kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

দৈনন্দিন ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অজু অবস্থায় মৃত চামড়া তোলার বিধান

প্রশ্ন : শীতের তীব্রতায় শরীরের কিছু চামড়া শুকিয়ে গেছে। অনেক সময় আনমনে অজু অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন শুকনো চামড়া তুলে ফেলি। অজু করার সময় শরীরের যেসব অঙ্গ ধুতে হয়, নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেসব অঙ্গের কোনো অংশের গোটা বা এমনিতেই চামড়া ওঠালে অজু ভেঙে যাবে কি?

মেহেদি হাসান, রাজশাহী

উত্তর : এরূপ করার দ্বারা অজুর কোনো ক্ষতি হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/৩৩, আল খানিয়া : ১/২২, হিন্দিয়া : ১৮/৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৬২)

 

সুদের টাকায় কর্মচারীদের বেতন দেওয়া

প্রশ্ন : ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকায় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার বিধান কী? শুনেছি আমাদের কম্পানি আমাদের সুদের টাকা দিয়ে বেতন দেন।

বিজ্ঞাপন

সাকিব, ময়মনসিংহ

উত্তর : কম্পানির কর্মচারীদের সুদের টাকা থেকে বেতন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে এ বেতন হালাল হবে না। আর যদি কম্পানির কাছে বৈধ-অবৈধ উভয় ধরনের টাকা থাকে আর কোনো ফান্ড থেকে বেতন দেয় তা নিশ্চিতরূপে জানা সম্ভব না হয় তাহলে কর্মচারীদের জন্য বেতন হালাল হবে। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৯৮, এমদাদুল আহকাম : ৩/৫৫১)

 

সুদের টাকা নিকটাত্মীয়কে দেওয়া

প্রশ্ন : আমার এক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু সুদের টাকা পেয়েছি। এই টাকাগুলো কোথায়, কী কাজে, কী নিয়মে ব্যয় করে দায়মুক্ত হতে পারি? আমরা কোনো গরিব আত্মীয়কে দিতে পারব কি?

মনির হোসেন, টঙ্গী

উত্তর : সুদের টাকা তার প্রকৃত মালিক বা তার অবর্তমানে তার ওয়ারিশদের কাছে পৌঁছানো আবশ্যক। যদি মালিক বা ওয়ারিশ জানা সম্ভব না হয়, তাহলে মালিকের পক্ষ থেকে দায়মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে সওয়াবের নিয়তবিহীন গরিব আত্মীয়দের দেওয়া যাবে। (হিন্দিয়া : ৫/৩৪৯, এমদাদুল আহকাম : ৩/৬৫৫, আপকে মাসায়েল আউর উনকা হল : ২৪০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১০/১২৯)

 

স্বামী সন্তান নিতে আগ্রহী না হলে

প্রশ্ন : আমাদের বিয়ে হয়েছে ছয়-সাত বছর হয়ে গেল; কিন্তু আমার স্বামী কিছুতেই বাচ্চা নিতে আগ্রহী নন। আমি সর্বদা তাঁর মন জয় করার চেষ্টা করি। তাঁর কথামতো চলি; কিন্তু তিনি তার পরও বাচ্চা নিতে আগ্রহী নন। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

ফাহমিদা আহমেদ, নোয়াখালী

উত্তর : ইসলাম বিয়েকে পবিত্র পন্থায় বংশ বিস্তারের মাধ্যম বানিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিক সন্তান গ্রহণকারিণী নারীকে বিয়ে করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই ইসলামসম্মত কোনো কারণ ছাড়া সন্তান কম নেওয়া বা একেবারে না নেওয়া ইসলামবিরোধী কাজ। আর সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই হক রয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার স্বামী সন্তান নিতে অনাগ্রহী হওয়া আপনার হক বিনষ্টের শামিল, পাশাপাশি ইসলামেরও অবাধ্যতা। অতএব যথাসম্ভব তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। তার পরও সম্ভব না হলে প্রয়োজনে অভিভাবকদের সহযোগিতা নিতে পারেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২০৫, আসসুনানুল কুবরা : ৭/২৩১, হেদায়া : ২/৩৪২, রদ্দুল মুহতার : ৩/১৭৫, কিফায়াতুল মুফতি : ১২/৪৩২)

 

 



সাতদিনের সেরা