kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইসলামী সংস্কৃতিচর্চায় আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের

আতাউর রহমান খসরু   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসলামী সংস্কৃতিচর্চায় আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের

দেশের তরুণদের ভেতর ইসলামী সংস্কৃতিচর্চায় আগ্রহ বাড়ছে। তারা ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামী বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিচর্চায় যেমন মনোযোগী হচ্ছে, তেমনি তাদের আগ্রহ বাড়ছে ইসলামী শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি। তরুণরা ইসলামমুখী হওয়ায় স্বস্তিবোধ করছেন অভিভাবকরা। কেননা তাঁরা মনে করেন, ইসলামের নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণরা  চারিত্রিক স্খলন, অসৎ সঙ্গ ও মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে আত্মরক্ষার সামর্থ্য লাভ করবে।

বিজ্ঞাপন

ইসলামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী তরুণদের ইসলামী সংস্কৃতির প্রতি মনোযোগী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। ‘ইসলামী সংস্কৃতির প্রতি তরুণদের আগ্রহী হয়ে ওঠার কারণ হলো, তারা বুঝতে পেরেছে ইসলাম জীবনকে ভালোবাসতে শেখায়, জীবন সুন্দর করতে শেখায় এবং জীবনকে সুখ ও স্বস্তিময় করতে শেখায়। পৃথিবীতে আগমনের পর থেকে ইসলাম ইতিবাচক সব শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবেই কাজ করেছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ তরুণদের সামনে দুটি জীবনধারার পরিণতি ও পরিণাম স্পষ্ট। তারা দেখছে একদল তরুণ অসংযত জীবনাচার গ্রহণের পর মানসিক অস্থিরতা, হতাশা ও নৈরাশ্য, লক্ষ্যহীন পথচলার ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে; এমনকি আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে। ফলে তারা আলোহীন একটি পথের পরিবর্তে আলোকদীপ্ত পথ বেছে নিচ্ছে। ’

তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের একটি কল্যাণকর দিক হলো, তরুণরা খুব সহজেই ইসলাম পাঠের সুযোগ পাচ্ছে। মাদরাসা বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডিভুক্ত না হয়েও তারা ইসলাম ও ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ পাচ্ছে। এবং তার প্রতিফলন ঘটছে তাদের প্রাত্যহিক জীবনে। বিষয়টি উঠে এসেছে জনপ্রিয় টিভি সঞ্চালক ও বাংলাদেশে ইসলামী রিয়েলিট শোর অন্যতম পথিকৃৎ হাফেজ মুফতি সাইফুল ইসলামের বক্তব্যে। তিনি বলেন, রাহবার মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে ২০১৫ সালে ‘আলোকিত জ্ঞানী’ আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়। এই পর্যন্ত আলোকিত জ্ঞানীর আটটি সেশন সম্পন্ন হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৮০ শতাংশই সাধারণ ধারা থেকে আসা। এমনকি যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে তাদের অনেকেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এর দ্বারা বোঝা যায়, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের ভেতর ইসলামী জ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার একটি বিস্তৃত জায়গা আছে। এর প্রতি মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসা আছে। আল-হামদুলিল্লাহ, তা দিন দিন বাড়ছে।

তবে বাংলাদেশে ইসলামের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও ইসলামী সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ নতুন কিছু নয়; বরং নতুন হচ্ছে তা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া এবং পরিধি বিস্তৃত করা। মুফতি সাইফুল ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইসলামের যে বিশাল ভূমিকা আছে এবং বিনোদন বলতে আমরা যা বুঝি, তার কোনো ইসলামী রূপ যে আছে তা এক সময় আমাদের দেশে আমরা কল্পনা করতে পারিনি। কিন্তু এরপর যখন বিভিন্ন টেলিভিশনে ইসলামী ধারার অনুষ্ঠানগুলো শুরু হলো—বিশেষত বেসরকারি টিভি এটিএন বাংলায় ‘সাওয়াল-জাওয়াব’ (প্রশ্নোত্তর পর্ব) শুরু হয়, তখন তা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০৯ সালের পর টিভি চ্যানেলগুলোর ইসলামী প্রগ্রাম ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমানে যতটা জানি টেলিভিশনগুলো ইসলামী প্রগ্রামের টিআরপি অনেক ওপরে থাকে এবং তা বাণিজ্যিকভাবেও লাভজনক।

তরুণদের অংশগ্রহণ ইসলামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণগত পরিবর্তন ও বৈচিত্র্যও বয়ে আনছে। তরুণরা এখন ইসলামী সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে বিচরণ করছে। মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানীর ভাষায়, ‘তরুণরা যথেষ্ট সচেতন ও বাস্তববাদী। তারা প্রমাণভিত্তিক আলোচনা শুনতে, মানোত্তীর্ণ সাহিত্য পাঠ করতে এবং উন্নত গুণসম্পন্ন সুন্দর কথামালার সংগীত ও গজল শুনতে চায়। আধুনিক প্রযুক্তির আনুকল্যে তরুণরা খুব সহজেই ভালো-মন্দের বিচার করতে পারছে। গ্রহণও করতে পারছে খুব সহজে। ফলে আপনি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া বহু শিক্ষার্থীর তিলাওয়াত, গজল, নাশিদ ও হামদ শুনে বিশ্বাস করতে পারবেন না যে তারা মাদরাসায় পড়েনি।



সাতদিনের সেরা