kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পা হারিয়েও থেমে যায়নি ফিলিস্তিনি নারীর পথচলা

আবরার আবদুল্লাহ   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পা হারিয়েও থেমে যায়নি ফিলিস্তিনি নারীর পথচলা

ইসমা আবু তায়ির

ফিলিস্তিনি নারী ইসমা আবু তায়ির ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি হামলার সময় পা হারান। তাই বলে থেমে যায়নি তাঁর পথচলা। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন পূরণে একটি টেইলার্স পরিচালনা করছেন। তিনি পোশাক ডিজাইন ও সেলাই করেন।

বিজ্ঞাপন

ইসমা আবু তায়ির কৃত্রিম পায়ে ভর করে চলেন। ২০১৭ সালে কৃত্রিম পা পাওয়ার আগে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতেন।

৩৪ বছর বয়সী ইসমা আবু তায়ির তিন সন্তানের জননী। আট বছর আগে ইসরায়েলি রকেট হামলায় তাঁর বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পায়ের একটি রগ ছিঁড়ে যায়। চিকিৎসক তাঁকে পরিপূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু গাজার শোচনীয় অর্থনীতি এবং পারিবারিক অনটন ইসমা আবু তায়িরকে থেমে থাকতে দেয়নি। আগে অন্য কাজ করলেও এখন টেইলারি করছেন তিনি। নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের বাড়ি দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস এলাকায়। জুলাই ২০১৪ ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা শুরু করে। হামলায় পাঁচজন নারী আহত হয়। একজন নারী ও শিশু তখনই মারা যায়। দুই বোনের সঙ্গে আমি আহত হই। ’

ইসমা আবু তায়ির আহত হওয়ার পর গাজার একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পাঁচ দিন ভর্তি ছিলেন। এরপর তাঁকে জর্দানে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১১ মাসে ৩৩টি অপারেশন হয়। শরীরের ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাঁকে উচ্চ মাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়। তিনি বলেন, ‘পায়ের চিকিৎসার সময় আমার কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। কিন্তু আমি গাজায় ফিরে আসি বিশ্রাম ও শারীরিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য। আমি চিকিৎসা সম্পন্ন করতে জর্দানে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু দুই বছর ধরে কোনো কারণ ছাড়াই ইসরায়েল আমার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। গাজাতেও আমার চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারছি না। আমি আমার শরীরে যুদ্ধের বহু ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি। ’

অবরুদ্ধ গাজার দুর্বিষহ জীবন ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে উন্নত জীবনের আশা ছাড়েননি ইসমা আবু তায়ির। তিনি ২০১৯ সালে ইসলামী আইন (ফিকহ) বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তবে তিনি মিষ্টান্ন তৈরিতে আগ্রহ বোধ করেন। তিন বছর মিষ্টান্ন তৈরির কাজ করলেও শারীরিক সমস্যার কারণে তা ছেড়ে দিয়েছেন। গাজা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উইল সেন্টার’ আয়োজিত সেলাই প্রশিক্ষণ লাভ করে। এরপর শুরু হয় ইসমা আবু তায়িরের নতুন জীবন। ইসমার প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁর চিকিৎসা পথ উন্মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও দ্য লোকাল রিড ডটকম

 



সাতদিনের সেরা