kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ইসলাম কী বলে

বিবাহের পর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন রাখা

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিবাহের পর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন রাখা

বিবাহের পর স্ত্রীকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন রাখা ইসলামসম্মত নয়। স্ত্রী তার স্বামীর বাড়িতেই থাকবে—এটাই ইসলামের নিয়ম। পবিত্র কোরআনে আদম (আ.) সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং আমি বললাম, হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো। এবং সেথা ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার করো...।

বিজ্ঞাপন

’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৫)

তাফসিরবিদরা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এ আয়াতে খাবারের ক্ষেত্রে যৌথভাবে আদম ও হাওয়া (আ.)-কে স্বাধীনতা দেওয়া হলেও বসবাসের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর অনুগামী করা হয়েছে। এই বাচনভঙ্গিমার মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে স্বামীর ঘর বা স্বামী যেখানে থাকে, সেটাই স্ত্রীর ঠিকানা।

কাজেই বিবাহের পর স্ত্রীকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন রাখা ইসলাম সমর্থন করে না।

ইসলামের পক্ষ থেকে স্বামী এই মর্মে আদিষ্ট যে সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে। বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে স্ত্রীদের সংকটে ফেলে দেওয়ার ইখতিয়ার স্বামীকে দেওয়া হয়নি। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেমন ঘরে বাস করো, তাদেরও (স্ত্রীদের) ওই ধরনের ঘরে বাস করতে দেবে। সংকটে ফেলার জন্য (বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে) তাদের কষ্ট দিয়ো না...। ’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

মনে রাখতে হবে যে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা স্বামীর অবশ্য কর্তব্য এবং এটি বিবাহের ইসলামী শরিয়ত আরোপিত অন্যতম শর্ত। কাজেই স্ত্রীর ভরণপোষণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার সামর্থ্য না থাকলে কারো জন্য বিয়ে ফরজ বা জরুরি নয়।

স্বামী স্ত্রী-সন্তানের ভরণ-পোষণ করার ব্যাপারে দায়িত্বশীল। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে স্বামীকে কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে। অনেকে খরচ বাঁচানোর জন্য কিংবা স্ত্রীর কোনো অসুখ দেখা দিলে শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘ দিনের জন্য পাঠিয়ে দেন। আবার কেউ কেউ বিয়ে করে দীর্ঘ দিনের জন্য বাপেরবাড়িতে স্ত্রীকে রেখে দেন। এমন কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় নয়। এতে দেখা যায়, স্ত্রীর বাপের বাড়ির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এবং চোখ বুঝে স্ত্রীর মা-বাবাকে তা সহ্য করতে হয়। এটি যৌতুকের সমগোত্রীয়। এবং হারামের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। রাসুল (সা.) স্বামীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যা খাও ও পরিধান করো, তাদের তা খাওয়াও ও পরিধান করাও। তাদের প্রহার করো না এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করো না। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৪৪)

অন্যত্র রাসুল (সা.) পরিবারের জন্য কৃত ব্যয়কে সর্বোত্তম ব্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৯৯৪)

অতএব, স্ত্রীকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়িতে বা অন্যত্র ফেলে রাখা কঠিন গোনাহের কাজ। এ থেকে তাওবা করা জরুরি। তবে স্ত্রীর জন্য কল্যাণকর কোনো বিষয়ের প্রয়োজন হলে, যৌক্তিক কোনো কারণ থাকলে, স্বামী ভরণ-পোষণ আদায় করলে এবং স্ত্রীর মা-বাবার এ ব্যাপারে অনাগ্রহ ও অনাপত্তি না থাকলে স্ত্রী বাপেরবাড়িতে থাকতে পারবে। কিন্তু স্ত্রী বাপেরবাড়িতে থাকলেও স্বামীর পক্ষ থেকে ভরণ-পোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার স্বামীর কাছ থেকে প্রাপ্য।



সাতদিনের সেরা