kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ভালো কাজ প্রচারের জন্য নয়

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালো কাজ ও নেক আমল করার পর কেউ কেউ তা প্রচারের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভালো কাজের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি। পূর্বসূরি বুজুর্গরা নিজেদের নেক আমল আড়াল করার চেষ্টা করেন। নিম্নে এমন কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো।

বিজ্ঞাপন

১. মানসুর বিন মুতামির (রহ.) যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন, তখন তাঁকে তাঁর সঙ্গীদের কাছে প্রাণবন্ত মনে হতো। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলতেন ও বেশ সময় দিতেন। নিশ্চয়ই তিনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন। এসব কিছু তিনি শুধু তাদের থেকে তাঁর আমলকে গোপন রাখার জন্য করতেন। (সুফুফুস সফওয়াহ : ৩/১১৩)

২. আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা (রহ.) নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর যখন কেউ তাঁর কাছে আসত তখন তিনি বিছানায় শুয়ে পড়তেন। (তাফসিরে আল লাতায়িফ : ১/১০)

৩. হসান ইবনে আবি সিনান (রহ.)-এর সহধর্মিণী তাঁর ব্যাপারে বলতেন, ‘তিনি ঘরে ফিরতেন এবং বিছানায় যেতেন। অতঃপর তিনি আমাকে ধোঁকা দিতেন যেমন মহিলারা তাদের বাচ্ছাদের ধোঁকা দেয়। যখন তিনি বুঝতে পারতেন আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তখন বিছানা ত্যাগ করতেন এবং নামাজে দাঁড়াতেন। ’ (ইরশাদুল ইবাদ লিল ইসতিদাদ, ১/৫০)

৪. আবু হামজা সুমালি (রহ.) বলেন, ‘আলী ইবনে হুসাইন (রহ.) রুটির থলে পিঠে নিয়ে রাতে বের হতেন। অতঃপর তিনি তা দান করে দিতেন আর বলতেন, ‘নিশ্চয়ই গোপন দান মহান আল্লাহ তাআলার ক্রোধ নির্বাপিত করে। ’ (সুফুফুস সফওয়াহ : ২/৯৬)

৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রহ.) থেকে বর্ণিত, মদিনাবাসীর মধ্যে এমন কিছু লোক ছিল যারা জীবনধারণ করত কিন্তু তারা জানত না তাদের জীবনোপকরণ কোত্থেকে আসে। অতঃপর যখন আলী বিন হুসাইন (রহ.) মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তারা রাতের অন্ধকারে তাদের যা দেওয়া হচ্ছিল তা হারাল। ’ (তাসহিলুল উসুল : ১/১৮১)

৬. ইবনে জাওঝি (রহ.) বলেন, ‘ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) কোরআনুল কারিম তিলাওয়াত করার সময় কেউ সেখানে প্রবেশ করলে তিনি তা লুকিয়ে ফেলতেন। ’ (আল মুদহিশ : ২/১১০)

৭. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি (রহ.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি ২০ বছর আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছেন অথচ তাঁর স্ত্রীও তা জানত না। ’ (আর রিক্কাতু ওয়াল বাকায়ু : ১/৩১)

উল্লেখ্য, বুজুর্গ তাঁদের নেক আমল লুকাতেন তাঁদের আল্লাহভীতি ও অধিক সতর্কতার স্থান থেকে। যেন তাঁদের মনে পার্থিব কোনো প্রত্যাশা তৈরি হওয়ার ভয় না থাকে। নতুবা প্রকাশ্যে আমল করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়; বরং সন্তান, পরিবার, শিক্ষার্থী ও শিষ্যদের উৎসাহিত করতে কেউ যদি প্রকাশ্যে আমল করে; এবং তা আল্লাহর জন্যই হয়, তবে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

 



সাতদিনের সেরা