kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

সহকর্মী রেগে গেলে মুমিন হিসেবে করণীয়

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইসলাম সহকর্মীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ সুন্দর আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি সহকর্মী কোনো কারণে রেগে গেলেও তার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে হবে, ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে। সহকর্মী রেগে গেলে একজন মুমিনের করণীয় নিম্নরূপ—

১.   যখন আপনি দেখবেন আপনার সহকর্মী রেগে গেছে এবং অনুচিত কথা বলছে, তখন সে যা বলছে তাকে কনিষ্ঠাঙ্গুলি পরিমাণও বিশ্বাস করবেন না। অর্থাৎ তার কথা ধরে বসবেন না এবং এ জন্য পাকড়াও করবেন না।

বিজ্ঞাপন

কেননা তার অবস্থা নিশাগ্রস্ত ব্যক্তির মতোই। সে কি বলছে তা নিজেও জানে না।

২.   বরং আপনি তখন ধৈর্য ধারণ করুন। তার কথার উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা শয়তান তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে এবং তার স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধি হ্রাস পেয়েছে।

৩.   যখন আপনি আত্মনিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবেন এবং তার কাজের যতোচিত উত্তর দিতে পারবেন, তবে আপনার আচরণ হবে এমন সচেতন ব্যক্তির মতো যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছে এবং হুশসম্পন্ন ব্যক্তি বেহুশ ব্যক্তির নিন্দা করছে। সুতরাং আপনিই পাপী হবেন।

৪.   তাকে মমতার দৃষ্টিতে দেখুন, আত্মসংযমের জায়গা থেকে তাকে দেখুন এবং তার মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসার সুযোগ দিন। জেনে রাখুন, সে যখন কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে, তখন আপনার ধৈর্যের জন্য তার কাছে আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

৫.   এমন পরিস্থিতি একজন পিতা রেগে গেলে সন্তানের এবং স্বামী রেগে গেলে স্ত্রীর যা করণীয় তাই করা উচিত। তাকে যা ইচ্ছা বলতে দিন এবং উত্তর দেবেন না। যেন সে লজ্জিত হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ এর বিপরীত কাজ করে। সঙ্গী-সহকর্মী রেগে গেলে তার কথার উত্তর দেয় এবং তার মতোই কাজ করে—এটা প্রজ্ঞার পরিচয় নয়। বরং ধৈর্য ও সংযমই বুদ্ধিমানের পরিচয়।

‘সাইদুল খাতির’ (৪৬৮) থেকে আতাউর রহমান খসরুর ভাষান্তর



সাতদিনের সেরা