ বাবা।’ তারপর চলে গেলেন। বন্ধুরা তখন আমাকে ঘিরে ধরল—‘তুই তো নায়ক হয়ে গেছিস!’ এরপর একদিন এক বন্ধুর আত্মীয় আমাকে জানালেন, সুভাষ দা আমাকে দেখা করতে বলেছেন। গেলাম। তিনি বললেন, ‘তোমাকে তো আমার একটা চলচ্চিত্রে নিতে চাই। তোমার পরিবার থেকে আপত্তি আছে কি না?’ বললাম, ‘আমাকে দিয়ে হবে?’ তিনি বললেন, ‘তোমাকে দিয়ে হবে কি না—জানি না। তবে তোমাকে যতটুকু দেখেছি, আমি যে ক্যারেক্টার চিন্তা করছি—সেটা হবে।’ বললাম, ‘আমার কিংবা পরিবারের আপত্তি নেই।’ তিনি আমাকে আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘২৩ নম্বর তৈলচিত্র’ উপন্যাসটি পড়তে বললেন। তারপর স্টুডিওতে নিয়ে আমার ছবি তুললেন। সেই ছবিগুলোতে কখনো গোঁফ এঁকে, কখনো দাড়ি এঁকে দেখলেন। তারপর আমাকে এফডিসিতে যেতে বললেন স্ক্রিন টেস্টের জন্য। কারণ সেটাই ছিল তাঁর প্রথম রঙিন সিনেমা।

 

প্রথম শুটিংয়ের স্মৃতি?

নানা কারণে ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হতে দেরি হচ্ছিল। এটির প্রযোজক ছিল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। তিন-চার মাস কেটে যাওয়ায় তারা চাপ দিচ্ছিল। একদিন সুভাষ দত্ত আমাকে পাঞ্জাবি পরে আসতে বললেন, প্রযোজকের সঙ্গে দেখা করাবেন বলে। আমি নরমাল একটা পাঞ্জাবি পরে গেলাম। তিনি আমাকে শেরাটনে নিয়ে গিয়ে বাটিকের একটা পাঞ্জাবি কিনে দিলেন। তারপর নিয়ে গেলেন স্টুডিওতে। সেখানে ববিতা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। সব সাংবাদিক তাঁর ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। হঠাৎ তাঁদের খেয়াল হলো, নায়ক কে, নায়ক কোথায়? সুভাষদা আমাকে ববিতার পাশে নিয়ে বসালেন। সেই মুহূর্তটি কোনো দিন ভুলব না। প্রথম শুটিং করি ২৬ মার্চ ১৯৭৭। শিল্পকলা একাডেমিতে। সেটি ছবির শেষ দৃশ্য। ছবিটি মুক্তি পায় ৩১ ডিসেম্বর। আমি ‘মধুমিতা’ সিনেমা হলে গিয়েছিলাম ছবিটি দেখার জন্য। কারো একজনের কাছ থেকে একটা গাড়ি ধার করে নিয়ে গিয়েছিলাম। হলের সামনে যখন নামলাম, টোকাইরা ঘিরে ধরল। পোস্টারে আমার ছবি দেখেছে। তারা বলাবলি করতে লাগল, ‘পচা মার্কা গাড়ি নিয়ে আসছে!’

সেই যে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু, এরপর ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কতবার ভেবেছি, অভিনয় ছেড়ে দিয়ে হয়তো বিদেশ চলে যাব। এ টি এম শামসুজ্জামান আর আহমেদ জামান চৌধুরী—এই দুজন আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন তখন। বলেছেন, ‘এত দিন যখন কষ্ট করলা, আর দুটা বছর করো। তারপর না হয়...।’ আসলে সেই দুই বছরের মধ্যেই আমার সব ছবি সুপার-ডুপার হিট হলো। আমি যথাযোগ্য পারিশ্রমিক পেতে শুরু করলাম। এরপর ১৯৮৮ সালে যখন অসুখে পড়লাম, ইন্ডাস্ট্রিও বুঝতে পারল, আমার জায়গাটা কোথায়।

 

কী হয়েছিল তখন?

একের পর এক চলচ্চিত্রে একটানা অভিনয় করছিলাম। টাইফয়েড হলেও প্যারাসিটামল খেয়ে সামাল দিচ্ছিলাম। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় হচ্ছিল না। এরই মধ্যে ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার এক হাতের শিরা ছিঁড়ে গেল, এক পা ভেঙে তিন টুকরা হয়ে গেল। ডাক্তাররা বললেন, হাত-পা কেটে না ফেললে বাঁচানো যাবে না। আমার স্ত্রী তখন বাধা দিল। বলল, ‘আমার স্বামীকে তাঁর হাত-পা কেটে ভালো করার দরকার নাই। যদি এমনি ভালো করা যায়, তাহলে ভালো। মারা গেলে যাবে। একজন শিল্পী হাত নাই, পা নাই, কাজকর্ম নাই—এ রকম পঙ্গু অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে না। ওর এই কষ্ট দেখে আমি বাঁচতে পারব না।’ তখন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সস্ত্রীক আমাকে দেখতে এলেন। আমার দ্রুত সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। চিকিত্সা খরচ দিয়েছিলেন প্রযোজকরা। পরে তাঁদের দেনা আমি মিটিয়ে দিয়েছি। সেই দুঃসময়েই অনুভব করলাম, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আমাকে রাস্তায় নামতে হবে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর কাজের চাপে সেই সময় ও সুযোগ পাইনি। হয়তো এ কারণেই সৃষ্টিকর্তা এভাবে আমার স্ত্রীকে কেড়ে নিয়ে আমাকে রাস্তায় নামিয়েছিলেন!

 

স্ত্রী বিয়োগের দিনটি...

২২ অক্টোবর ১৯৯৩। বান্দরবানে শুটিং করছি। হঠাৎ সূর্যটা মেঘে ঢেকে গেল। টাওয়ারের কাছে একটা টেলিফোন ছিল। ঠিক ওই সময়েই ফোন এলো। আমার বুকের মধ্যে খচ করে উঠল। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হলো, ‘আপনার ফ্যামিলি আসার কথা ছিল। একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। চিন্তা করবেন না। আপনি শুটিং প্যাক-আপ করে হাসপাতালে চলে আসেন।’ হোটেলে ফিরে আমি আসরের নামাজ পড়লাম। রাস্তায় মাগরিবের নামাজ পড়তে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তখনই চোখে পড়ল গাড়িটা। আমাদের বাচ্চা দুটি (ইসরাত জাহান ইমা ও মিরাজুল মঈন জয়) কান্নাকাটি করছে। এ টি এম ভাই ওখানেই ছিলেন; তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘জাহানারা কোথায়...।’ (এই পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ায় ইলিয়াস কাঞ্চন আর কিছু বলেননি।)

 

কোন চরিত্রে অভিনয় করে তৃপ্তি পেয়েছেন?

কিছু কিছু ছবিতে নিজেকে বদলাতে হয়েছে। আমার প্রডাকশন হাউসের ‘মাটির কসম’ ছবিতে লাঠিয়াল চরিত্রে অভিনয় করেছি। ফলে মাসল বাড়াতে হয়েছে আমাকে। খালি গায়ে অভিনয় করতে হয়েছে; অন্যদিকে বয়সে বড় হলেও মানসিক বিকাশ হয়নি—‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’ ছবিতে এমন চরিত্রে অভিনয় করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই ছবি না করলে আমি বাচ্চাদের ক্যারেক্টার বুঝতে পারতাম না।

 

‘বেদের মেয়ে জোছনা’র স্মৃতি?

এই ছবির নায়ক আমার হওয়ার কথা না। যেমনটা বলেছি, সেই সময়ে ব্যস্ততার কারণে ডাক্তার দেখানোরও সময় পেতাম না। ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র নায়ক হিসেবে এরই মধ্যে সাত্তার চুক্তিবদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমাকে ছাড়া ছবি করতে রাজি হচ্ছিলেন না পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুল। তিনি অগ্রজ পরিচালক দারাশিকোকে ধরলেন। আমার তো শিডিউল নেই। দারা ভাইয়ের কথায়, নিজের প্রযোজিত একটি চলচ্চিত্রের শিডিউল থেকে সময় দিয়ে এই ছবিতে কাজ করেছিলাম।

 

আপনার ব্যক্তিগত জীবন...

জাহানারার সঙ্গে আমার বিয়েটা পারিবারিকভাবে ঠিক হয়ে ছিল। দাদিও চাইতেন যেন কোনো চাচাতো বোনকে বিয়ে করি। তত দিনে আমি নায়ক হয়ে গেছি। তবু দ্বিধায় ছিলাম, আমাকে নিয়ে সে কী ভাবে? আমি যেহেতু ওদের বাসায়ই থাকি, তাই প্রতিদিন দেখা হলেও কেমন যেন লজ্জা লাগত। সরাসরি কিছু বলিনি। একদিন ওর কাছ থেকে একটা চিঠি পেলাম। কিন্তু কিভাবে পড়ব, কোথায় পড়ব এই চিঠি? একটা খাতার ভেতর চিঠিটা নিয়ে, রিকশা ভাড়া করে, লুকিয়ে লুকিয়ে পড়লাম; তবু মনে হচ্ছিল কেউ যেন দেখে ফেলছে! পরিবারে আমার ওপর ছিল অগাধ বিশ্বাস। জানতাম, বিশ্বাস ভঙ্গ করা যাবে না। এর আগেও কয়েকটা প্রেমে পড়েছি। তবে যখন দেখতাম অপরপক্ষ বেশি অ্যাগ্রেসিভ, তখন ভয় পেয়ে যেতাম! তবে বই পড়ার কারণে, বিশেষত শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প-উপন্যাস পড়ে মনে হতো, আমার স্ত্রীও নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আমার কথা ভাববে। বাসায় ফিরে তাকেই প্রথম দেখতে চাই। জাহানারা ছিল ঠিক সে রকমই। ১৯৭৮ সালের ২২ জুলাই বিয়ে হয় আমাদের; সংসার শুরু করি আগস্টে। সত্যি কথা বলতে কি, বিয়ের পরই আমাদের প্রেম হয়েছে। দুজন যখন কাছাকাছি এসেছি, তখন আসল ভালোবাসা হয়েছে। দুজন দুজনাকে এত ভালোবাসতে পারে—সেটা আমার আগে জানা ছিল না।

 

দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন...

জাহানারার মৃত্যুর অনেক দিন পর দ্বিতীয় বিয়ে করি চিত্রনায়িকা দিতিকে। তাঁরও সেটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের ঘরে তাঁর এক ছেলে-এক মেয়ে আছে। দিতি এখন আর বেঁচে নেই। তবে তাঁর সন্তানদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে।

 

একাই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন, এখন কী পর্যায়ে রয়েছে?

১৯৯৩ সালে আমি যখন আন্দোলনটা শুরু করি, তখন মানুষ ভাবতেও পারত না সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। একা শুরু করলেও আমি এখন আর একা নই। অনেকেই কাজে নেমেছেন। সরকারও সেটা বুঝেছে। ২২ অক্টোবরকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। নিরাপদ সড়কের জন্য সরকার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা সম্পাদন করতে পারলে ৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা কমে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

এই আন্দোলনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিশ্চয়ই রয়েছে?

যেমনটা বলেছি, আমার এই আন্দোলনটি চালু করার পথ সৃষ্টিকর্তা তৈরি করে দিয়েছেন। তাই আমার এই পথটি খুব স্ট্রং। এ কারণে প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী হলেও, বিভিন্ন সময়ে নানা হুমকি-ধমকি দিলেও তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। আমার তো আসলে বেঁচে থাকার কথা না! তবে আমাকে সরিয়ে দেবে, এমন সাহসও কেউ করতে পারেনি। এত হুমকি পেয়েও আমি কোনো দিন পিছপা হইনি, ঘাবড়ে যাইনি। তবে এখন মাঝেমধ্যে একটু ভয় ভয় লাগে!

 

আপনার ব্যস্ততা...

ভেবেছিলাম চলচ্চিত্রে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার পর ব্যস্ততা হয়তো কমবে; কিন্তু তা নয়। এখন এই আন্দোলন নিয়ে আরো বেশি ব্যস্ত সময় কাটছে। প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলতে অনেক মানুষ আসে। তাঁদের সান্ত্বনা দিতে হয়, পরামর্শও দিতে হয়। সংগঠনের কাজও করতে হয়। তা ছাড়া আমার একটা ইনস্টিটিউশন আছে, সেখানে শিক্ষিত বেকারদের গাড়িচালক হিসেবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের স্কুল প্রগ্রাম আছে, যেখানে শিক্ষকদের এসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিই। অন্যদিকে আশুলিয়া বেড়িবাঁধের কাছে আমার একটা জায়গা আছে। সেখানে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিত্সার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি।

শ্রুতলিখন : মাসুদ রানা আশিক

(কাকরাইল, ঢাকা; ১ জুলাই ২০১৯)

 

মন্তব্য