kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা ইউসুফ কারজাভির ইন্তেকাল

আবরার আবদুল্লাহ   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা ইউসুফ কারজাভির ইন্তেকাল

বিশ্ববিখ্যাত আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা ইউসুফ আল-কারজাভি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন কাতারভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় আল্লামা কারজাভির ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ এবং টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরাও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

আল্লামা ইউসুফ কারজাভি (রহ.) ৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে মিসরে জন্ম গ্রহণ করেন এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী ধর্মতত্ত্ব (১৯৫৩ খ্রি.) ও কোরআনিক স্টাডিজে (১৯৬০ খ্রি.) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া আরবি ভাষা ও সাহিত্যে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে ‘Zakah and its effect on solving social problems’ শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আল্লামা ইউসুফ আল-কারজাভির মাধ্যমে ১৯৭৭ সালে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শরিয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ’ অনুষদের সূচনা হয় এবং তিনি অনুষদের ডিন মনোনীত হন। একই বছর তিনি ‘সেন্টার অব শারিয়াহ অ্যান্ড সুন্নাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৭৭ সালে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফাতওয়া অ্যান্ড রিসার্চ’ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আল্লাহ ইউসুফ আল-কারজাভির রচনার সংখ্যা ১২০টি। যার মধ্যে হালাল ও হারাম, কিতাবু ফাতাওয়া মুআসিরা, তাইসিরুল ফিকহি লিল-মুসলিমিল মুআসিরি, মিন ফিকহিদ দাওলাতি ফিলইসলাম, ফিকহুজ জাকাত, ফিকহুত তাহারাত ইত্যাদি।

ইসলামী অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৪১১ হিজরিতে আল্লামা ইউসুফ আল-কারাজাভি ব্যাংক ফয়সল পুরস্কার লাভ করেন। ইসলামী শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৪১৩ হিজরিতে কিং ফয়সাল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন এবং ১৯৯৭ সালে ব্রুনাই সরকার তাকে ‘হাসান বাকলি’ পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন।

উল্লেখ্য, আল্লাম ইউসুফ আল-কারজাভি দীর্ঘদিন কাতারে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বর্তমান মিসর সরকারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং তিনি নির্বাসনের জীবন বেছে নেন।



সাতদিনের সেরা