kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাহান্নামের শাস্তি হবে অপ্রতিরোধ্য

ধারাবাহিক তাফসির

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং তারা (কাফিররা) বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে এই (জাহান্নামের শাস্তির) প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে? যদি কাফিররা সেই সময়ের কথা জানত যখন তারা তাদের সামনে ও পেছন থেকে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তাদের সাহায্য করাও হবে না। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৮-৪০)

তাফসির : আগের আয়াতে মানুষের তাড়াহুড়া প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে জাহান্নামের আজাব নিয়ে কাফিরদের তাড়াহুড়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূলত কাফিররা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের কঠিন শাস্তিকে অবজ্ঞা করেই মুমিনদের বলত যে তোমরা সত্যবাদী হলে এসব শাস্তি কখন ঘটবে, সে সম্পর্কে আমাদের জানাও? মানুষ হিসেবে তাদের ত্বরাপ্রবণতা স্বভাবজাত হলেও কঠিন শাস্তির বিষয়ে এমন আচরণ তাদের নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ বহন করে।

বিজ্ঞাপন

কারণ নির্ধারিত সময়েই তারা চতুর্দিক থেকে এ শাস্তির মুখোমুখি হবে এবং তা থেকে কখনো মুক্তি পাবে না। তাদের জান্নাতের প্রবেশের সুযোগ না থাকা নিয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আমার নিদর্শনকে মিথ্যারোপ করে এবং তা নিয়ে অহংকার করে তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না, তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না সুচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে (অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশ অসম্ভব), এভাবে আমি অপরাধীদের প্রতিদান দেব। তাদের শয্যা হবে জাহান্নামের এবং তাদের ওপরের আচ্ছাদনও, এভাবে আমি জালিমদের প্রতিদান দেব। ’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৪১)

কিয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্তদের বর্ণনায় আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের জন্য থাকবে তাদের ওপরের দিক থেকে আগুনের ছায়া এবং নিচের দিক থেকেও ছায়া, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার বান্দাদের সতর্ক করেন, হে আমার বান্দারা, তোমরা আমাকে ভয় করো। ’ (সুরা জুমার, আয়াত : ১৬)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি সেদিন অপরাধীদের দেখবেন শেকলে আবদ্ধ অবস্থায়। তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে। ’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৫০)

মানুষ নিজ কর্মফল হিসেবে জান্নাতে ও জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর তারা সেখানে অনন্ত জীবন পার করবে। এরপর তাদের আর মৃত্যু স্পর্শ করবে না। তখন জান্নাতবাসীর যেমন আনন্দের সীমা থাকবে না তেমনি জাহান্নামবাসীর দুঃখের সীমা থাকবে না। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি ধুসর রঙের মেষের আকৃতিতে আনা হবে। তখন কেউ একজন হে জান্নাতবাসী বলে ডাক দেবেন। তারা ঘাড় মাথা উঁচু করে দেখবে। সে বলবে, তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কারণ সবাই তাকে দেখেছে। অতঃপর হে জাহান্নামবাসী বলে ডাক দিলে জাহান্নামিরা মাথা উঁচু করে দেখবে। তখন সে বলবে, তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কারণ সবাই তাকে দেখেছে। অতঃপর তাকে জবাই করা হবে। আর সে বলবে, হে জান্নাতবাসী, স্থায়ীভাবে থাকো। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী, স্থায়ীভাবে এখানে থাকো। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রাসুল (সা.) এই আয়াতটি পড়লেন, ‘আপনি তাদের হতাশার দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন যখন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, অথচ তারা গাফিল এবং তারা বিশ্বাস করে না। ’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত : ৩৯) (বুখারি, হাদিস : ৪৭৩০)

     গ্রন্থনা : মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ



সাতদিনের সেরা