kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ নভেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুন্নাহর অনুসরণে সাহাবায়ে কেরামের দৃঢ়তা

মুফতি মাহমুদ হাসান   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুন্নাহর অনুসরণে সাহাবায়ে কেরামের দৃঢ়তা

সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন যেকোনো পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের ওপর সর্বদা অটল ও অবিচল। সুন্নত পালনে না কোনো নিকটাত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবের আব্দার আড়াল হতে পারত, আর না কোনো শত্রুর শত্রুতা তাদের নববী আদর্শের রাজপথ থেকে সরাতে পারত। এমনকি তাঁরা এ ক্ষেত্রে পৃথিবীর কোনো প্রতাপশালী সম্রাটেরও পরোয়া করতেন না। হাদিসগ্রন্থসমূহে ও ইতিহাসের পাতায় এ জাতীয় হাজারো ঘটনা ছড়িয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

নিম্নে আমরা এসংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছি।  

রোমসম্রাটের দরবারে জুসামা (রা.)-এর সুন্নত পালন

জুসামা ইবনে মুসাহিক (রা.) যাঁকে খলিফা ওমর (রা.) রোমসম্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে দূত হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন, তিনি স্বীয় ঘটনার বর্ণনায় বলেন, তখন রাজদরবারে আমি বেখেয়ালে একটি চেয়ারে বসে সম্রাটের সঙ্গে কথা বলছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম যে আমি একটি স্বর্ণের চেয়ারে উপবিষ্ট, আমি দেখামাত্রই তা থেকে উঠে যাই। এতে সম্রাট সহাস্যে জিজ্ঞেস করলেন যে আমরা তোমাকে যে সম্মান করলাম তা থেকে তুমি সরে গেলে কেন? আমি বললাম, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে স্বর্ণের চেয়ার ব্যবহার থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। (মারিফাতুস সাহাবা, আবু নুআইম ২/৬৪৮/১৭২৯)

বসরার গভর্নর মাকিল ইবনে ইয়াসারের দৃঢ়তা

মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) যিনি খলিফা ওমর (রা.)-এর আমলে বসরার গভর্নর ছিলেন, তখন সেখানে একদা তিনি দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁর একটি লোকমা নিচে পড়ে গেল। তিনি তা তুলে ময়লা দূর করে আহার করলেন। এতে সেখানকার অধিবাসী অনারব গোত্রপতিগণ চোখ টিপাটিপি করতে লাগল। তা দেখে তাঁর সহচরদের কেউ বলল যে আল্লাহ নেতাকে কল্যাণ দান করুন! নিচে পতিত খাবার তুলে নেওয়ায় গোত্রপতিরা আপনার প্রতি চোখ টিপাটিপি করছে। তিনি বলেন, ‘এ অনারবদের কারণে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর থেকে শ্রুত কথা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নই। আমাদের কারো খাবারের গ্রাস পড়ে গেলে তাকে নির্দেশ দেওয়া হতো, সে যেন তা তুলে নিয়ে ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে। ’ (ইবনে মাজাহ : হাদিস : ৩২৭৮, দারেমি : হাদিস ২০৭২)

উসমান (রা.)-এর সুন্নতের ওপর অবিচলতা

আমিরুল মুমিনিন উসমান (রা.) হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বার্তা নিয়ে মক্কা শরিফে গেলেন, তখন তাঁর চাচাতো ভাই আবান ইবনে সাইদ, যিনি তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি-তাঁর আশ্রয়ে ছিলেন। তখন আবান ইবনে সাইদ উসমান (রা.)-এর লুঙ্গি তাঁর পায়ের অর্ধনলা বরাবর দেখে বললেন, কুরাইশের সর্দাররা এটাকে অপছন্দ করে, তুমি লুঙ্গি টাখনুর নিচ পর্যন্ত করে দাও। তদুত্তরে হজরত উসমান (রা.) বললেন : ‘(কখনো নয়), আমাদের সঙ্গী অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) এভাবেই লুঙ্গি পরেন। ’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : হাদিস ৩৬৮৫২, শামায়েলে তিরমিজি : হাদিস ১২২)

বাবা খলিফা ওমরের ওপর নবীজি (সা.)-এর সুন্নতকে প্রাধান্য

হজের আগে ওমরাসহ একত্র করে তামাত্তু করার মাসআলা সম্পর্কে জনৈক সিরিয়াবাসী ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) জবাবে বললেন, তা করা বৈধ। সিরিয়াবাসী ব্যক্তিটি বলল, আপনার পিতা তো তা করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে ওমর (রা.) বলেন, তুমি কি মনে করো, কোনো বিষয় যদি আমার পিতা নিষেধ করেন, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) তা করে থাকেন, তবে সে ক্ষেত্রে কি আমার পিতার অনুসরণ করা হবে, না রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করা হবে? লোকটি বলল, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাজেরই তো অনুসরণ করা হবে। তিনি বললেন : ‘নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.) তা (তামাত্তু) করেছেন। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮২৪)

 



সাতদিনের সেরা