kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

দ্বিনের প্রচার-প্রসার আলেমদের দায়িত্ব

মুফতি আবদুল্লাহ নুর   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দ্বিনের প্রচার-প্রসার আলেমদের দায়িত্ব

মুসলিম সমাজে আলেমরাই নবীজি (সা.)-এর উত্তরাধিকারী। সুতরাং তাঁরা মুসলিম সমাজের শিক্ষক, অভিভাবক ও নেতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩৬৪১)

আলেমদের বিশেষ মর্যাদা : আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আলেমদের নানাভাবে সম্মানিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি আমার আদর্শের ওপর নেই, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে না। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২১৪৩, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৩৮৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, বৃদ্ধ মুসলমান, কোরআনের আদব রক্ষাকারী ও কোরআন অনুযায়ী আমলকারী হাফেজ এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশার সম্মান করা মহান আল্লাহর সম্মান করার অন্তর্ভুক্ত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৫৩)

আলেমদের দায়িত্ব : নবীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে আলেমরা নবী-রাসুলদের মিশনগুলো সামনে এগিয়ে নেবেন। আর পবিত্র কোরআনে নবীদের প্রধান কাজগুলো এভাবে তুলে ধরা হয়েছে—‘তিনিই উম্মিদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে, যে তাদের নিকট তিলাওয়াত করে তাঁর আয়াতগুলো, তাদের পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; ইতিপূর্বে তো তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।    (সুরা : জুমা, আয়াত : ২)

আলেমদের প্রধান দায়িত্বগুলো : সাধারণ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিতে আলেমদের প্রধান কয়েকটি দায়িত্ব হলো—

১. দ্বিনি শিক্ষার প্রচার : আলেমদের প্রধান কাজ মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী। আর তারা স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রার অধিকারী হয় না। তারা জ্ঞানের উত্তরাধিকার লাভ করে। সুতরাং যে তার অংশ গ্রহণ করল সে পূর্ণাঙ্গ অংশই গ্রহণ করল। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩৬৪১)

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কোরো, যদি তোমাদের জানা না থাকে। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৩)

২. সমাজকে সতর্ক করা : যদিও ভালো কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। তবে আলেমদের ওপর এই দায় সমাজের অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে বেশি। কেননা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বের হয় না কেন, যাতে তারা দ্বিন সম্পর্কে জ্ঞানানুশীলন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে যাতে তারা সতর্ক হয়। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১২২)

৩. সামাজিক নেতৃত্ব দেওয়া : আলেমদের আরেকটি দায়িত্ব হলো সামাজিক নেতৃত্ব দেওয়া। মুসলিম সমাজের নানাবিধ সংকট মোকাবেলা করা তাঁদেরই দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য করো, অনুসরণ করো রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তি তাদের। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)

উল্লিখিত আয়াতে কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য ন্যায়পরায়ণ শাসক ও আলেমসমাজ।

আলেমবিদ্বেষীদের প্রতি হুঁশিয়ারি : নবী উত্তরসূরি আলেমদের প্রতি যারা বিদ্বেষ পোষণ করে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের লাঞ্ছিত করেন। আল্লাহর ঘোষণা হলো, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে শত্রুতা করবে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

আল্লামা ইবনে আসাকির (রহ.) বলেন, হে ভাই জেনে রেখো, আলেমদের দোষ চর্চা করা বিষাক্ত জিনিস। আল্লাহ তাআলার রীতি হলো আলেমদের কুৎসা রটনাকারীকে তিনি লজ্জিত করেন। যে ব্যক্তি আলেমদের সমালোচনা করবে আল্লাহ তার মৃত্যুর আগে তার অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেবেন। (আত-তিবয়ান ফি আদাবে হামালাতিল কোরআন : ২৭-২৯)

আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

 



সাতদিনের সেরা