kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

মুসলিম নগরসভ্যতা

আল-বসরার হারানো ঐতিহ্য

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আল-বসরার হারানো ঐতিহ্য

বসরা নামটি উচ্চারণ করলে মনের ভেতর উঁকি দেয় ইরাকের প্রাচীন নগরী বসরা। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় বসরা নামে খুঁজে পাওয়া যায় আরো একটি ঐতিহাসিক নগর। ইতিহাস যাকে আল-বসরা, বসরা আল-হামরা বা বসরা দ্য রেড নামে চিহ্নিত করেছে। উভয় বসরার মধ্যে মিল হলো তার গোড়াপত্তন ও বিকাশ ঘটেছে মুসলিম শাসকদের হাতে।

বিজ্ঞাপন

মধ্যযুগে গড়ে ওঠা মুসলিম নগরী আল-বসরার অবস্থান আধুনিক মরক্কোর উত্তর দিকে, যা রিফ পর্বতমালা ও জিব্রাল্টার প্রণালির দক্ষিণে অবস্থিত। জিব্রাল্টার প্রণালি থেকে আল-বসরা নগরীর দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ৮০০ খ্রিস্টাব্দে আল-বসরা প্রতিষ্ঠা করে ইদরিসীয় শাসক পরিবার। পরিবারটি নবম ও দশম খ্রিস্টাব্দে বর্তমান মরক্কো ও আলজেরিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চল শাসন করত। আল-বসরা ইদরিসীয় সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল। এ সময় এখানে টাকশালসহ অসংখ্য প্রশাসনিক ভবন গড়ে ওঠে। শাসক পরিবারের আন্তরিকতায় তা ৮০০ থেকে ১১০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও কৃষি কেন্দ্রে পরিণত হয়। এখানে উৎপাদিত বহু পণ্য ভূমধ্যসাগর ও সাব-সাহারান বাজারগুলোতে রপ্তানি করা হতো। যার মধ্যে ছিল লোহা, তামা, মৃৎপাত্র, কাচের পুঁতি ও কাচের পাত্র।

ঐতিহাসিকদের দাবি, আল-বসরার নগর ৪০ হেক্টর বা ১০০ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে তার সামান্য অংশই খনন করা হয়েছে। খননের ফলে চিহ্নিত করা গেছে আবাসিক ভবন, সিরামিক কারখানা, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের স্থান, মেটাল ওয়ার্কশপ ইত্যাদি। তবে টাকশালের অবস্থান এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। শহরটি একটি দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত ছিল।

আল-বসরা থেকে উৎপাদিত কাচের পুঁতি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এখানে ছয় ধরনের কাচের পুঁতি উৎপাদিত হতো, যেগুলো রঙিন ও উজ্জ্বল হতো। কারিগররা কাচের সঙ্গে সিসা, সিলিকা, চুন, টিন, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, পটাশ, ম্যাগনেসিয়াম, তামা, হাড়ের ছাইসহ বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে পুঁতির ভেতর রং ও ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করত।

তথ্যঋণ : থটকো ডটকম

 



সাতদিনের সেরা