kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

কাবা চত্বরে মুমিনদের মিলনমেলা

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা, মক্কা থেকে   

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাবা চত্বরে মুমিনদের মিলনমেলা

সুদানের অন্ধ হাজি খালেদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

আল্লাহপ্রেমী মানুষের মিলনমেলা পবিত্র কাবা ঘর, মহান আল্লাহর ঘর। তিনি পবিত্র কোরআনে এই ঘরকে ‘মাসাবাতান’ বা মানুষের প্রত্যাবর্তনের স্থান আখ্যা দিয়েছেন, যা কাবা ঘরের বিশেষ মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর স্মরণ করো, যখন আমি কাবাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (আদেশ দিলাম যে) তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থানরূপে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখো।

বিজ্ঞাপন

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৫)

তাফসিরবিদদের মতে মহান আল্লাহ এই ঘরকে ‘মাসাবাতান’ আখ্যা দেওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ‘আল্লাহ তাআলা কাবা ঘরকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। ফলে তা সর্বদাই মানবজাতির প্রত্যাবর্তনস্থল হয়ে থাকবে এবং মানুষ বারবার তার দিকে ফিরে যেতে আকাঙ্ক্ষী হবে। ’ মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘কোনো মানুষ কাবা ঘরের জিয়ারত করে তৃপ্ত হয় না, বরং প্রতিবারই জিয়ারতের অধিক বাসনা নিয়ে ফিরে আসে। ’ (আত-তাফসিরুস সহিহ)

কোনো কোনো আলেমের মতে, কাবা ঘর থেকে ফিরে আসার পর আবার সেখানে যাওয়ার আগ্রহ হজ কবুল হওয়ার অন্যতম লক্ষণ। তাই প্রত্যেক মুসলমানের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু মহান আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা, যা কাবার চত্বরে উপলব্ধি করা যায়। প্রতিটি মানুষের চোখে-মুখে কাবার প্রতি তাদের ভালোবাসা ফুটে ওঠে। প্রতিটি মুহূর্তেই অফুরান ভালোবাসা ও আগ্রহ নিয়ে কাবার পথে ছুটে তারা চক্ষুকে শীতল করে। এখানে এলে যেন মানুষ দুনিয়ার সব কিছু ভুলে যায়, কারো চোখে-মুখে কোনো ক্লান্তির ছাপ নেই। তারা যেন কাবার প্রতি দৃষ্টিপাত করে পৃথিবীর সব কিছু ভুলে যায়, অন্তরের ভালোবাসার উত্তাপে মানুষের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। প্রত্যেকে যাঁর যাঁর মতো করে মহান আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহ মাফের দোয়া করেন। অনেকে প্রিয়জনের লিখে দেওয়া আকুতিগুলো দেখে দেখে পড়তে থাকেন, অনেকে আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয় মানুষদের লিস্ট ধরে ধরে দোয়া করেন। অনেকে আবার বিভিন্ন দোয়ার বই এনে  ফজিলতপূর্ণ দোয়া পড়েন। এক কথায় প্রত্যেকেরই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে মহান আল্লাহকে খুশি করা।

অনেকে মহান আল্লাহকে খুশি করতে নিজের শারীরিক অক্ষমতাকে পাত্তা না দিয়ে ছুটে এসেছেন কাবার চত্বরে। অনেককেই দেখা যায় হুইলচেয়ার না নিয়ে স্ট্রেচারে ভর করে কাবা তাওয়াফ করতে, এত মানুষের ভিড়ে এত বড় পদক্ষেপ নিতে পারার শক্তির উৎস আল্লাহর প্রতি অগাধ প্রেম ছাড়া কিছু নয়।

কাবা চত্বরে এমনকি একজন অন্ধ হাজির সঙ্গে দেখা হয়। বাহ্যিক দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও মনের চোখ দিয়ে কাবাকে দেখা ও কাবা চত্বরের ফজিলত অর্জনের জন্য সুদূর সুদান থেকে আগত অন্ধ হাজি খালেদের আল্লাহপ্রেম যে কাউকে অভিভূত করবে। তাওয়াফের এক পর্যায়ে তাঁকে দেখে তাঁর সঙ্গে কথা বলার লোভ সামলাতে পারিনি। অন্ধ হাজিকে দেখেই তাঁর সঙ্গে থাকা লোককে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর নাম কী? তিনি বললেন, খালেদ। আমি বললাম আপনারা কোনো দেশ থেকে এসেছেন, উত্তর দিলেন সুদান থেকে। আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনি? আমি বললাম, বাংলাদেশ থেকে। এরপর হাতের ইশারায় অভিবাদন জানিয়ে তাঁদের কাফেলার সঙ্গে চলে গেলেন।

এভাবে লাখো হাজি মহান আল্লাহকে পেতে বিশ্বের আনাচ-কানাচ থেকে ছুটে এসেছেন কাবার প্রান্তরে। যাঁরা এসেছেন, তাঁদের সবার যেন একটাই লক্ষ্য—কাবার কাছাকাছি সর্বোচ্চ সময় আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা। মহান আল্লাহ সবার হজ-ওমরাহকে কবুল করুন। আমিন।

 



সাতদিনের সেরা