kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

উজ্জ্বল মুখ

শিমুল চৌধুরী   

৫ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উজ্জ্বল মুখ

আমিনুল হক

ভোলার কৃতী সন্তান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় দলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের কারণে পেয়েছেন বীরবিক্রম উপাধি। ১৯৮০ সালে পান জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারও। মাঠের হাফিজ উদ্দিনের মতো সুনাম আছে মাঠের বাইরেও। মোহামেডানের 'কড়া' ম্যানেজার হিসেবে এখনো তাঁর নাম ফেরে বাদল, সালাম, এনায়েতের মতো তারকাদের মুখে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্যও ছিলেন হাফিজ উদ্দিন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়া ও শাস্তির প্রক্রিয়া করেছিল এই কমিটিই।

বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র এস এম গজনবীও এই জেলার। স্বাধীন বাংলা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন গজনবী। খেলা ছাড়ার পর জড়িয়েছিলেন মোহামেডানের সঙ্গে। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির ফুটবলের ব্যাপারগুলো দেখতেন তিনিই। খেলার মানুষ ছিলেন বলে তাঁর সময়ে মোহামেডান পরিচালিত হতো খেলাকে কেন্দ্র করেই। প্রয়াত এই ফুটবলারের নামে ভোলা জেলায় আছে দুটো স্টেডিয়াম।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হকও ভোলার। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের পর ২০০০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত খেলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধায়। খেলেছেন বাংলাদেশের নামকড়া প্রায় সব ক্লাবেই। জাতীয় দল থেকে অবসরের পরও কিছু দিন চালিয়ে গেছেন ক্লাব ফুটবল। ২০০৩, ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে বড় ধরনের চোট না পেলে ক্যারিয়ারটা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারত আমিনুলের। ক্লাব ফুটবল ছাড়ার পর নেমেছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়। সে সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন রাজনীতির মাঠেও। যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম 'টাইব্রেকার' নামে একটি নাটকে অভিনয়ও করেছেন। সেখানেও তাঁর চরিত্রটি গোলরক্ষকের। এ বছরের এপ্রিলে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল ভোলার দৌলতখানের রাধাবল্লভ বাজারের ১০টি দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের আর্থিক সাহায্য করেছিলেন আমিনুল ইসলাম।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা মোশাররফ হোসেন টুটুলও ভোলার কৃতী ফুটবলার। শেরে বাংলা কাপে একবার শিরোপা জেতার গর্ব আছে ভোলার। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন টুটুল। ঢাকা ওয়ারী ক্লাবে ক্যারিয়ার শুরু করা টুটুল খেলেছেন আবাহনী, ব্রাদার্স ও পরে অগ্রণী ব্যাংকের মতো ক্লাবে খেলেছিলেন। ঢাকা লিগে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন একবার। ২০০৪ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার মহাখালী ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় টুটুলের। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে বাংলাদেশ ফুটবলে।

সোনা খাঁটি হয় পুড়ে পুড়ে। আবু সায়েম চৌধুরীও তাই। ভোলার একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সুযোগ পেয়েছিলেন জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। সেখানেও পৌঁছেছেন ধাপে ধাপে পরীক্ষায় উতরে। অনূর্ধ্ব ১৬ আর ১৭ দলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই জায়গা করে নিয়েছিলেন অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। ইংল্যান্ড সফরে মেলে ধরেছিলেন নিজেকে। ভালো করেছেন শেখ জামালের হয়েও। এই কৃতিত্বটা তিনি দিলেন জেলা দলের কোচ নজরুল হুদা গোফরানকে, 'বিকেএসপির মতো প্রতিষ্ঠানে নয়, আমার ক্রিকেটের সব কিছুই গোফরান স্যারের হাত ধরে। ভোলার মতো প্রত্যন্ত জেলা থেকে এই পর্যায়ে এসেছি তাঁর কল্যাণে। তবে থামতে চাই না এখানেই।' সায়েমের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের ক্যাম্পে নজরুল হুদা গোফরানের ১৩ জন ছাত্র সুযোগ পেয়েছেন ইতিমধ্যে। আতিকুর রহমান, মাশরুর মাহমুদ, হাফিজুর রহমান, মুস্তাক আহমেদরা তাঁদের অন্যতম। আতিকুর রহমান ঢাকার প্রথম বিভাগে আর হাফিজুর রহমান এখন খেলেন তৃতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে।

 



সাতদিনের সেরা