kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

উত্তম চরিত্র

মুমিন অঙ্গীকার পূরণে যত্নবান হয়

মাইমুনা আক্তার   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অঙ্গীকার পূরণে যত্নবান হওয়া মুমিনের জন্য আবশ্যক। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অঙ্গীকার পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো। তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তোমাদের নিকট যা বর্ণনা করা হচ্ছে তা ছাড়া।

বিজ্ঞাপন

তবে ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হালাল করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা বিধান দেন। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ১)

কঠিন কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অঙ্গীকার সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা এতিমের সম্পদের কাছে যেয়ো না সুন্দরতম পন্থা ছাড়া, যতক্ষণ না সে বয়সের পূর্ণতায় উপনীত হয়। আর অঙ্গীকার পূর্ণ করো, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৪)

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলকে একত্র করবেন, তখন প্রত্যেক প্রতারকের জন্য পৃথক পতাকা উড্ডীন করা হবে এবং বলা হবে যে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের প্রতারণার চিহ্ন। (মুসলিম, হাদিস : ৪৪২১)

অঙ্গীকারের প্রতি যত্নবান হওয়া বিবেকবান মানুষের কাজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অঙ্গীকারের ব্যাপারে যত্নশীল মুমিনদের সুনাম করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনার রব হতে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে সে কি তার মতো যে অন্ধ? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেকসম্পন্নরাই। যারা আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না। ’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ১৯-২০)

মহানবী (সা.) সাহাবায়ে কিরামকে অঙ্গীকার পূরণের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করতেন। অঙ্গীকার ও আমানত রক্ষার প্রতি উম্মতকে উৎসাহিত করা নবীদের বৈশিষ্ট্য ছিল। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আবু সুফইয়ান (রা.) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস তাকে বলেছিলেন, তোমাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি [নবী (সা.)] তোমাদের কী কী আদেশ করেন? তুমি বললে যে, তিনি তোমাদের নামাজের, সত্যবাদিতার, পবিত্রতার, ওয়াদা পূরণের ও আমানত আদায়ের আদেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বলেন, এটাই নবীগণের সিফাত। (বুখারি, হাদিস : ২৬৮১)

এর বিপরীতে অঙ্গীকার পূরণে উদাসীনতাকে মুনাফিকের স্বভাব বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোনো একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালাগাল করে। (বুখারি, হাদিস : ৩৪)। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত কারো সঙ্গে কোনো অঙ্গীকার করলে তা পূরণের সর্বাত্মক চেষ্টা করা।



সাতদিনের সেরা