kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ইসলামের দৃষ্টিতে ভাই-বোনের পবিত্র বন্ধন

রাসুল (সা.) বলেছেন, যার তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন আছে, অথবা দুটি মেয়ে অথবা দুটি বোন আছে, সে তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করলে এবং তাদের (অধিকার) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করলে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত আছে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৬)

আলেমা মারিয়া মিম   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলামের দৃষ্টিতে ভাই-বোনের পবিত্র বন্ধন

পৃথিবীতে মা-বাবার পর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভাই-বোনের। একসঙ্গে থাকা, স্কুল-মক্তবে আসা-যাওয়া, গল্প-আড্ডা, বেড়াতে যাওয়া ও মান-অভিমানসহ পরিবারের সুখ-দুঃখের চিরসঙ্গী থাকে এই ভাই-বোনেরা। মা-বাবার আদর-শাসনে বেড়ে ওঠা অম্লমধুর এই সম্পর্ক একসময় ফিকে হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও পরিবার গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মাঝে ভাই-বোনের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। তাই যে ব্যক্তি বোনদের প্রতি যত্নশীল হবে তাদের ফজিলতের কথা তুলে ধরে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যার তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন আছে, অথবা দুটি মেয়ে অথবা দুটি বোন আছে, সে তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করলে এবং তাদের (অধিকার) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করলে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত আছে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৬)

এমনকি ঘরে যদি ছোট বা অবিবাহিত বোন থাকে তাদের প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি রাখা উচিত। কোনোভাবেই যেন তারা কষ্ট না পায়, বরং নিজের স্বার্থকে ত্যাগ করে হলেও বোনদের ভালো রাখার চেষ্টা করা। এ ক্ষেত্রে জাবের (রা.)-এর একটি ঘটনা খুবই স্মরণীয়। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে জাবের! তুমি বিয়ে করেছ কী? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, কেমন, কুমারী না অকুমারী? আমি বললাম, না, বরং অকুমারী। তিনি বলেন, কোনো কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? সে তো তোমার সঙ্গে আমোদ-ফুর্তি করত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার আব্বা উহুদের যুদ্ধে শাহাদত লাভ করেছেন। রেখে গেছেন ৯ মেয়ে। এখন আমার ৯ বোন। এ কারণে আমি তাদের সঙ্গে তাদের মতো একজন আনাড়ি মেয়েকে এনে একত্র করা পছন্দ করিনি। বরং এমন একটি নারীকে (পছন্দ করলাম) যে তাদের চুল আঁচড়ে দিতে পারবে এবং তাদের দেখাশোনা করতে পারবে। তিনি বলেন, ঠিক করেছ। (বুখারি, হাদিস : ৪০৫২)

তাই দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান ও সফল হতে চাইলে আত্মীয়তা রক্ষা; বিশেষভাবে বোনদের হক এবং মর্যাদা রক্ষার বিকল্প নেই। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদের ভাই-বোনের মর্যাদা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন।

 



সাতদিনের সেরা