kalerkantho

শনিবার । ২৬ নভেম্বর ২০২২ । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাহে রমজানকে কিভাবে স্বাগত জানাব

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

৩ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মাহে রমজানকে কিভাবে স্বাগত জানাব

পুণ্যের ভরা মৌসুম রমজান সমাগত। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের আগমনে খুশি হতেন এবং রমজানের চাঁদকে অভিনন্দন জানাতেন। সাহাবায়ে কেরামও বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে রমজান মাসকে স্বাগত জানাতেন। হিশাম ইবনে হাসসান থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র হাসান ইবনে আলী (রা.) চাঁদ দেখে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! এ মাসকে প্রাচুর্য ও জ্যোতির্ময় করুন, পুণ্য ও ক্ষমার মাধ্যম করুন।

বিজ্ঞাপন

হে আল্লাহ! আপনি (এ মাসে) আপনার বান্দাদের মাঝে কল্যাণ বিতরণ করবেন, সুতরাং আপনার পুণ্যবান বান্দাদের জন্য যা বণ্টন করবেন, তা আমাদেরও দান করুন। ’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

নবীজি (সা.)-এর সুসংবাদ : রমজানের আগমনে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুসংবাদ দিয়ে বলেন, তোমাদের কাছে বরকতময় মাস রমজান আগমন করল। আল্লাহ তোমাদের ওপর এই মাসের রোজা ফরজ করেছেন, এই মাসে জান্নাতের দরজা খোলা হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয়। শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে যা হাজার রাতের চেয়ে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে সত্যিই বঞ্চিত হলো। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২১০৮)

রমজানকে কেন স্বাগত জানাবেন : পবিত্র রমজান মুমিনের জন্য বহুবিধ কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসে। তাই মুমিন রমজানের আগমনে খুশি হয় এবং কল্যাণের বাহক হিসেবে তাকে স্বাগত জানায়। নিম্নে রমজানের কল্যাণকর কিছু দিক তুলে ধরা হলো—

১. কোরআন নাজিলের মাস : রমজানে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব নাজিল হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি, সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

২. আল্লাহভীতি অর্জনের মাস : আল্লাহভীতি মুমিনের মর্যাদা ও সাফল্যের মাপকাঠি। আর রমজান আল্লাহভীতি অর্জনের মাস। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারো। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

৩. জাহান্নাম থেকে রক্ষা : রোজা মুমিনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। ইরশাদ হয়েছে, রোজা হলো ঢালস্বরূপ। জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৯২১৪)

৪. আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত হয়। আল্লাহ বলেন, তবে রোজা ছাড়া। কেননা তা শুধু আমার জন্য এবং আমিই তার পুরস্কার দেব। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮২৩)

৫. জান্নাতের বিশেষ মর্যাদা : আল্লাহ তাআলা জান্নাতে রোজাদারকে বিশেষ মর্যাদা দান করবেন। সাহাল ইবনে সাআদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জান্নাতে আটটি দরজা আছে। যার একটির নাম রাইয়ান। এই দরজা দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৫৭)

৬. ফেরেশতাদের দোয়া : রোজাদার ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। উমারা বিনতে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন রোজাদার ব্যক্তির পাশে খাওয়া হয়, তখন খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা রোজাদারের জন্য দোয়া করে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭৮৫)

৭. প্রতি রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি : রমজানের প্রতি রাতে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দান করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেবে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর তা (রমজানের) প্রতি রাতে হতে থাকে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৬৮২)

যেভাবে স্বাগত জানাব : আনন্দ ও উৎসবের পরিবর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি কাজের মাধ্যমে পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানাতে বলেছেন। তা হলো পাপ পরিহার করা এবং পুণ্যের কাজে আত্মনিয়োগ করা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, (এ মাসে) একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেন—হে কল্যাণ অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৬৮২)

অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮)

নবীজি (সা.)-এর হুঁশিয়ারি : মহানবী (সা.) রমজান মাসের রোজাসহ অন্যান্য ইবাদত যেন অর্থহীন হয়ে না যায় এ জন্য সতর্ক করে বলেছেন, কেউ যদি রোজা রেখেও মিথ্যা বলা ও অপকর্ম ত্যাগ না করে। তবে তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৩৬২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, তোমাদের কেউ রোজা পালন করলে সে যেন পাপাচারে লিপ্ত না হয় এবং মূর্খের মতো আচরণ না করে। কেউ তার সাথে ঝগড়া করলে বা তাকে গালমন্দ করলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৩৬৩)

আল্লাহ সবাইকে রমজানের কল্যাণ নসিব করুন। আমিন।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা



সাতদিনের সেরা