kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বিশ্বাসের মিনার

আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো ত্রুটি নেই

মুফতি আতাউর রহমান   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো ত্রুটি নেই

মহান আল্লাহ বৈচিত্র্যময় এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। সুবিশাল সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহ কোনো ত্রুটি করেননি, বরং প্রতিটি সৃষ্টিকেই তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী নিখুঁত করেছেন। মহান আল্লাহর প্রতি মুমিনের বিশ্বাস এমনই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সৃজন করেছেন উত্তমরূপে এবং কাদা থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ৭)

আল্লামা শাওকানি (রহ.) বলেন, ‘আয়াতের অর্থ হলো আল্লাহ তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেককে নিজস্ব অবয়ব দান করেছেন। সুতরাং মানুষকে পশুর মতো এবং পশুকে মানুষের অবয়বেও সৃষ্টি করেননি। ’ (তাফসিরে শাওকানি : ৪/২৮৮)

যথাযথভাবে সৃষ্টি করার অর্থ হলো প্রত্যেক সৃষ্টিকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে অবয়ব দান করা এবং তার ভেতর প্রয়োজনীয় গুণাবলি সৃষ্টি করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী যথাযথভাবে এবং তোমাদের আকৃতি দান করেছেন—তোমাদের আকৃতি করেছেন সুশোভন, এবং প্রত্যাবর্তন তো তাঁরই কাছে। ’ (সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ৩)

প্রশ্ন হতে পারে, সমাজে বহু মানুষকে ত্রুটিপূর্ণ দেহের অধিকারী দেখা যায়, বহু প্রাণীর আকৃতি ভীতিকর। তা হলে এই আয়াতের উদ্দেশ্য কী? উত্তর হলো, এখানে যথাযথভাবে সৃষ্টি করার দ্বারা স্বাভাবিক ও সাধারণ অবস্থা উদ্দেশ্য। মানুষের বিকলাঙ্গ হওয়া সাধারণ ও স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। আর মানুষের চোখে যেসব প্রাণী বা সৃষ্টিকে ভীতিকর মনে হয় সেগুলোর ভেতরেও আল্লাহ সৃষ্টিজগতে তার নিজস্ব ভূমিকা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি সৃষ্টি করেছেন। মানুষের চোখে তা কুিসত হলেও আপন অঙ্গনে সে কুিসত নয়। এ জন্যই আল্লাহ মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, ‘দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাবে না; তুমি আবার তাকিয়ে দেখো, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি? অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফেরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিয়ে ফিরে আসবে। ’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ৩-৪)

আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া



সাতদিনের সেরা