kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

নাজ্জাসি মসজিদ

আফ্রিকার বুকে সাহাবিদের স্মৃতিচিহ্ন

আবরার আবদুল্লাহ   

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফ্রিকার বুকে সাহাবিদের স্মৃতিচিহ্ন

নাজ্জাসি মসজিদ, ইথিওপিয়া

নবুয়তের পঞ্চম বছর মক্কায় সাহাবিদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চরম রূপ নিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বলেন, ‘তোমাদের জন্য ভালো হয়, যদি তোমরা হাবশার উদ্দেশে দেশত্যাগ করো এবং তোমরা যে অবস্থার মধ্যে আছ তা থেকে আল্লাহ তোমাদের নিষ্কৃতি দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করো। কেননা দেশটির বাদশা কারো ওপর অবিচার করেন না, তা সত্যভূমি। ’ (খাতামুন-নাবিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৩৬০)

বেছে নেওয়ার কারণ : স্থান হিসেবে হাবশাকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো শাসক হিসেবে নাজ্জাসির সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া, ব্যাবসায়িক সূত্রে পূর্ব থেকে হাবশার সঙ্গে মক্কার যোগাযোগ থাকা, নবীজির কাছে তা নিরাপদ ভূমি হিসেবে পরিচিত হওয়া এবং আরব ভূখণ্ডের বাইরে হওয়ায় কুরাইশদের ক্ষমতা ও প্রভাবমুক্ত হওয়া ইত্যাদি। (আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা, পৃষ্ঠা ১৯০-১৯৩)

কে এই নাজ্জাসি : বর্তমান ইথিওপিয়া, যা মুসলিম ইতিহাসে আবিসিনিয়া নামে পরিচিত, তার তৎকালীন শাসক ছিলেন আসহামা ইবনে আবজার।

বিজ্ঞাপন

যাঁর রাষ্ট্রীয় পদবি ছিল নাজ্জাসি। নেগাস ছিল তার রাজধানী শহর। ইউরোপীয় ইতিহাস তাঁর রাজত্বকে ‘কিংডম অব আকসুম’ নামে চিহ্নিত করে। ধারণা করা হয়, ইথিওপিয়ার টিগ্রেরি অঞ্চল ছিল তাঁর রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র। (ওমান অবজারভার)

কতজন হিজরত করেন : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ পেয়ে নবুয়তের পঞ্চম বছর রজব মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মেয়ে রোকাইয়া ও জামাতা উসমান ইবনে আফফান (রা.)-সহ ১১ বা ১২ জন পুরুষ ও চারজন নারী এ কাফেলাভুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে জাফর (রা.)-এর নেতৃত্বে ৮৮ জন পুরুষ ও ১৮ বা ১৯ জন নারী হাবশায় হিজরত করেন। (আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা, পৃষ্ঠা ১৯৬; সিরাতে মোস্তফা : ১/২৩৬)

কুরাইশের ব্যর্থ চেষ্টা : মক্কার মুশরিকরা নবুয়তের সপ্তম বছর মুসলিমদের মক্কায় ফিরিয়ে আনতে বিপুল পরিমাণ উপঢৌকনসহ আমর ইবনুল আস (তখনো মুসলিম হননি) ও আবদুল্লাহ ইবনে আবু রাবিয়াকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায়। বাদশাহ উভয় পক্ষের কথা শোনেন এবং মুসলিমদের অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় দিলেন, তাদের নিরাপত্তা ও অভয় দান করলেন। কুরাইশ দূতরা লজ্জিত ও অপমানিত হয়ে ফিরে আসে। (নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা ১৪২-১৪৩)

ইসলাম গ্রহণ : বিশুদ্ধ মতে, নাজ্জাসি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কেননা অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের আগে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) শোক প্রকাশ করেন, তাঁর জন্য দোয়া করেন, তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সাহাবিদের দোয়া করতে বলেন। (সিরাতে মোস্তফা : ১/২৫১; আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২০০)

নাজ্জাসি মসজিদ : ইথিওপিয়ার টিগ্রেরি অঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত ‘নেগাস আমেদিন মেসজিদ’, যা আল-নাজ্জাসি মসজিদ নামেও পরিচিত। ধারণা করা হয়, এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নির্মিত। হাবশা বা আবিসিনিয়ায় আশ্রয় গ্রহণকারী মুসলিমরা বাদশাহ নাজ্জাসির অনুমতিতে নির্মাণ করেছিলেন। তবে এর সপক্ষে শক্তিশালী কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। মসজিদ আঙিনার ১৫টি প্রাচীন কবরকে স্থানীয় সাহাবিদের কবর বলে বিশ্বাস করা হয়। ২০২০ সালের টিগ্রেরি যুদ্ধের সময় শক্তিশালী বোমা হামলায় মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশ্য তুর্কি সরকারের সহায়তায় মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। (ওমান অবজারভার ও আনাদোলু এজেন্সি)

 



সাতদিনের সেরা