kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

ইমাম গাজ্জালির জীবন ও দর্শনের খোঁজে

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইমাম গাজ্জালির জীবন ও দর্শনের খোঁজে

হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালি (রহ.) ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক ও ধর্মতাত্ত্বিক। যিনি তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, পাণ্ডিত্য ও সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে সময়, কাল ও ভূখণ্ডের সীমারেখা পেরিয়ে মানবসভ্যতার চিরায়ত সম্পদে পরিণত হয়েছেন। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.)-এর মতে, ইমাম গাজ্জালি (রহ.) দর্শন ও বাতেনি মতবাদের বর্ধিত প্লাবনের মোকাবেলা করেছেন এবং ইসলামের পক্ষ থেকে সেসবের মূলভিত্তির ওপর আঘাত হেনেছেন। পাশাপাশি সমাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ইসলামী ও নৈতিক পর্যালোচনা এবং তার ওপর সমালোচনা ও সংস্কার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

#তিনি ‘মাকাসিদুল ফালাসিফা’ ও ‘তাহাফাতুল ফালাসিফা’ নামে গ্রন্থ রচনা করে দার্শনিকদের দম্ভ চূর্ণ করেন এবং তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করেন। তাঁদের জ্ঞানগত দুর্বলতা, যুক্তি-প্রমাণের অসারতা ও পারস্পরিক বৈপরীত্য-মতবিরোধকে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করে দেন। জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-কে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ইসলাম’  (Conciliatory Islam)-এর উপস্থাপক আখ্যা দিয়ে বলেছে, ‘তাঁর জীবন ইতিহাস—শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর জ্ঞানান্বেষণ, শিক্ষক হিসেবে তাঁর জ্ঞান বিতরণ এবং পণ্ডিত হিসেবে তাঁর জ্ঞানের বিশ্লেষণ মধ্যযুগে ইসলামী বিশ্বের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পণ্ডিতদের জীবনপ্রণালী দারুণভাবে চিত্রিত করে, জীবন্ত করে তোলে। ’

‘ইমাম গাজ্জালি জীবন ও দর্শন’ বইটি মুসলিম বিশ্বের তিনজন বরেণ্য জ্ঞানতাপস মনীষীর তিনটি বহুল পঠিত ও সমাদৃত বইয়ের সমন্বিত রূপ। যার প্রত্যেকটি বই আপন মহিমায় অনন্য এবং তা মৌলিক ও আকরগ্রন্থের মর্যাদা রাখে। কিন্তু তিনজন মনীষী ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-এর ওপর তিন ভাবে আলোকপাত করেছেন। মূল বইয়ের লেখক মোহাক্কিক জালালুদ্দিন হোমায়ি (রহ.) প্রধানত ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-এর সমকালীন পরিপ্রেক্ষিত তথা জ্ঞানগত, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক আবহ ফুটিয়ে তুলে ধরেছেন, সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-এর সংস্কারমূলক কর্মসূচি ও অবদান তুলে ধরেছেন এবং আল্লামা শিবলি নোমানি (রহ.) ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-এর চিন্তা, দর্শন, মতবাদ ও জ্ঞানগত অবস্থানের বিশ্লেষণ করেছেন। ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-এর পূর্ণাঙ্গ পাঠের জন্য তিনটি দিকের সমন্বয় অপরিহার্য। শ্রমসাধ্য কাজটি করেছেন তরুণ আলেম, লেখক ও সাংবাদিক আতাউর রহমান খসরু।

বইটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাতে ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-এর শুধু প্রশংসা করা হয়নি, বরং তাঁর সমালোচনাকারীদের বক্তব্যকেও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইমাম গাজ্জালি (রহ.)-এর জীবনের এমন বহু দিক উঠে এসেছে, যা সচরাচর শোনা যায় না। যেমন—তাঁর জিহাদ ও বীরত্বের উপাখ্যান, শাসকদের অন্যায়ের প্রতিবাদে চিঠি প্রেরণ, তাঁর হাদিসচর্চা, পরিবার-পরিজনের বিবরণ ইত্যাদি। গুরুত্বপূর্ণ বইটি বাজারে এনেছে মাহফিল প্রকাশন।

গ্রন্থনা : আবরার আবদুল্লাহ

 



সাতদিনের সেরা