kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

কাবার পথের যাত্রী

শুরু হলো দিন গণনা

মাওলানা আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদি (রহ.)   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুরু হলো দিন গণনা

প্রতিবছর ঈদ আসে। তবে এবারের ঈদ অন্যান্য বছরের মতো সাধারণ ঈদ ছিল না। কোনো প্রার্থিত বিষয়ের জন্য অধীর অপেক্ষা ক্ষত হৃদয়কে আরো অস্থির করে তোলে। কোনো কোনো দরবারে উপস্থিতির দিন এক এক করে গণনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রমজান শেষ, ঈদ এসেছে। অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে, সাক্ষাতের অঙ্গীকার পূর্ণ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। ছেড়ে যাওয়ার পর পৌঁছা, ত্যাগ করার পর উপস্থিতি, অপেক্ষার পর সাক্ষাৎ, তৃষ্ণার পর তৃপ্তি—এটা অনন্তকাল থেকে মহান স্রষ্টার বিধি। তিনি পবিত্র রমজানের শেষে হজ মৌসুমের সূচনা নির্ধারণ করেছেন। বলেছেন, ‘হজের নির্ধারিত সময় আছে’। হজের নির্ধারিত সময় ঠিক তখনই শুরু হয়, যখন শেষ হয় শেষ তারাবি, শেষ সাহরি, শেষ রোজা ও শেষ ইফতার। বরকতময় মাসের বরকতময় রাতে যারা জেগে জেগে ‘জিয়ারতের’ প্রার্থনা করেছে, তাদের ক্ষুিপপাসা, দুর্বলতা-ব্যাকুলতা শেষ হবে কোনো ঘরের তাওয়াফ ও সায়ির মাধ্যমে।

এই সফর আনন্দ-বিনোদনের জন্য ছিল না, জ্ঞানার্জন ও শাস্ত্রীয় দক্ষতা লাভের জন্য ছিল না, জ্ঞান ও সাহিত্যের বিশ্লেষণ এবং ইতিহাস অনুসন্ধানের জন্যও ছিল না। এই সফরের গন্তব্য কাশ্মীর বা সিমলা, লন্ডন বা প্যারিস, অক্সফোর্ড বা  কেমব্রিজ, হান বা উহান ছিল না; যেখানে নানা ধরনের ভাষণ ও আন্তর্জাতিক আইন পাস হয়। এই সফর ছিল জাজ্বল্যমান মরুভূমির উদ্দেশ্যে, গ্রীষ্মের মৌসুমে আসমানের বুকের নিচে উত্তপ্ত হতে থাকে। কোনো হোটেল, পার্ক ও সবুজ ভূমির উদ্দেশ্যে ছিল না এই সফর। তা ছিল শুষ্ক ও বিরাণ, ছায়া ও পানিহীন ভূমির দিকে, আগুন বর্ষণকারী মরুর দিকে। একজন পাপী উম্মত নিজের সুপারিশকারী ও সুহৃদ অভিভাবকের দরবারে হাজির হচ্ছিল, বান্দা তার মনিবের দরবারে উপস্থিত হচ্ছে। পলাতক দাস ক্লান্ত হয়ে, পরাজয় মেনে নিয়ে, অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে আবার মালিকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রত্যাশা ছিল—সূর্যের আলোয় প্রদীপ্ত হবে, এক ফোঁটা পান করে চূড়ান্ত ব্যাকুলতার স্বাদ অনুভব করবে; এক মুঠো মাটির স্বাদ জাগে সে ‘পবিত্র নূরে’ আত্মবিসর্জনকারী পতঙ্গের তালিকায় নাম লেখাবে। যে কিছুই ছিল না তার ইচ্ছা হলো সে পবিত্র সেই আত্মার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে, যিনি সব কিছু।

উপস্থিত হওয়ার নির্দেশদাতার নির্দেশ হলো ‘তাজাওয়াদু’ পাথেয় সঙ্গে নিয়ো। আবার নিজেই পাথেয় কী হবে তা বলে দিয়েছেন—‘ফাইন্না খায়রাল জাদি আত-তাকওয়া’ উত্তম পাথেয় তাকওয়া। এখানে দুর্ভিক্ষ ছিল, এই ব্যক্তি বঞ্চিত ছিল, সম্বলের অভাব মধ্যপথে যাত্রা থামিয়ে দেবে না তো! দেহ-মনে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা, ইচ্ছা দোদুল্যমান। তবে সঙ্গে সঙ্গে মনে এলো সর্বশক্তিমান দয়ালু খোদা, যিনি প্রতিদিন অন্ধকারকে আলোয় পাল্টে দেন, ফেটে চৌচির জমিনে নানা রঙের তরুলতা ও ফসল, শুষ্ক ডালে ফুল ও ফল উৎপন্ন করেন, জীবনহীনকে জীবনদান করেন, তিনি কী আত্মবিনাশীকে নিজ দরবারে ডেকে নিয়ে সৌভাগ্যমণ্ডিত করতে সক্ষম নন? তিনি কি শুধু নেককার, পবিত্র ও পুণ্যাত্মা ব্যক্তিদেরই অভিভাবক, প্রতিপালক ও মালিক? উদাসীন ব্যক্তিরা কি তাঁর দয়া, অনুগ্রহ থেকে সব সময় বঞ্চিত থেকে যাবে? (আল্লাহ না করুন)

‘সফরে হিজাজ’ থেকে  আতাউর রহমান খসরুর ভাষান্তর

 



সাতদিনের সেরা