kalerkantho


‘কালো মেয়েকে কিভাবে বিয়ে দেবেন’

রোকেয়া কবীর। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর সাহসী ছাত্রনেতা ও সংগঠক। স্বাধীন দেশে নারীর অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অগ্রযোদ্ধা। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রুদ্র আরিফ। ছবি তুলেছেন কাকলী প্রধান

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘কালো মেয়েকে কিভাবে বিয়ে দেবেন’

শৈশব-কৈশোর থেকেই তো বামপন্থী নেতাদের সান্নিধ্য পেয়েছেন?

আমাদের বাড়ি ছিল নেত্রকোনা শহরের বাইরে, একেবারে গ্রামীণ পরিবেশে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মগরা নদী। নৌকা দিয়ে নদী পার হতে হতো। আমরা ছিলাম ৯ ভাই-বোন। আমার অবস্থান ষষ্ঠ। মেজো ভাই মুর্তুজা খান ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়ে থেকেই কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত। সেই হিসেবে মণি সিংহসহ অনেক বামপন্থী নেতাই আমাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। কখনো কখনো সভা হতো। অন্যদিকে সুভাষ বসুর রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন আমার চাচা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মিয়ানমারে গিয়ে সুভাষ বসুর আর্মির সদস্য হয়েছিলেন। আমি তখন এসব কিছুই বুঝতাম না। বাড়িতে আর্মির একটি বড় কোট ছিল; শীতের দিনে সেই কোটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে রাখতে আমার খুব মজা লাগত। এই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে।

আমার বাবা যদিও ৪৭-এর দেশভাগের আগে কংগ্রেস করতেন; তবে পাকিস্তান হওয়ার পর আর রাজনীতি করেননি। তাঁর একটাই কথা ছিল—লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে।

আপনার মনে রাজনৈতিক চেতনা গড়ে ওঠে কিভাবে?

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন আমি দেখেছি; তবে তেমন কিছুই বুঝিনি তখন। শিক্ষককে ক্লাসে রেখে আমরা হৈহৈ করে বের হয়ে এসেছি। তখন সম্ভবত তৃতীয় কি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। ক্লাস হবে না, কোনো শাস্তি হবে না—এই রোমান্টিসিজমটা বেশ উপভোগ করেছি। নেত্রকোনায় সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার একটি প্রভাব ছিল। আমি যুক্ত ছিলাম ‘খেলাঘর’-এর সঙ্গে। মাঝেমধ্যে তাদের অনুষ্ঠানে যেতাম। নেত্রকোনা গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলে আমাদের ইংরেজি পড়াতেন নৃপেন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি পাঠ্যপুস্তকের বাইরে নানা বিষয়ে কথা বলতেন। কখনো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো উপন্যাস, কখনো যাযাবরের ‘দৃষ্টিপাত’-এর নায়কের নাম জিজ্ঞেস করতেন। জবাব বের করার জন্য আমাদের মধ্যে হুড়াহুড়ি পড়ে যেত। তিনি হয়তো দু-এক দিন সময় দিতেন। আমরা তড়িঘড়ি করে সেই বইটি পড়ে প্রস্তুতি নিতাম। আমি যখন ষষ্ঠ কি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি, একদিন তিনি ঐকিক নিয়মের একটি অঙ্ক করতে দিলেন : এক ঘণ্টায় যদি ‘এতজন’ মাঝি একটি নৌকা নিয়ে ‘এত’ মাইল যেতে পারে, সেই দূরত্ব ১০ মিনিটে পাড়ি দিতে চাইলে কতজন মাঝি লাগবে? আমরা মহানন্দে অঙ্ক করে স্যারের কাছে জমা দিলাম। মাঝির সংখ্যা অনেক হয়ে গেল। আমরা তো বেজায় খুশি, ঐকিক নিয়মের অঙ্ক পেরেছি। তখন তিনি বললেন, ‘তোরা কি জিজ্ঞেস করেছিলি নৌকাটা কত বড়? এতজন মাঝি এই নৌকায় ধরবে কি না?’ আমরা এবার নৌকাটা ততটুকু বড় করে দিলাম, যতটুকু করলে তাতে ততজন মাঝি আঁটবে! তখন তিনি বললেন, ‘আচ্ছা তোরা যে নৌকা বড় করে দিলি, জিজ্ঞেস করেছিলি এটা কোথায় চলবে—খালে নাকি নদীতে? ছোট নাকি বড় নদীতে? সেখানে স্রোত আছে কি নেই? স্রোতের দিকে নাকি স্রোতের বিপরীতে যাবে?’ কনটেক্সট বোঝার বিষয়টি, চিন্তা করার বিষয়টি তিনি কিন্তু এই এক অঙ্ক দিয়েই আমাদের মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে আমাদের অঙ্ক শিক্ষকের নাম ছিল কমলাকান্ত। সুদের অঙ্ক কষার সময় তিনি বলতেন, ‘তোদেরকে এই বয়সেই আমরা সুদ-ব্যবসা শিখিয়ে দিচ্ছি!’ কিংবা দুধের সঙ্গে কতটুকু পানি মিশালে কত লাভ হবে—এমন অঙ্ক কষার সময় বলতেন, ‘তোদেরকে আমরা দুর্নীতি করার পথ শিখিয়ে দিচ্ছি।’ স্কুলের এই শিক্ষকরা যখন এভাবে কথাগুলো বলতেন, তখন আমাদের চিন্তার মধ্যে একটা অভিঘাত তৈরি হয়ে যেত।

অন্যদিকে হরিশংকর চৌধুরী নামের একজন শিক্ষক ছিলেন। ম্যাট্রিক পরীক্ষার আগে তাঁর কাছে অঙ্ক ও ইংরেজি প্রাইভেট পড়েছি। অনেক কমিউনিস্ট নেতাকর্মী তাঁর কাছে আসতেন। আমাদের পাশে রেখেই তিনি তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন। আমি মন দিয়ে শুনতাম। মার্ক্সবাদের প্রাথমিক শিক্ষা আমি তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছি।

সক্রিয় রাজনীতিতে জড়ালেন কখন?

১৯৬৭ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর আমি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসি। ভর্তি হই গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে (বর্তমানে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ)। যেহেতু আমার ভাইয়েরা কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গী-সাথিদের সঙ্গে মিশতে মিশতে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ছাত্র ইউনিয়নের অফিস ছিল আমাদের কলেজের পেছনে, হোসেনি দালানে। কলেজ শেষে সেখানে যেতাম। তারপর হেঁটে হোস্টেলে ফিরতাম। আমাদের কলেজটি তখন ইডেন কলেজের অধিভুক্ত ছিল; তাই হোস্টেল ছিল ইডেন কলেজের লাগোয়া। হোস্টেলে ছাত্রীদের সংগঠিত করার দায়িত্ব ছিল আমার। তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে হোস্টেল সুপার হালিমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতাম। তিনি ছিলেন পাকিস্তানপন্থী। আমাদের রাজনীতি করা তাঁর পছন্দ ছিল না। খুব কড়াকড়ির মধ্যে রাখতে চাইতেন।

তখন আপনি নেতৃত্ব পর্যায়ে ছিলেন?

তখন আমি কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। সে বছর কলেজের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হই। নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ বাকি পুরো প্যানেলে জয়লাভ করলেও ছাত্র ইউনিয়ন থেকে শুধু এই একটি পদেই আমরা জিতেছিলাম। শেখ হাসিনা ভিপি হয়েছিলেন। আমি অবশ্য নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসে হাজির হতে পারিনি। কেননা, কর্তৃপক্ষ আমাকে হোস্টেলরুমে তালাবন্দি করে রেখেছিল। আসলে বিভিন্ন অধিকার আদায়ের প্রশ্নে সব সময় ছাত্রীদের পাশে থাকতাম, তাদের সংগঠিত করতাম বলে হোস্টেল সুপার আমাকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। রাজনীতি করার কারণে দুইবার শোকজও করা হয় আমাকে। এর মধ্যে ১৯৬৭ সালেই কড়া ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, একুশে ফেব্রুয়ারিতে কলেজ থেকে কোনো ছাত্রীকে শহীদ মিনারে যেতে দেওয়া হবে না। আমরা তখনই প্রতিবাদ জানাই। দাবি তুলি, যদি শহীদ মিনারে যেতে দেওয়া না হয়, তাহলে যেন কলেজেই শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। সে দাবি মানা হলো না। কলেজ ছাত্রীসংসদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কলেজে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে। ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির আর্কিটেক্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সহযোগিতায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের বেলা আমরা ক্যাম্পাসের মধ্যেই শহীদ মিনার বানিয়ে ফেললাম। সকালবেলা সেই শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানালাম। অবশ্য পরদিন কলেজ কর্তৃপক্ষ সেটি ভেঙে ফেলেছিল। তবে আন্দোলন তত দিনে প্রবল হয়ে উঠেছিল।

জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কেমন ছিল?

কমরেড মণি সিংহ ও কমরেড ফরহাদ তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে। বিশেষ কোনো মিটিং হলে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতাম। সেগুলো ছিল গোপন মিটিং। সবারই ছদ্মনাম ছিল। মণি সিংকে ‘বড় ভাই’ বলে ডাকা হতো। কমরেড ফরহাদ ছোটখাটো মানুষ ছিলেন বলে তাঁকে ডাকা হতো ‘ছোট লোক’! এ ছাড়া রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন থেকে শুরু করে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তার পর ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর সরদার ফজলুল করিম, আবদুর রাজ্জাক, মুজাফ্ফর আহমদ চৌধুরীর মতো শিক্ষকদের আমরা পেয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ড কী ছিল?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ছাত্র ইউনিয়নের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হলাম; এমনকি হলের ছাত্রীদের কমিউনিস্ট পার্টির যে সেল ছিল, সেটিরও সেক্রেটারি ছিলাম আমি। এর বাইরে, আমাকে সংগ্রাম কমিটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতাম। ফলে খুব একটা ক্লাস করতে পারতাম না। পরীক্ষার এক মাস আগে পার্টি থেকে ছুটি পেতাম। এর মধ্যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নেত্রকোনায় পার্টির হয়ে ‘কুঁড়েঘর’ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়েছি। মনে পড়ে, অনার্স পরীক্ষার আগে টিউটরিয়ালের জন্য এক শিক্ষকের কাছে গিয়েছিলাম। আমাকে দেখেই তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, সে জানি; কিন্তু তুমি যে আমার ছাত্রী—তা তো জানতাম না। তোমাকে কখনোই ক্লাসে দেখিনি!’

মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য—এটা কখন উপলব্ধি করলেন?

আমাদের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন, বিশ্ব শান্তি আন্দোলনসহ পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের যোগাযোগ ছিল। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও কমিউনিস্ট নেতাদের পারস্পরিক যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন—সব মিলিয়ে আমাদের নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তান আর্মিকে যেহেতু আমেরিকা সমর্থন দিচ্ছে, ফলে মিলিটারি শাসকরা সহজেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। আমরা কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্রসংগঠনের সদস্য হিসেবে এসব তথ্য ও আলাপ-আলোচনা সম্পর্কে অবগত ছিলাম। ফলে ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসেই আমরা যুদ্ধের একটা আভাস পেয়েছিলাম।

যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আপনি তো সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

আমার বড়ভাই গোলাম মোস্তফা কাজ করতেন পরমাণু শক্তি কমিশনে; থাকতেন কলাবাগানে। বাবা আমার খরচের টাকা তাঁর কাছেই পাঠাতেন। পহেলা মার্চ দুপুরবেলা আমি তাঁর বাসা থেকে সেই টাকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলাম। আমার রিকশাটি যখন হকার্স মার্কেটের সামনে, সে সময়ে রেডিওতে ঘোষণা করা হলো, সংসদ অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। মুহূর্তেই সব কাজকর্ম থামিয়ে, সারা শহরের মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে এলো। যেহেতু আমি ভালো স্লোগান দিতাম, মিছিলের সামনে থাকতাম সব সময়, কৃষক আন্দোলন-শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রাস্তাঘাটে প্রচুর মিটিংও করেছি, ফলে হকার্স ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ছোট দোকানিদের সংগঠন—সবার কাছেই আমার চেহারা পরিচিত ছিল। আমাকে দেখেই শ্রমিকরা রিকশাটি থামাল। বলল, ‘একটা বক্তৃতা দিন।’ আমি রিকশার ওপর দাঁড়িয়েই বক্তৃতা দিলাম।

তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে জানতে পারলাম, বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলন করছেন হোটেল পূর্বাণীতে; পরে পল্টনে মিটিং করবেন। বিভিন্ন দিক থেকে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে এলো। আমরা ছাত্ররা মিছিল নিয়ে পল্টন ময়দানে গেলাম। সেদিনই সন্ধ্যাবেলা পার্টির মিটিংয়ে জানানো হলো, সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। তবে রাজনৈতিক কৌশলের কারণে সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রামের কথা তখন বলা যাচ্ছিল না। তাই ডামি রাইফেল নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে প্রশিক্ষণ শুরু করি আমরা। এর অংশ হিসেবে মার্চপাস্টও করি, যেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আমরা প্রশিক্ষণ নিতাম। সারা দেশে ছাত্র ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন ও অন্যদের মধ্যে এই প্রশিক্ষণগুলো চলেছে।

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা যদি বলতেন?

পার্টির নির্দেশ পেয়ে ১৪ মার্চ আমরা হল ত্যাগ করি। ২৫ মার্চ আমি ছিলাম কলাবাগানে, ভাইয়ের বাসায়। সারা দিন মিছিল-মিটিং করে, সন্ধ্যায় নানা জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় বাসায় ফিরলাম। রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ পেলাম। ২৭ মার্চ কিছু সময়ের কারফিউ স্থগিত করা হলে আমি ও আমার বড় বোন মনিরা আক্তার খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলাম। আমাদের হলে ঢুকতে দেওয়া হলো না। দারোয়ান জানালেন, হলের ভেতর বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে। অন্যদিকে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলটি ছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি কেন্দ্র। সেখানে যাওয়ার পর বলা হলো, আমাদের এ এলাকায় থাকা নিরাপদ হবে না। কী করতে হবে—যথাসময়ে সে খবর পাঠানো হবে। ২৮ তারিখ জানানো হলো, ভাইয়ের বাসা ছেড়ে দিতে হবে। পরের দিন কলাবাগানেরই আরেকটি বাসায়, যেখানে আমার মেজো ভাইয়ের বন্ধু সাইফ উদ দৌলা (টুনু) ও তাঁর স্ত্রী ডা. নারগিস—তাঁদের বাসায় আশ্রয় নিলাম। পরের রাতে আমাকে নিয়ে রাখা হলো আরেক বাসায়। যেহেতু রাইফেল কাঁধে আমার ছবি গণমাধ্যমে এত বেশি প্রচারিত হয়েছে, তাই আমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন সবাই। ফলে একেক দিন একেক বাসায় রাত কাটাতাম আমি। এ ব্যবস্থা ডা. নারগিসই করে দিতেন।

ঢাকা ছাড়লেন কবে?

৩০ মার্চ ঢাকা ছেড়ে, পায়ে হেঁটে, নানা পথ ঘুরে ১ এপ্রিল আমরা গাজীপুরের কাপাসিয়ার পিরোজপুর গ্রামে পৌঁছলাম। সেখানে মতিউর রহমানের (প্রথম আলো সম্পাদক) নানাবাড়ি। সেটিই আমাদের আশ্রয়স্থল। আমাদের সঙ্গে ছিলেন মতিয়া চৌধুরী (বর্তমানে কৃষিমন্ত্রী), সাংবাদিক বজলুর রহমান (সংবাদের প্রয়াত সম্পাদক), ডা. সারওয়ার আলী (মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি), তাঁর স্ত্রী ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না, মতিউর রহমানসহ কয়েকজন। বাকি সবাই কিছুদিন পর সে বাড়ি ছেড়ে গেলেও, আমার বড় বোনের পক্স হওয়ায় তাঁকে একা রেখে আমি যেতে পারিনি। অবশ্য ডা. সারওয়ার আলী আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র জোগাড় করে দিয়ে গিয়েছিলেন। ছয়-সাত দিন পর আমারও পক্স হলো। আমার বড় বোনের শরীর তখন খুব খারাপ; তাই তাঁকে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হলো। আমি তখন সেই বাড়িতে একাই রয়ে গেলাম। এর ৮-১০ দিন পর লতিফ বাওয়ানী জুটমিলের শ্রমিক নেতা এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডেন্ট সহিদুল্লাহ চৌধুরী এলেন। তাঁকে একটি ছোট্ট চিরকুট দিয়ে পাঠিয়েছিলেন ঢাকা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক জ্ঞান চক্রবর্তী। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সহিদুল্লাহর সঙ্গে চলে এসো।’ সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে, বেশির ভাগ রাস্তা হেঁটে, ৬ মে ভারতের আগরতলায় পৌঁছলাম।

কেমন ছিল আগরতলার দিনগুলো?

আগরতলায় আমাদের ক্যাম্পের ইনচার্জ ছিলেন জ্ঞান চক্রবর্তী। আমি তাঁর প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করতে থাকলাম। পলিটিক্যাল ওরিয়েন্টেশন, ক্যাম্প ম্যানেজমেন্টসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার কাজে নিয়োজিত করলাম নিজেকে। ক্যাম্পে আমাদের কক্ষটির মেঝেতে একপাশে মতিয়া চৌধুরী, আরেক পাশে আয়েশা খানম (বর্তমানে মহিলা পরিষদের সভাপতি), আর মাঝখানে আমি—এভাবে ঘুমাতাম। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এক দিন পাকিস্তানিদের কামানের গোলা এসে পড়ল শহরে। বারান্দায় বসে থাকা এক নিরীহ লোক সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। তারপর ক্যাম্পটিকে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো।

মুক্তিযোদ্ধারা যখন ক্যাম্প থেকে প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ করতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁদের সব জিনিসপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যেতে হতো। ১১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার একই বিভাগের সহপাঠী নিজাম উদ্দিন আজাদ এমন এক অভিযানে যাওয়ার আগে, আমার কাছ থেকে গেরিলা যুদ্ধ বিষয়ে লেখা জেনারেল গিয়াপের বইটি চেয়ে নিলেন। বললেন, ‘আমরা যারা দেশে ঢুকে গেরিলা যুদ্ধ করব—এ বইটি তো আমাদেরই বেশি দরকার। দেশ স্বাধীন হলে ঢাকায় যখন আবার দেখা হবে, তখন ফেরত দেব।’ আর দেখা হয়নি! সে রাতেই খবর এলো, সম্মুখযুদ্ধে দলবলসহ তিনি শহীদ হয়েছেন। এটি ‘বেতিয়ারা শহীদ দিবস’ হিসেবে পরিচিত। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বেতিয়ারায় সেদিন আজাদ ছাড়াও শহীদ হয়েছিলেন মো. সিরাজুম মুনীর জাহাঙ্গীর, বশিরুল ইসলাম মাস্টার, শহীদুল্লাহ সাউদ, আওলাদ হোসেন, দুদু মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, আবদুল কাদের ও মোহাম্মদ শফিউল্লাহ—৯ তরুণ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা।

দেশে ফিরলেন কবে?

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে ত্রিপুরা সরকার ও সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টির অফিস থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর আমরা নিয়মিত পেতাম। মনে পড়ে, যেদিন বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পা রাখছি, সীমান্ত পার হওয়া মাত্রই থমকে দাঁড়িয়ে, ফিরে তাকিয়ে ভেবেছিলাম, ভিয়েতনাম যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলছে (১৯৫৫-১৯৭৫), একদিকে সাধারণ জনগোষ্ঠী অন্যদিকে প্রশিক্ষিত সৈন্য বাহিনী—বাংলাদেশের এই অসম যুদ্ধ যে কত দিন ধরে চলবে! অন্যদিকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের কারণে নিজ ভূমি ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষগুলো কোনো দিনই ফিরতে পারেনি; আমিও হয়তো ফিরতে পারব না আর। মা-বাবার কণ্ঠ আর কোনো দিন শুনতে পাব কি না, বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ফিরতে পারব কি না, আমার স্কুলপড়ুয়া ছোট যে দুটি ভাই—ওদের কোনো দিন দেখতে পাব কি না—এই অনুভূতি ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন। তাই দেশ স্বাধীন হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা আগরতলার লোকজনসহ সবাই একসঙ্গে রাস্তায় বের হয়ে এসেছিলাম। আর আমি দেশে ফিরলাম ২৪ ডিসেম্বর।

স্বাধীন দেশে আপনার কর্মকাণ্ড কী ছিল?

১৯৭২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ ও হলগুলোর নির্বাচন হয়। আমি তখন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। রোকেয়া হলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হলাম। আমার মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরদিন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫, বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর যাওয়ার কথা। পরীক্ষার পাশাপাশি এ নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা; কিন্তু তিনি সেদিনই সপরিবারে নিহত হন। আমাদের হলের প্রভোস্ট ছিলেন ড. নীলিমা ইব্রাহিম। তাঁর রুমে রেডিও ছিল। আমি থাকতাম দোতলায়, ১১ নম্বর রুমে। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার খবরটি জানা মাত্রই সেই ভোর রাতে তিনি ছাত্রসংসদের পিয়নকে দিয়ে আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি আসার পর বললেন, ‘আমি খবর না দেওয়া পর্যন্ত তুমি রুম থেকে বের হবে না।’ সেদিন সকাল ১০টার দিকে আর্মি ট্যাংক এসে থামল হলের সামনে। সম্পূর্ণ কালো পোশাক পরা কয়েকজন আর্মি অফিসার এসে হলের ভিপি-জিএস ও অন্য ছাত্রীদের ডেকে আনার নির্দেশ দিল। প্রভোস্ট যেহেতু জানতেন, আমি ক্ষেপে গেলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা ভাবি না; তাই তাঁর পাঠানো খবর পেয়ে যখন নিচে নামলাম, তিনি আমাকে হাতের ইশারায় তাঁর পেছনে এনে দাঁড় করালেন। ফিসফিস করে বললেন, ‘তুমি একদম চুপ থাকবে।’ ‘জালেমের হাত থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে’—এ ধরনের কথা বলে বক্তৃতা দিল আর্মি অফিসাররা। তখন শুধুই মনে হচ্ছিল, আমার হাতে যদি একটামাত্র অস্ত্র থাকত! কেন যে ১৯৭২ সালে অস্ত্র সমর্পণ করেছিলাম! এরপর আমি এক ধরনের আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলাম। দিনের বেলা কিছুটা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও রাতে একেক দিন একেকজনের বাসায় লুকিয়ে থাকতাম। তখন যেহেতু রাজনীতি করা যাচ্ছিল না, আমি চাকরি খুঁজতে শুরু করলাম।

চাকরি পেলেন?

১৯৭৫ সালের নভেম্বরে আমি ওয়ার্ল্ড ফার্টিলিটি সার্ভের ছয় মাস মেয়াদি একটি প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহের কাজে যোগ দিই। এরপর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে (বিআইডিএস) তিন বছর মেয়াদি আরেকটি প্রকল্পে কাজ শুরু করি। এই দুটি প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে গ্রামের নারীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পাই। এরপর স্থায়ী চাকুরে হিসেবে যোগ দিই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে। এখানে আমাকে ট্রান্সপোর্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে ডেপুটি ডিরেক্টর পদে দায়িত্বরত অবস্থায় মনে হলো, এখানে কাজ করে আসলে কেরানী হয়ে যাচ্ছি! আমার বুদ্ধিবৃত্তিক মেধা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই নারীদের অবস্থার উন্নতি ঘটানোর ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখতে পারি কি না—সেই ভাবনা থেকে চাকরি ছেড়ে ‘বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ’ গড়ে তুলি।

এ ক্ষেত্রে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে কোন ভাবনা?

সবাই বলত, ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। শুনতে খারাপ লাগত। মা-বোনের ইজ্জত যাবে কেন? আমি নিজেই তো দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধে মেয়েরা অনেক ভূমিকা রেখেছে। আসলে প্রথম চাকরিতে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর দিনগুলোতে একান্তই নিজের আগ্রহ থেকে আমি নারীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা শুনতে চেয়েছি। জেনেছি, নারীরা শুধু নির্যাতনের শিকারই হয়নি, বরং যুদ্ধে সক্রিয়ও ছিল। ফলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর, নিজের ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে, নারীদের সংগঠিত করার উদ্যোগটি হাতে নিই। এ সময়ে উদীচীর সোহরাব উদ্দিনকে মূল দায়িত্ব দিয়ে তাঁর সহায়তায় সারা দেশ থেকে এসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করি। তখন গোবরা ক্যাম্প ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নারীদের সংবর্ধনা দিলাম ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬। এটিই বাংলাদেশে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা জানানোর ঘটনা। ১৯৯৮ সালে আমরা আবার সংবর্ধনা দিই পূর্ব-রণাঙ্গনে সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা নারীদের। এ ছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত ১০০ জন করে নারীর সাক্ষাত্কার নিয়ে ‘সংগ্রামী নারী যুগে যুগে’ শিরোনামে দুই খণ্ড আকর গ্রন্থও প্রকাশ করেছি।

আপনাদের সংগঠনের মূলমন্ত্র কী ছিল?

পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই মূলমন্ত্র। এরই অংশ ছিল নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ।

দেশে এখন অনেক সংস্থাই নারীর অবস্থান উন্নয়নে কাজ করছে। সামগ্রিকভাবে কতটুকু সফল হতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

নারীদের অগ্রগতি তো অবশ্যই হয়েছে। আগে নারী নির্যাতনকে পারিবারিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা হতো; এখন এটিকে আইনগতভাবে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। এখন শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসাসহ নানা ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। আমার মতে, বিভিন্ন কুসংস্কার ও প্রথা সম্পর্কে হাজার বছরের প্রচলিত ধারণা বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ সংগঠনগুলো সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। আমরা, সব সংগঠন একত্র হয়ে ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি’ তৈরি করতে পেরেছি। জাতীয় অর্থনীতিতে ‘জেন্ডার বাজেট’ বিষয়টি নিয়েও আমরা সোচ্চার।

শৈশব থেকে আজকের আপনি—নিজের সারসংক্ষেপ কিভাবে করবেন?

আমি মূলত প্রচারবিমুখ মানুষ। অবিরাম কাজ করে যেতে পছন্দ করি। ভাই-বোনদের মধ্যে আমার আর ছোট ভাইয়ের গায়ের রং কালো। ছোটবেলায় অনেকেই মাকে কথা শোনাত, ‘কালো মেয়েকে কিভাবে বিয়ে দেবেন?’ বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। তাঁর সামনে কেউ এমন কথা বলার সাহস পেত না। মা জবাব দিতেন, ‘ও লেখাপড়ায় ভালো, নিজের পায়ে দাঁড়াবে।’ এ বিষয়টি আমার মনে শৈশবেই ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে দিয়েছিল। এটিই চলার পথে আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা ও সাহস জোগায়।

শ্রুতলিখন : গোলাম কিবরিয়া

(২৭ আগস্ট ২০১৮; মোহাম্মদপুর, ঢাকা)



মন্তব্য