kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

হাদিসের আলোকে আশুরার শিক্ষা

সাইফুল ইসলাম তাওহিদ   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাদিসের আলোকে আশুরার শিক্ষা

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। এ মাসের দশম দিন আশুরা নামে পরিচিত। কোরআন-হাদিসে এ মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আশুরার দিনেরও আলাদা সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মুসলমানদের নিকট দিনটি বেশ আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এ দিনে রোজা রাখার কথা বর্ণিত হয়েছে। মহররম ও আশুরা  সংক্রান্ত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে আমাদের সামনে বেশ কিছু শিক্ষণীয় দিক ফুটে ওঠে। প্রথমে মহররম ও আশুরা সংক্রান্ত দুটি হাদিস উল্লেখ করা হলো।

প্রথম হাদিস : ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) হিজরত করে মদিনায় এলেন এবং তিনি মদিনার ইহুদিরে আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখলেন। তাদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, এটা সেই দিন—যেদিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে ডুবিয়ে মেরেছেন। তাঁর সম্মানার্থে আমরা রোজা রাখি। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমরা তোমাদের চেয়েও মুসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৪৮) 

দ্বিতীয় হাদিস : রুবাইয়ি বিনতে মুআউয়িজ ইবনে আফরা (রা.) বলেন, ‘আশুরার সকালে রাসুল (সা.) আনসারদের সকল পল্লীতে এই নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি রোজা রাখেনি, সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় সকাল করেছে সে যেন রোজা পূর্ণ করে। বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তীতে আমরা ওই দিন রোজা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদের রোজা রাখাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ওই খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৬০)

নবী-রাসুল কাহিনিকে গুরুত্ব দেওয়া : নবী-রাসুলদের শরিয়ত ভিন্ন ভিন্ন হলেও তাঁদের দ্বিন ও দাওয়াতের মূল হলো তাওহিদ বা একত্ববাদ। সব নবী-রাসুলের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের অন্যতম রোকন। উল্লিখিত হাদিসে রাসুল (সা.) মুসা (আ.)-এর মুক্তি পাওয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

কৃতজ্ঞতা আদায় করা : আল্লাহ তাআলা মুসা (আ) ও বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাদেরকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রাসুল (সা.) রোজা রাখাকে বৈধতা দিয়েছেন এবং সাহাবাদের রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ কোনো নিয়ামত দান করলে বান্দার উচিত সে নিয়ামতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

শিরকের ভয়াবহতা : শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ তাআলা সব গুনাহ ক্ষমা করে দিলেও শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। এই শিরকের কারণে আল্লাহ তাআলা ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছেন।

অত্যাচারীর পতন : বনি ইসরাঈলের ওপর ফেরাউনের জুলুম-নির্যাতন ও অত্যাচারের বর্ণনা কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ ফেরাউনকে ধ্বংস করার মাধ্যমে বনি ইসরাঈলকে মুক্তি দেন। এ থেকে বোঝা যায়, অত্যাচারীর পতন অনিবার্য।

বাচ্চাদের খেলনা দেওয়া : হাদিসে বলা হয়েছে, বড়রা মহররমের রোজা রাখত, ছোটদের রোজা রাখতে উৎসাহিত করত। তাদের খেলনা দিয়ে রোজার কথা ভুলিয়ে রাখা হতো। এ থেকে বোঝা যায় ছোটদের খেলনা দেওয়া বৈধ।

ছোটদের রোজায় অভ্যস্ত করা : ছোটরা অনুকরণপ্রিয়। অল্প বয়সে তাদের যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তা তাদের মনে গেঁথে যাবে। এ জন্য তাদের ছোট থেকেই ইবাদতের প্রতি অভ্যস্ত করানো উচিত।

বিধর্মীদের অনুরসরণ না করা : আশুরার রোজা রাখার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো ৯ তারিখ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ দুটি রোজা রাখা। কেননা ইহুদিরা একটি রোজা রাখে। তাদের বৈসাদৃশ্যের জন্য দুটি রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)



সাতদিনের সেরা