kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধারাবাহিক তাফসির

আল্লাহর কাছে আজাব থেকে বাঁচতে আর্তনাদ

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যখন তারা (আজাবের সম্মুখীন ব্যক্তিরা) আমার শাস্তি উপলব্ধি করল তখনই তারা পালাতে লাগল। (তাদের বলা হয়েছিল) পলায়ন করো না, ফিরে এসো তোমাদের ভোগ-সম্ভার ও আবাসগৃহে, হয়তো তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। তারা বলল, হায়, দুর্ভোগ আমাদের, আমরা তো জালিম ছিলাম। তাদের এই আর্তনাদ চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাদের কর্তিত শস্য ও নির্বাপিত অগ্নি করি।

বিজ্ঞাপন

’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১২-১৪)

 

তাফসির : উল্লিখিত আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচতে কাফিরদের আকুতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মহান আল্লাহর অবাধ্য হওয়ায় কাফিরদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। কঠিন শাস্তি দেখে হারিয়ে যায় তাদের অহমিকা। তারা উচ্চ স্বরে আজাব থেকে বাঁচার আকুতি জানালেও কারো সাড়া মেলেনি। হারিয়ে যায় তাদের আহাজারি ও আর্তনাদ। চরম দুর্দশায় নিজেদের অবিচার ও পাপাচারের কথা স্বীকার করে নেয় তারা। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য আছে জাহান্নামের আগুন, (সেখানে) তাদের মৃত্যুর আদেশ দেওয়া হবে না যে তারা মারা যাবে এবং তাদের থেকে শাস্তিও লাঘব করা হবে না, এভাবেই আমি সব অকৃতজ্ঞকে শাস্তি দিয়ে থাকি। সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের রব, আমাদের বের করুন, আমরা ভালো কাজ করব, আগে যা করতাম তা আর করব না। আল্লাহ বলবেন, আমি কি তোমাদের দীর্ঘ জীবন দিইনি যে তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারত? তোমাদের কাছে তো সতর্ককারীও এসেছিল, সুতরাং এখন শাস্তি ভোগ করো, জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। ’ (সুরা ফাতির, আয়াত : ৩৬-৩৭)

সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মানুষ স্বাভাবিকভাবে মহান আল্লাহর কাছে কঠিন মুহূর্তে মুক্তি চায়। সমুদ্রের প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যেও তাঁর কাছে করুণ মৃত্যু থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করে। কিন্তু বিপদ থেকে মুক্তির পর সবাই মহান আল্লাহর কথা ভুলে যায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে তখন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে, আর যখন তিনি স্থলে এনে তাদের উদ্ধার করেন তখন তারা শিরকে লিপ্ত হয়। ’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৬৫)

কিয়ামতের দিন দুনিয়ার অবাধ্যতা ও পাপাচারের জন্য কাফিররা হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করতে থাকবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘জালিম ব্যক্তি সেদিন হাত কামড় দিয়ে বলতে থাকবে, হায়, আমি যদি রাসুলের সঙ্গে সৎপথ অবলম্বন করতাম। হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম। সে তো আমাকে পথভ্রষ্ট করেছে আমার কাছে উপদেশ পৌঁছার পরও, শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক। ’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ২৯)

পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হয়ে কাফিররা চাইবে দুনিয়ায় ফিরে আসতে। এমনকি পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে হলেও তারা ফিরতে চাইবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা অবিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং কাফির হিসেবে মৃত্যু বরণ করেছে তাদের কারো কাছ থেকে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময় হিসেবে দেওয়া হলেও তা কখনো কবুল করা হবে না, তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি, তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। ’ (সুরা আলে-ইমরান, আয়াত : ৯১)

মৃত্যুর পর সবার মধ্যে অনুশোচনা থাকবে। হাদিসেও বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে লজ্জা ও অনুশোচনা অনুভব করে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, সেই অনুশোচনা কী? তিনি বলেছেন, ‘যদি সে ভালো হয় সে বেশি ভালো কাজ না করার জন্য অনুতপ্ত হবে। আর যদি খারাপ হয় তাহলে সে নিজেকে মন্দ কাজ থেকে মুক্ত না রাখার জন্য অনুতপ্ত হবে। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৪০৩)

কিয়ামতের দিন সবাই নিজের আমল পাবে। তখন যার মন্দ আমল বেশি হবে জাহান্নামে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে, তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়। (তাদের বলা হবে) তোমাদের কাছে কি আমার নিদর্শনগুলো পড়া হতো না, অথচ তোমরা তা মিথ্যারোপ করতে। ’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ১০৫)

গ্রন্থনা : মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ

 



সাতদিনের সেরা