kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

যাঁরা উড়িয়েছিলেন ইসলামের বিজয় পতাকা

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যাঁরা উড়িয়েছিলেন ইসলামের বিজয় পতাকা

মুসলিম উম্মাহ অখণ্ড জাতিসত্তা। জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদানে আমরা খুঁজে পাই ইসলামের সোনালি অতীত, যেমন—জাবির ইবনু হাইয়্যান, আলবিরুনি, ইবনু সিনা, ওমর খৈয়াম, আল ফারাবি, আল কিন্দি, আল রাযি।

বিস্ময়ে চিরভাস্বর মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনাবলি ইস্পাহান মসজিদ, স্পেনের আল হামরা, তাজমহল, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, ইরানি হাম্মামখানা, মান্তাজা প্রাসাদ, দ্বিতীয় হাসান মসজিদ, শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মস্ক, বুর্জ আল আরব।

বাংলাদেশও মুসলিম ঐতিহ্য, স্থাপত্যে অনন্য।

বিজ্ঞাপন

‘মসজিদের শহর’ ঢাকা। জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফের মতে, ওমর (রা.)-এর শাসনামলে মামুন, মুহাইমেন (রা.) নামক সাহাবিদ্বয় বাংলাদেশে আগমন করেন। উপমহাদেশে আগত সাহাবিদের মধ্যে রয়েছেন—আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ ওতবান, আশইয়াম বিন আমর তামিমি, মামার তামিমি (রা.) প্রমুখ।

বিশিষ্ট সাহাবি আবু ওয়াক্কাস (রা.) তৃতীয় হিজরিতে ইসলাম প্রচারের জন্য চীন যাওয়ার পথে কিছুকাল রংপুর এলাকায় অবস্থান করে ইসলাম প্রচার করেন। পরবর্তী সময়েও অসংখ্য পীর-দরবেশের পদস্পর্শে এ দেশে ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। যথা—শাহ সুলতান বলখি বগুড়া, শাহ সুলতান রুমি বৃহত্তর ময়মনসিংহ, শাহ মাখদুম রুপোস রাজশাহী, শাহ্জালাল সিলেট, খান জাহান আলী খুলনায় ইসলাম প্রচার করেন। এ ছাড়া শাহ আমানত, শাহ বদর, শাহ আলী বাগদাদি, শারফুদ্দিন আবুতাওয়ামা, বায়েজিদ বোস্তামী, শেখ বোরহানুদ্দিন প্রমুখ এ দেশে জাগিয়েছিলেন তাওহিদ ও ঈমানের উজ্জ্বল শিখা। বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে যাওয়া সাধকগণের তালিকা সুদীর্ঘ। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি হাজি শরিয়তুল্লাহ, মাওলানা কারামতুল্লাহ জৈনপুরী, শাহনেয়ামতুল্লাহ, মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, মাওলানা আব্দুর রহমান কাশগড়ি (চীন), মাওলানা শামসুল হুদা পাঁচবাগী, খানবাহাদুর আহসানুল্লাহ, নওয়াব সলিমুল্লাহ প্রমুখ।

ইসলামের ঐতিহাসিক পরিক্রমায় পতন-পরাজয়ের দুঃখজনক অধ্যায়ও সুদীর্ঘ। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে স্পেন ও সিন্ধুতে মুসলিম বিজয়গাথায় ইউরোপ ও ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের রাজকীয় উত্থান ঘটে। অথচ কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে স্পেনে ৭১১- ১৪৯২ খ্রি. পর্যন্ত প্রায় ৭৮০ বছরের মুসলিম গৌরবগাথা। পলাশীর আম্রকাননে অস্তমিত হয়েছে বাংলা-বাঙালির অহংকারের রাজতিলক।

মুসলমানদের পরাজয়ের ধারায় সর্বশেষ ঘটনা ২ জানুয়ারি ১৪৯২। আন্দালুসিয়া, কর্ডোভাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পতনের পর, স্পেনের বুকে জ্বলজ্বল করছে শুধু মুসলমানদের পরাজয়-পরাধীনতার কলঙ্ক।

ইতিহাসের বহতা ধারায় সিন্ধু বিজয় ৭১২ খ্রি.। ১২০৪-০৫ খ্রি. বখতিয়ার খলজী অশ্বারোহী নিয়ে বিনা বাধায় বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুন কুতুবুদ্দিন আইবেক দিল্লির সুলতান হিসেবে অভিষিক্ত হন। এ জয়যাত্রার স্থায়িত্ব ১২০৪- ১৭৫৭ খ্রি., অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ শ বছর।

১৫২৬-১৫৪০, ১৫৫৫-১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ ছিল মুঘল আধিপত্য। এ ভাঙাগড়ার অংশীদার : জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন, জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর বা আকবর-ই আজম, নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ সেলিম বা জাহাঙ্গীর, শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ খুররম বা শাহজাহানে আজম, মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বা আলমগীর, কুতুবউদ্দিন মুহাম্মদ মুয়াজ্জম বা বাহাদুর শাহ, জাহানদার শাহ, ফররুখসিয়ার, রাফিউল দারজাত, রাফিউত দৌলত বা দ্বিতীয় শাহজাহান, মুহাম্মদ শাহ, আহমেদ শাহ বাহাদুর, দ্বিতীয় আলমগীর, তৃতীয় শাহজাহান, দ্বিতীয় শাহ আলম, মির্জা আকবর বা দ্বিতীয় আকবর শাহ, আবু জাফর সিরাজউদ্দিন মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ জাফর বা দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ।

দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর হলেন মহাকালস্রোতে আকবর বা আওরঙ্গজেব জৌলুসের সর্বশেষ ও ম্নান-মলিন প্রতিনিধি। ১৮৫৮ সালে প্রহসনমূলক বিচারে বাহাদুর শাহকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। ৭ নভেম্বর ১৮৬২ নিভৃতচারী, নির্বাসিত, নিরপরাধ, নিঃসঙ্গ বাহাদুর শাহ মারা যান। কবির উপলব্ধি:

‘এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে, এই তো নদীর...

সকালবেলার আমির রে ভাই ফকির সন্ধ্যাবেলা। ’

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর



সাতদিনের সেরা