kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

মানবসমাজে বসবাসকারী দুই ফেরেশতা

পৃথিবীতে এমন দুজন ফেরেশতার আগমন ঘটেছিল তারা মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন এবং মানবসমাজে অবস্থান করতেন

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেরেশতা আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। তাদের রয়েছে নিজস্ব জগৎ। মানবসমাজে তারা আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করলেও তারা মানুষের দৃষ্টি ও স্পর্শের বাইরে। পৃথিবীতে এমন দুজন ফেরেশতার আগমন ঘটেছিল তারা মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন এবং মানবসমাজে অবস্থান করতেন।

বিজ্ঞাপন

তারা পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষদের পরীক্ষা করার জন্য। কোরআনের বর্ণনা অনুসারে তাদের নাম হারুত ও মারুত।

কোরআনে যা বলা হয়েছে : পবিত্র কোরআনে হারুত ও মারুত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এবং সুলাইমানের রাজত্বে শয়তানরা যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করত। সুলাইমান কুফরি করেনি, কিন্তু শয়তানরাই কুফরি করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবেল শহরে হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা কাউকে শিক্ষা দিত না এই কথা না বলে যে আমরা পরীক্ষাস্বরূপ; সুতরাং তুমি কুফরি কোরো না। তাদের উভয়ের কাছ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যা বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে তা শিক্ষা করত, অথচ আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া তারা কারো কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারত না। তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতি সাধন করত এবং কোনো উপকারে আসত না; আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে ব্যক্তি তা ক্রয় করে পরকালে তার কোনো অংশ নেই। তা কত নিকৃষ্ট যার বিনিময়ে তারা স্বীয় আত্মাকে বিক্রি করেছে, যদি তারা জানত!’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১০২)

হারুত-মারুতের পরিচয় : ইমাম ইবনে হাজার (রহ.), আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.)-সহ আস্কালানি বেশির ভাগ তাফসিরবিদ এ বিষয়ে একমত যে হারুত-মারুত ফেরেশতা ছিলেন। তাঁরা বলেন, হারুত-মারুত আল্লাহর প্রেরিত দুজন ফেরেশতা। তাঁরা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত। তবে তার আগে সতর্ক করে বলত, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ। তোমরা কুফরি কোরো না। (ফাতহুল বারি : ১০/২২৪)

তবে ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, হারুত-মারুত ফেরেশতা নয়; বরং ফেরেশতাদের মুখপাত্র ছিলেন। (তাফসিরে তাবারি : ২/৩৩৯)

সেখানে এসেছিলেন : কোরআনের বর্ণনা অনুসারে হারুত-মারুত ইরাকের প্রাচীন ব্যাবিলনে আগমন করেছিলেন। আরবি উচ্চারণ বাবিল। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২৩০০ অব্দে ব্যাবিলনের প্রতিষ্ঠা এবং খ্রিস্টপূর্ব ৬১২ অব্দে ব্যাবিলন সাম্রাজ্যের রাজধানী মনোনীত হয়।

তারা কি জাদু শেখাতেন : কোরআনের বক্তব্য থেকে পরোক্ষভাবে বোঝা যায় ফেরেশতাদ্বয় মানুষকে জাদু শেখাতেন। কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন, তারা মানুষকে জাদু শেখাতেন না। কেননা জাদু কুফরির শামিল। তারা এমন কালাম শেখাতেন, যা কুফরির মতো ক্রিয়াশীল এবং যা মন্দ কাজে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বিশুদ্ধ মত হলো, তারা মানুষকে জাদুই শেখাতেন। কিন্তু তাদের শেখানোটা হারাম ছিল না। কেননা তারা মানুষকে জাদুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করতেন এবং শেখার আগে বলতেন, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ। সুতরাং তোমরা কুফরি কোরো না। শায়খ আবদুর রহমান সাদি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ ফেরেশতাদ্বয়ের কাছে পরীক্ষাস্বরূপ জাদুবিদ্যা অবতীর্ণ করেন এবং বনি ইসরাইল তাদের কাছ থেকে আল্লাহর বাণীর পরিবর্তে জাদুবিদ্যা শিখত। ফলে তারাও তাদের তা শেখাত। ’ (তাফসিরে সাদি)

জাদু শেখা যাবে? : কোরআনের উল্লিখিত আয়াতে জাদুবিদ্যাকে কুফরি ও মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর বলা হয়েছে। হুঁশিয়ারি করা হয়েছে, যারা তা শিখবে পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। সুতরাং তা শেখা যাবে না। আলেমরা এ বিষয়ে একমত যে জাদুবিদ্যা শেখা ও চর্চা করা হারাম।

হারুত-মারুতের পরিণতি : হারুত-মারুতের পরিণতি সম্পর্কে প্রচলিত আছে যে তাঁরা একজন নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে আল্লাহর অবাধ্য হন। ফলে তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করবে। এসব বর্ণনাগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন ও ইসরাইলি বর্ণনা। বরং সঠিক কথা হলো, তাঁরা যেমন আল্লাহর হুকুমে আগমন করেছিলেন, তেমন আল্লাহর হুকুমেই প্রস্থান করেছিলেন। তাঁরা কোনো পাপে লিপ্ত হননি। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) হারুত-মারুত সংক্রান্ত এসব বর্ণনাকে ভিত্তিহীন বলেছেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

 



সাতদিনের সেরা