kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

তাকওয়াময় জীবন গড়তে চাইলে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে তাকওয়া অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং এর বহুবিধ উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই স্বভাবতই প্রতিটি মুমিনের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাকওয়া অর্জনে করণীয় কী? কিভাবে অন্তরে তাকওয়া জন্মামে। কোন কোন কাজে তা সহজ হবে। নিম্নে কোরআন-হাদিসের আলোকে সেগুলোর কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

কোরআন তিলাওয়াত : বান্দা মহান আল্লাহকে যত বেশি চিনতে পারবে, তাঁর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে যত বেশি জানতে পারবে, তার জন্য তাকওয়া অর্জন করা তত বেশি সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ এমন নন যে তিনি কোনো সম্প্রদায়কে হিদায়াত দানের পর তাদের পথভ্রষ্ট করবেন। যতক্ষণ না তাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন, যা থেকে তারা তাকওয়া অবলম্বন করবে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৫)

মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট বর্ণনাগুলো পাওয়া যায় কোরআনে। তাই তাকওয়া অর্জনে কোরআন পাঠ একটি অন্যতম মাধ্যম।

আল্লাহর বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া : আল্লাহর বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, তা আঁকড়ে ধরা তাকওয়া অবলম্বনের আরেকটি মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের যা (কিতাব) দিয়েছি, তা (তাতে যে নির্দেশ আছে) শক্তভাবে ধরো এবং তাতে যা রয়েছে তা স্মরণ করো, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬৩)

বেশি পরিমাণ ইবাদতের চেষ্টা করা : যাদের মন-মস্তিষ্ক, জ্ঞান-বুদ্ধিতে শয়তান আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়, তারা কখনো তাকওয়া অর্জন করতে পারে না, তাদের কাছে গুনাহ গুনাহই মনে হয় না, ফলে তারা তাওবার সৌভাগ্যও অর্জন করতে পারে না। অতএব তাকওয়া অর্জনের জন্য অবশ্যই এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অন্তর শয়তানের প্রভাবমুক্ত হয়। আর এর অন্যতম মাধ্যম ইখলাসের সহিত বেশি বেশি ইবাদত করা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর অধিক ইবাদতকারী বান্দাদের ব্যাপারে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমার (একনিষ্ঠ) বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই, তবে পথভ্রষ্টরা ছাড়া যারা তোমাকে অনুসরণ করেছে। (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪২)

মৃত্যুচিন্তা : মৃত্যুচিন্তা, কোরআন-হাদিস নিয়ে চিন্তা-গবেষণা মানুষের মনে তাকওয়া সৃষ্টি করে। মানুষকে সৎ পথে চলতে শেখায়, অসৎ কাজগুলোর ওপর অনুশোচনা সৃষ্টি করে, তাই কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা করা ও বেশি বেশি মৃত্যু ও কবর-হাশরের ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তার মাধ্যমে অন্তরে তাকওয়ার প্রভাব বাড়ানো যেতে পারে।

 



সাতদিনের সেরা