kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধারাবাহিক তাফসির

চেষ্টা-সাধনায় নবী হওয়া যায় না

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনার আগে মানুষের মধ্যে পুরুষদেরই পাঠিয়েছিলাম, আমি তাদের কাছে ওহি পাঠিয়েছি, তোমরা যদি না জানো তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো। আমি তাদের এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে তারা আহার্য গ্রহণ করত না, তারা চিরস্থায়ীও ছিল না। ’ [সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৭-৮ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : বেশির ভাগ আলেমের মতে, রাসুল হলেন আল্লাহ কর্তৃক নির্বাচিত সেই ব্যক্তি, যাকে নতুন রিসালাত (আসমানি কিতাব) ও নতুন শরিয়ত (জীবনবিধান) দিয়ে কোনো জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে। পক্ষান্তরে নবী হলেন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সেই ব্যক্তি, যিনি নিজ জাতির কাছে আগের রিসালাতের বিষয়কে স্মরণ করিয়ে দেবেন।

বিজ্ঞাপন

তাই বোঝা যায়, সব রাসুল নবী হলেও সব নবী রাসুল নন। তা ছাড়া উত্তম বংশের হওয়া, পুরুষ হওয়া, সত্যবাদী হওয়া ও উত্কৃষ্ট গুণাবলির অধিকারী হওয়া, আল্লাহর নির্দেশনা যথাযথভাবে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ হওয়া তাদের অন্যতম শর্ত।

একজন নবী ও রাসুলের অন্যতম দায়িত্ব হলো আল্লাহর প্রেরিত ওহির ভিত্তিতে মানুষকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা, শিরক থেকে সতর্ক করা, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের নির্দেশনা দেওয়া, মানুষের সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জানানো, সৃষ্টির উদ্দেশ্য-লক্ষ্য জানানো, পরকালের হিসাব ও মৃত্যু-পরবর্তী চিরস্থায়ী জীবনের ব্যাপারে সতর্ক করা। কিন্তু তাদের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য অর্জন বা অনুশীলন করে নবী-রাসুল হওয়া যায় না; বরং বিষয়টি পুরোপুরি একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। (আশ শিফা, কাজি ইয়াজ, পৃষ্ঠা ২৭)

নবী-রাসুলদের পুরুষ হওয়ার ক্ষেত্রে আবুল হাসান আল আশআরি (রহ.), কুরতুবি (রহ.), ইবনে হাজাম (রহ.)-সহ কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করেন। তবে তাদের এ মতের পক্ষে কোরআন ও হাদিস থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ মেলে না। তাই  আগের অনেক নারীকে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানবজাতির মধ্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী বলা হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ মর্যাদা থাকলেও তারা নবী বা রাসুল ছিলেন না। তবে নবী-রাসুলদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের বড় ভূমিকা ছিল। যেমন ঈসা (আ.)-এর মাতা মারিয়াম (আ.)-এর ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্মরণ করুন যখন ফেরেশতারা বলেছিল, হে মারিয়াম, আল্লাহ তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বের সব নারীর মধ্যে তোমাকে মনোনীত করেছেন। ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৪২)

মুসা (আ.)-এর মায়ের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘মারিয়ামের পুত্র মাসিহ তো শুধু একজন রাসুল, তার আগে অনেক রাসুল গত হয়েছে এবং তার মাতা সত্যনিষ্ঠ ছিলেন, তারা উভয়ে খাবার আহার করতেন, দেখুন, আমি তাদের জন্য নিদর্শনগুলো কেমন বিশদভাবে বর্ণনা করি, আরো দেখুন, তারা কিভাবে সত্যবিমুখ হয়। ’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৭৫)। তবে বিশ্বজগতে তাদের মতো বিশেষ মর্যাদা আরো অনেকের জন্য ছিল। যেমন ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে, নুহকে ও ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করেছেন। ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৩)। (আর রুসুল ওয়ার রিসালাত, পৃষ্ঠা : ৭৬, ফাতহুল বারি, ৪৪৭/৬)

 

 



সাতদিনের সেরা