kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

সৎ সাহসের প্রয়োজনীয়তা

নবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদর্শন এবং সর্বাপেক্ষা সাহসী ও দানশীল। (বুখারি, হাদিস : ২৮২০)

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আল্লাহর পথে নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য সত্ সাহস থাকা আবশ্যক। খাঁটি মুমিনের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তারাই তো আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও আখিরাতে এবং সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা হবে সত্ পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১৮)

ভীরু-কাপুরুষরা তাওহিদের কলেমা সাহসী কণ্ঠে উচ্চারণ করতে পারে না এবং সমাজের বুকে থেকে শিরক-বিদআতের শিকড় উপড়াতে সক্ষম হয় না।

বিজ্ঞাপন

যুগে যুগে সাহসী বীর মুজাহিদিনের মাধ্যমে ইসলাম বিজয়ী হয়েছে। সমাজের বুক থেকে অন্যায়-অবিচার অপসৃত হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সাহসী পুরুষ। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন,  ‘নবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদর্শন এবং সর্বাপেক্ষা সাহসী ও দানশীল। ’ (বুখারি, হাদিস : ২৮২০)

এমনকি তিনি সাহাবায়ে কেরামের কাছ থেকে এই মর্মে বায়আত নিয়েছেন যে তারা যেন হক কথা বলতে ভয় না পায় এবং জান্নাতের রাজপথে বীরদর্পে চলতে কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে। উবাদাহ ইবনে সামেত (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিলাম। তন্মধ্যে অন্যতম বায়আত ছিল এই যে ‘আমরা যেখানেই থাকি না কেন, হকের ওপর সুদৃঢ় থাকব বা হক কথা বলব। আর আল্লাহর পথে চলতে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে আমরা পরওয়া করব না। ’ (বুখারি, হাদিস : ৭২০০)

হক কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ। নবী (সা.) বলেছেন, ‘সর্বাপেক্ষা ফজিলতপূর্ণ জিহাদ হচ্ছে জালিম শাসক বা অত্যচারী নেতার সামনে ইনসাফপূর্ণ কথা বলা। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২১৭৪)

মুসলমানদের এই সাহসিকতার মূল উত্স হলো তাদের ঈমানি শক্তি। কাফির-মুশরিকরা এই ঈমানি শক্তিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। কেননা মুসলমানদের কাছে সংখ্যার আধিক্য বিজয়ের মাপকাঠি নয়। বরং দৃঢ় ঈমান, আত্মত্যাগের সত্ সাহস ও আল্লাহর ওপর একান্ত নির্ভরশীলতাই তাদের বিজয়ের মূল হাতিয়ার। সুতরাং ভীরুতা ও কাপুরুষতা পরিহার করে সাহসিকতার গুণ অর্জন করা জরুরি।



সাতদিনের সেরা