kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

হিজরতের পর কুরাইশের অবিরাম ষড়যন্ত্র

আতাউর রহমান খসরু   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হিজরতের পর কুরাইশের অবিরাম ষড়যন্ত্র

মক্কার মুশরিক সম্প্রদায় কুরাইশের অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে মহানবী (সা.)-সহ মুসলিমরা মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের পরও মক্কার মুশরিকদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি; বরং তারা মদিনায় বিকাশমান ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। পবিত্র কোরআনে তাদের মনোভাব এভাবে ব্যক্ত হয়েছে, ‘তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যে পর্যন্ত তোমাদেরকে তোমাদের দ্বিন থেকে ফিরিয়ে না দেয়, যদি তারা সক্ষম হয়। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৭)

অবশ্য মদিনার ইসলামী রাষ্ট্র নিয়ে তাদের চিন্তিত হওয়ার বহু কারণও ছিল।

বিজ্ঞাপন

ড. রাগিব সারজানি এক দীর্ঘ আলোচনায় নিম্নোক্ত কারণগুলো চিহ্নিত করেছেন। তা হলো—এক. কুরাইশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে একটি স্বতন্ত্র জাতি-গোষ্ঠীর অভ্যুদয় ছিল তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত সম্মান ও মর্যাদার প্রতি চ্যালেঞ্জ।

দুই. প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলাম সব ধরনের পৌত্তলিকতাকে অস্বীকার করে। সুতরাং ইসলাম প্রসারের অর্থই ছিল কুরাইশের দায়িত্ববোধ ও সামাজিক প্রতিপত্তিকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া। কেননা তারা আরবের বিখ্যাত সব দেব-দেবীর সেবক ও রক্ষক।

তিন. প্রাচীনকাল থেকে মদিনার সঙ্গে যে মক্কাবাসীর পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল, মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্রের বিকাশ তাদের সম্পর্কগুলোর জন্য হুমকি ছিল।

চার. মদিনার ইহুদিরা বলত, প্রতিশ্রুত নবীর আগমন ঘটলে তার সহযোগিতায় তারা আরবের পৌত্তলিকদের পরাজিত করবে। ফলে কুরাইশের এই ভয় ছিল যে ইহুদিদের সঙ্গে মুসলিমদের ঐক্য হওয়ার আশঙ্কা করত।

পাঁচ. মদিনার উপকণ্ঠ দিয়ে মক্কাবাসীকে সিরিয়া যেতে হতো। যা ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। (আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৬৪-৩৬৬)

এসব কারণে কুরাইশরা মদিনার মুসলিমদের বিনাশে তৎপর হয়ে ওঠে এবং নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে হুঁশিয়ার করে চিঠি পাঠায় এবং বলে, ‘তোমরা আমাদের লোকদের তোমাদের এলাকায় জায়গা দিয়েছ। আমরা আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমরা যদি তাদের বের করে না দাও, তাহলে আমরা তোমাদের ওপর আক্রমণ করব, তোমাদের হত্যা করব এবং তোমাদের স্ত্রীদের দাসী বানাব। ’ (মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস : ২/৩৫)

কুরাইশের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের মুখে মুসলিমরা সর্বদা মদিনায় শত্রুপক্ষের হামলার আশঙ্কা করত। হামলা প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত থাকত, এমনকি রাতের বেলা অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ঘুমাত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও নির্ঘুম রাত কাটাতেন। এ সময় সাআদ বিন মুয়াজ (রা.) তাঁর প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭২৩১)

এরপর আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর নিরাপত্তা দিয়ে বললেন, ‘আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন। ’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৬৭)

তখন তিনি বললেন, তোমরা ফিরে যাও আল্লাহ আমাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

কুরাইশের হামলা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি থেকে আত্মরক্ষায় মহানবী (সা.) মদিনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত গোত্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। যেমন তিনি বনু গিফারে ইসলাম প্রচারের জন্য আবু জর গিফারি (রা.)-কে ইসলাম প্রচারের জন্য পাঠান এবং তাদের বেশির ভাগ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। মদিনার পশ্চিম প্রান্তে বসবাসকারী জুহাইনা গোত্রের সঙ্গে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন। রাজনৈতিক বিবেচনায় এই চুক্তি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মদিনার পশ্চিম প্রান্ত ঘেঁষেই মক্কার বাণিজ্য কাফেলা শামে যাতায়াত করত। বেশির ভাগ প্রতিবেশী গোত্রের সঙ্গে নবীজি (সা.) পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তিতে আবদ্ধ হতে সক্ষম হন। (ড. রাগিব, সারজানি, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৬৩-৬৪)

 



সাতদিনের সেরা