kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

সঠিক কক্ষেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ

   

২১ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



সঠিক কক্ষেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম। ছবি : শহীদুল হুদা অলক

পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবার কোল ঘেঁষে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সর্বপশ্চিমের জেলা বাংলাদেশের। সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন ছোট সোনা মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি, তোপখানা কিংবা বাবু ডাইং যথেষ্টই টানে পর্যটকদের। সবচেয়ে বেশি টানে আম। এ জন্যই এই জেলার পরিচিতি 'আমের রাজধানী' হিসেবে। বিখ্যাত আমের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জে সব খেলাই হয়তো মিষ্টি নয়। তবে যথেষ্ট সুনাম আছে ফুটবল, জুডো, হ্যান্ডবল, কারাতেতে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সক্রিয় থাকায় বিভিন্ন খেলার লিগগুলোও মাঠে থাকে নিয়মিত। বেশির ভাগ জেলায় স্পনসরের অভাবে খেলা বন্ধের উপক্রম হলেও এখানে সেই সমস্যা নেই। আছে কিউট, লিভার ব্রাদার্সের মতো দুই স্পনসর। তাই জেলা ক্রীড়া সংস্থা ব্যাংকে জমা করতে পেরেছে ৫০ লাখ টাকা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থীদের নিয়েই জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি। বুঝতেই পারছেন, নবাবি হালে না হলেও অন্তত সঠিক কক্ষেই আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গন।

মেয়েদের হ্যান্ডবলে যেমন পঞ্চগড়ের জয়জয়কার, তেমনি ছেলেদের দল কল্পনাই করা যায় না এই জেলার খেলোয়াড়দের ছাড়া। নেপালে খেলতে যাওয়া গত বছরের হ্যান্ডবল দলের পাঁচজনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের। তাঁরা হচ্ছেন সোহাগ হোসেন আরিফ, এবাদ আলি, মুন্সী জিয়াউর রহমান, আরাফাত আলী ও আফ্রিদি। ভালো খেলার সুবাদেই সোহাগ হোসেন আরিফ ও এবাদ আলি চাকরি পেয়েছেন পুলিশে। কিছু দিনের মধ্যে ট্রেনিংও শেষ হবে তাঁদের। এ নিয়ে জাতীয় হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সদস্য শেখ আহসান হাবিব মিন্টু বেশ উৎফুল্ল, 'খুব গরিব ঘরের ছেলে সোহাগ আর এবাদ আলি। ভালো হ্যান্ডবল খেলেই ওরা দুজন সুযোগ পেয়েছে পুলিশে। এই দুজনের মতো সম্ভাবনাময় আরো অনেকে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।'

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হ্যান্ডবলের শুরুটা ১৯৯৬ সালে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল আলম তোফা ও হ্যান্ডবল কোচ আজিজুল হকের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে শুরু হয়েছিল শৌখিন একটি টুর্নামেন্ট। এটা মাঝপথে বন্ধও হয়ে যায় একটা ঝামেলার জন্য। এর পরই জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে চালু হয় লিগ। কিউটের পৃষ্ঠপোষকতায় এই লিগ থেকেই বেরিয়ে আসছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। তবে জাতীয় দলে এখানকার খেলোয়াড়রা অপরিহার্য হলেও জাতীয় পর্যায়ে সেভাবে সাফল্য নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের। পুলিশ বা আনসারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখানকার খেলোয়াড়রা চলে যাওয়াতেই তাঁদের সঙ্গে সেমিফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনালে পেরে ওঠে না চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

হ্যান্ডবলে সাফল্য আছে স্কুল পর্যায়েও। ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমি দুই বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাতীয় ইন্টার স্কুল হ্যান্ডবলে। সে সঙ্গে ফাইনালও খেলেছিল আরো একবার। এই প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়াশিক্ষক মাইনুল ইসলাম অন্যদের সঙ্গে কৃতিত্বটা দিচ্ছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থাকেও, 'আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের সবাই ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করে ভালো করতে। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় অনুশীলনের সুযোগও পায় ওরা। চর্চাটা চালু থাকলে আরো ভালো করব আমরা।'

তবে মেয়েদের হ্যান্ডবল সে তুলনায় এগোয়নি এখানে। তাই বলে মেয়েরা বাঙ্বন্দি হয়ে থাকবে, তা-ও নয়। হ্যান্ডবল দল গড়ার লক্ষ্যে এ বছর ৪৩ জন প্রমীলা খেলোয়াড় নিয়ে হয়ে গেছে বিশেষ ক্যাম্প। সেখান থেকেই খেলোয়াড় বাছাই করে একটা লিগ আয়োজনেরও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

ফুটবলে এই জেলার সুনাম যথেষ্ট। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শেরেবাংলা কাপে পাঁচবার বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ফিরোজ, তোফা, তরিকুল, মজনু, মহিদুলদের কাঁধে ভর করে এই পাঁচবারই পৌঁছেছিল ফাইনালে। শিরোপা হয়তো অধরাই রয়ে গেছে। তবে এমন পারফরম্যান্সে গর্বিত সেই দলের কোচ হুমায়ুন কবির লুকু, 'সে সময় জমকালোই হতো শেরেবাংলা কাপ আর সোহরাওয়ার্দী কাপ। শেরেবাংলা কাপে পাঁচবার ফাইনাল খেলা যেকোনো জেলার জন্যই গর্বের। এ ছাড়া আমরা ১৯৯১ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলাম সোহরাওয়ার্দী কাপে। টুর্নামেন্টগুলো বন্ধ না হলে আরো এগিয়ে যেত আমাদের ফুটবল।' ১৯৯৫ সালের বিমান কাপের বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নও তারা। ডানোন নেশনস কাপের সেমিফাইনালে একবার আর ফাইনালে পৌঁছেছিল একবার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জেতা ড. আ আ ম মেজবাউল হকের নামে স্টেডিয়াম। শহরের রেহাইচর মৌজায় ১০ কোটি টাকায় নির্মিত মেজবাউল হক স্টেডিয়ামের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ২০১১ সালে। তবে খেলার যে প্রসারের উদ্দেশ্যে এটা তৈরি, আসল সেই কাজটাই হয়নি গত চার বছর। উদ্বোধনের পর মাত্র দুটো ক্রিকেট লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। র‌্যাব ৫-এর ক্যাম্প স্থাপনই এর অন্যতম কারণ। জেলা প্রশাসকের কাছে এই ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও বিকল্প জায়গার অভাবে সেটা করা যাচ্ছে না। তাই সেভাবে খেলার কাজে আসছে না এটা।

এই দুটো স্টেডিয়াম নির্মিত হওয়ার আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফুটবল হতো হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেই ১৯৬৪-৬৫ সালেও স্কুলটা ঘিরে ফেলে বিক্রি হতো টিকিট! তার পরও জায়গা সংকুলান হতো না দর্শকদের। সোনালি অতীতের মতো জৌলুস না থাকলেও বর্তমানটা একেবারে ফিকে নয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের। ২০১৪ সালে রাজশাহীতে হওয়া বিভাগীয় কমিশনার গোল্ড কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে তারা ২-০ গোলে হারিয়েছিল জয়পুরহাটকে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা ওমর ফারুক রয়েছেন আবাহনীর রিজার্ভ বেঞ্চে। এই ফারুক আবার জাতীয় ফুটবল দল ও আবাহনীর খেলোয়াড় নাসির হোসেনের ছোট ভাই।

জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে ২০০৭ সালে আলাদা হলেও নিয়মিতই হয় প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ। প্রথম বিভাগে ১০ আর দ্বিতীয় বিভাগে অংশ নেয় ৪৮ থেকে ৫০টি ক্লাব। এর পাশাপাশি মাসুদ স্মৃতি কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট হয় নিয়মিত। গত বছর হয়ে গেছে ৩২তম আসর। প্রতিভাবান খেলোয়াড় মাসুদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে করুণ মৃত্যু হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সময়। তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে তখনকার রাষ্ট্রপতি জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ নিজের উদ্যোগে পাঠিয়েছিলেন বিদেশে। কিন্তু মাসুদ ফিরেছিলেন লাশ হয়ে। এত কম বয়সে চলে গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের স্মৃতিতে রয়ে গেছেন বাগেরহাটে জন্ম নেওয়া এই কৃতী খেলোয়াড়।

ক্রিকেটে বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্য নজরকাড়া। অনূর্ধ্ব-১৪ দল বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০৫ সালের পর থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচবার। অনূর্ধ্ব-১৮ দলও পাঁচবার আর অনূর্ধ্ব-১৬ দল রাজশাহী বিভাগে শিরোপা জিতেছে তিনবার। জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলে এখন খেলছে আল আমিন রুবেল ও আশিকুর রহমান। জাতীয় দলেও খেলেছেন আলমগীর কবির। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন সেন্টু। প্রথম বিভাগে ১০টি আর দ্বিতীয় বিভাগে নিয়মিত অংশ নেয় ১২ থেকে ১৩টি ক্লাব। ক্রিকেটের এমন সাফল্যে খুশি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোচ মশিউর রহমান মিটু, 'আমার হাত ধরেই বয়সভিত্তিক দলের ছেলেরা সাফল্য পাওয়ায় ভালো লাগা স্বাভাবিক। জাতীয় দলে আলমগীর আর বাবুর খেলাটাও গর্বের। বাবুর জন্ম চাঁপাইনবাবগঞ্জে, খেলেছেও আমাদের জেলা দলে। তবে বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে হওয়ায় ওকে রাজশাহীর খেলোয়াড় বলেই জানে সবাই। আমরা চাই, জাতীয় দলে সুযোগ পাক এখানকার আরো অনেকে। এ জন্য চেষ্টাও করে যাচ্ছি সাধ্য অনুযায়ী। তবে ধর্মীয় কারণে এত দিন মেয়েদের ক্রিকেট দল গড়ে তুলতে পারিনি আমরা। আন্তরিক চেষ্টা চলছে মেয়েদের একটা দল গড়ে তোলার।'

কড়া মিষ্টি আমের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাষাটাও মিষ্টি হওয়ায় মিটুর সঠিক নাম জানতে ভুগতে হয়েছিল কিছুটা। মিতালি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ক্লাবটির সভাপতির উচ্চারণে মনে হচ্ছিল 'মিঠু'। চাঁপাইনবাবগঞ্জ 'নিউজডটকমের' স্পোর্টস এডিটর শহিদুল হক সুয়েল জানাচ্ছিলেন 'মিটু'। আরেকজনের কণ্ঠ শুনে মনে হলো মিন্টু! তাঁরই এক ছাত্র কাগজে লিখে নিশ্চিত করলেন নামটা 'মিটু'। যাই হোক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের বাইরে আলহাজ নজরুল ইসলাম ধুলু হাজি (তিনি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহুকুমা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়মিতই হয় এখানে। মরহুম ধুলুর ছেলেরা টুর্নামেন্টের জন্য দেন ৩০ হাজার টাকা। বাকি ২০ হাজার টাকার মতো নিজেরা জোগাড় করে নেন আয়োজকরা।

জুডো, কারাতে, সাঁতার আর বক্সিংয়ের জগতেও দাপুটে পদচারণা রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের। এসএ গেমসে কুমিতে অনূর্ধ্ব-৪৫ কেজিতে সোনা জিতেছেন মরিয়ম খাতুন বিপাশা। তাঁর দুই বোন মামুনজেরা বর্ণা আর উম্মে সালমা ববিও আছেন এই অঙ্গনে। তাঁদের বাবা বাবলুজ্জামান নিজে ভালো মানের খেলোয়াড় হতে না পারলেও কোচ হয়ে গড়ে তুলেছেন তিন মেয়েকে। এসএ গেমসের পর মরিয়ম খাতুন বিপাশা সোনা জিতেছেন বাংলাদেশ গেমসেও।

বক্সিংয়ে এ বছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে রৌপ্য জিতেছেন তুজির আহমেদ। ৫৬ কেজিতে ব্রোঞ্জ ছিল নাইম আলী আর ৬০ কেজিতে মোনালিসার। গত বছর রৌপ্য জিতেছিলেন সেতু কর্মকার ও মিতু খাতুন।

দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি সুইমিংপুল উদ্বোধন হয়েছে ২০১১ সালে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধক্ষ্য ও সাঁতারের সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান জানালেন, ২০০৯ সাল থেকেই ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেন এখানে। এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে প্রমত্ত পদ্মার বুক চিড়ে সাঁতার কেটে দেশ ও আন্তর্জাতিক সাঁতারে সাফল্য এনে দিয়েছেন জুয়েল আহমেদ, শাহজাহান আলি রনি, মুনমুন আহমেদরা। তাঁদের পথ ধরে বয়সভিত্তিক সাঁতারে এবারও ভালো করেছেন রিদওয়ান আহমেদ। গত বছর অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগে তিনটি সোনা, একটি রুপা আর একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে সে। এবার অনূর্ধ্ব-১১-১২ বছর বিভাগে রিদওয়ান জিতেছে দুটি সোনা। একটি ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে আরেকটি ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে।

এখানে একটা সময় বেশ সুনাম ছিল বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর গোল্ডকাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পোলাডাঙ্গা সমাজসেবক সংঘ নব্বইয়ের দশকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল। তবে পাঁচ বছর হওয়ার পর আর্থিক অনটনে বন্ধ হয়ে যায় সেটা। এ ধরনের টুর্নামেন্ট নিয়মিত না হওয়ায় ব্যাডমিন্টনে পিছিয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তবে ভলিবলটা হয় নিয়মিত। ৩০টি দল নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থাই আয়োজন করে এই টুর্নামেন্ট।

 

 



সাতদিনের সেরা