kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

পৃথিবীর নিন্দা কোরো না

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম জাওজি (রহ.)   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রকৃতার্থে পৃথিবী সমালোচনার যোগ্য নয়। সমালোচনার যোগ্য মানুষের কাজ। কেননা পৃথিবী হয়তো মানুষের জন্য ধনভাণ্ডার অথবা তা জান্নাত লাভের মাধ্যম বা জাহান্নামে যাওয়ার উপলক্ষ। কিন্তু যখন মানুষের ভেতর প্রবৃত্তি, লালসা, উদাসীনতা এবং আল্লাহ ও পরকালের ব্যাপারে উপেক্ষা বেড়ে যায়, তখন পৃথিবী মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে আরম্ভ করে।

বিজ্ঞাপন

অথচ ঢালাওভাবে পৃথিবীকে দোষ দেওয়া হয়।

অথচ পৃথিবী পরকালের শস্যক্ষেত ও কল্যাণ লাভের উৎস। এখানে জান্নাতের বহু পাথেয় আছে। এখানে এমন বহু উপাদান আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈমান, আল্লাহর পরিচয়, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর স্মরণ ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। জান্নাতবাসী জান্নাতে যে চির সুখের জীবন লাভ করবে তার বীজ তারা দুনিয়াতেই বপন করে। আর এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই পৃথিবী প্রশংসা ও মর্যাদার দাবি রাখে।

নিশ্চয়ই আল্লাহর ওলিরা পৃথিবীতেই চোখের শীতলতা, অন্তরের প্রশান্তি, মনের ঐশ্বর্য, আত্মতৃপ্তি ও এমন সব নিয়ামত লাভ করে, যার কোনো তুলনা হয় না। তারা তা লাভ করে আল্লাহর স্মরণ, তাঁর পরিচয় লাভ, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর ইবাদত, তাঁর ওপর আস্থা, তাঁর প্রতি আকর্ষণ ও হৃদ্যতা পোষণের মাধ্যমে। এই পৃথিবীতেই আছে আল্লাহর কালাম, তাঁর প্রত্যাদেশ, তাঁর সুপথের নির্দেশনা ও তাঁর দানকৃত জীবনী শক্তি। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেন, পৃথিবী সত্যের স্থান যে সেখানে সততার জীবন বেছে নিয়েছে, তা ক্ষমা লাভের স্থান যে তার মূল্য বুঝেছে এবং মুক্তির স্থান যে আত্মসমর্পণ করেছে।

পৃথিবীতে আছে আল্লাহর নবীদের সিজদার স্থান, ওহি নাজিলের কেন্দ্র, ফেরেশতাদের নামাজস্থল এবং ওলিদের চলাচলের পথগুলো। তারা পৃথিবীতে অবস্থান করে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করেছেন এবং তাঁর ক্ষমা লাভে ধন্য হয়েছেন। কে পৃথিবীর নিন্দা করে, অথচ সে পৃথিবীতেই বাস করছে এবং নিজের ও নিজ পরিবারের প্রশংসা করছে?

‘মাওয়ায়িজু আল-ইমাম ইবনিল কায়্যিম আল-জাওঝি’ থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

 



সাতদিনের সেরা