kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাশকোরতুস্তান

খনিজ সম্পদে ভরপুর রাশিয়ার মুসলিম অঞ্চল

আবরার আবদুল্লাহ   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খনিজ সম্পদে ভরপুর রাশিয়ার মুসলিম অঞ্চল

রাশিয়ার বাশকোরতুস্তানের একটি মসজিদ

রুশ সংবিধান ও বাশকোরতুস্তানের সংবিধান অনুযায়ী এটি রুশ ফেডারেশনের অধীন একটি সার্বভৌমত্বহীন স্বাধীন রাজ্য। এর আয়তন এক লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ বর্গ কিলোমিটার। রাজধানী উফা। এটি রাশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল ও খনিজসমৃদ্ধ এলাকা।

বিজ্ঞাপন

বাশকোরতুস্তানকে সংক্ষেপে বাশখিরও বলা হয়। ২০১৮ সালের জরিপ অনুসারে বাশখিরের জনসংখ্যা চার লাখ ৬৩ হাজার ২৯৩ জন। তাদের মধ্যে ৫৮.৬২ শতাংশ মুসলিম। ধারণা করা হয় খ্রিস্টীয় দশম শতকে এখানে ইসলামের আগমন হয় এবং মোঙ্গলীয় মুসলিমদের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পায়। তবে ষষ্ঠদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে রুশ আগ্রাসনে তারা স্বাধীনতা হারায়। বাশখির সোভিয়েত রাশিয়ার প্রথম গঠিত প্রজাতন্ত্র। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ১১ অক্টোবর ১৯৯০ স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে রহস্যজনক কারণে তা প্রত্যাহার করে বাশখির নেতারা রুশ ফেডারেশনে যোগদান করে।

নামকরণ : বাশকোরতুস্তানের নামকরণ করা হয়েছে বাশকির জাতির নামানুসারে। স্থানীয়ভাবে যাদের বাশকোরত বলা হয়। তুর্কি ভাষায় বাশ অর্থ প্রধান এবং কোরত অর্থ নেকড়ে। আর স্তান হলো আবাস ভূমি। সে হিসেবে বাশকোরতুস্তান অর্থ হয় নেকড়েদের আবাসভূমি।

প্রাচীন ইতিহাস : ধারণা করা হয়, প্রাচীন প্রস্তর যুগেই বর্তমান বাশকোরতুস্তান অঞ্চলে মানববসতির সূচনা এবং তাম্র যুগে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে বাশকির জাতিগোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করে। দশম শতাব্দীর মুসলিম ভূগোলবিদ আবু জায়েদ বালখি তাঁর বইয়ে বাশখির জনগোষ্ঠীর বিবরণ দিয়েছেন। ষোড়শ শতাব্দীতে অত্র অঞ্চলকে বাশকারিয়া নামে চিহ্নিত করা হতো।

মধ্যযুগে বাশকোরতুস্তান : ১৪ শতকে প্রাচীন মোঙ্গলীয় রাষ্ট্রের পতনের পর বাশকোরতুস্তান আঞ্চলিক শাসকদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ১৫৫৪-১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাশিয়ার শাসক চতুর্থ ইভান এই অঞ্চলকে রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে এবং বাশকির গোত্রগুলো সংঘাতে না গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আপস করে নেয়। ১৮৬৫ সালে উফা সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এটাকে বাশকিরদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম প্রচেষ্টা ধরা হয়।

আধুনিক যুগে বাশকোরতুস্তান : ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর বাশকির জনগোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সরব হয় এবং ১৯১৯ সালে সম্পাদিত এক চুক্তির মাধ্যমে বাশকোরতুস্তানকে স্বায়ত্তশাসিত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১১ অক্টোবর ১৯৯০ প্রজাতন্ত্রের প্রধান বাশকির প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আবার রুশ ফেডারেশনে যোগদান করে।

প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ : বাশকোরতুস্তান প্রজাতন্ত্রে ১৩ হাজারের বেশি নদ-নদী আছে। বহু নদী ইউরোপীয় রাশিয়ার গভীর জলের যোগাযোগব্যবস্থার অংশ, এই নদীগুলো বাল্টিক সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলোতে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। প্রজাতন্ত্রটিতে প্রায় দুই হাজার সাত শ হ্রদ ও জলাধার আছে।

রাশিয়ার খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাশকোরতুস্তান প্রজাতন্ত্র অন্যতম। এখানে প্রায় তিন হাজার বিভিন্ন ধরনের খনি আছে। বাশকোরতুস্তান অশোধিত তেলে পরিপূর্ণ এবং এটি রাশিয়ার তেল নিষ্কাশন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম। অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, আকরিক, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমাইট, লৌহ আকরিক, সিসা, টাংস্টেন, রক ক্রিস্টান, ফ্লোরাইট, আইসল্যান্ড স্পার, সালফাইড পাইরাইটস, ব্যারাইট, সিলিকেট, সিলিকা, অ্যাসবেসটস, ট্যালকম, বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান পাথর এবং প্রাকৃতিক শিলা (জেড ও গ্রানাইট)।

প্রজাতন্ত্রটির যথেষ্ট পরিমাণ খনিজ সম্পদ আছে, যা দিয়ে এটি তার শক্তি ও জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল, রাসায়নিক, কৃষিশিল্প, লৌহজাত ও অলৌহজাত ধাতু, কাচ ও সিরামিক প্রস্তুতকারকদের জন্য কাঁচামালের জোগান দিতে পারে। এ ছাড়া বাশকোরতুস্তান গাছপালা ও কাঠেও সমৃদ্ধ। প্রজাতন্ত্রটির প্রায় ৬২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা বনভূমিতে আচ্ছাদিত, যা প্রজাতন্ত্রটির মোট ভূভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া  ও প্রবন্ধ : রিলিজিয়ন, পাওয়ার অ্যান্ড ন্যাশনহুড ইন সভরেন বাশকোরতুস্তান

 

 



সাতদিনের সেরা