kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

১৯ জানুয়ারি, জাতীয় শিক্ষক দিবস

ইসলামী সমাজে শিক্ষকের চির উন্নত শির

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলামী সমাজে শিক্ষকের চির উন্নত শির

‘আজ থেকে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির

সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর। ’

কবি কাজী কাদের নেওয়াজের ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ শীর্ষক উল্লিখিত কবিতায় শিক্ষকের যে অনন্য মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে সেটাই ইসলামী সমাজের চিরায়ত রীতি। কেননা ইসলামী সমাজে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। ইসলাম শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মান ও বিনয় প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেকে শিক্ষক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। ’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৯)

পবিত্র কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াত থেকেও শিক্ষকের মর্যাদা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু কোরো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চ স্বরে কথা বলো তাঁর সঙ্গে সেভাবে উচ্চ স্বরে কথা বোলো না। কেননা এতে তোমাদের আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে। ’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ২)

যারা জ্ঞান বিতরণে আত্মনিয়োগ করেছে সমাজের প্রতি তাদের অনুগ্রহ সবচেয়ে বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সবচেয়ে বড় দানশীল আল্লাহ। তারপর আদম সন্তানের মধ্যে আমি হলাম সবচেয়ে দানশীল। এরপর বেশি দানশীল ওই ব্যক্তি যে জ্ঞানার্জনের পর তা প্রচারে আত্মনিয়োগ করে। এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন একাই একজন আমিরের মতো বা এক উম্মত হিসেবে মর্যাদাসহ উপস্থিত হবে। ’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ২৫৯)

শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকের অবদান অসীম। তাই শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের জন্য দোয়া করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেউ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করলে তোমরা তাকে এর বিনিময় প্রদান করবে। যদি বিনিময় দেওয়ার মতো কিছু না পাও তবে তার জন্য তোমাদের মনে এ ধারণা হওয়া পর্যন্ত দোয়া করতে থাকবে যে তোমরা তার সমপরিমাণ বিনিময় প্রদান করতে সক্ষম হয়েছ। ’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৬৭২)

শিক্ষকের দায়িত্ব হলো সব শিক্ষার্থীকে সমান গুরুত্ব দেওয়া, অনর্থক কথা পরিহার করা, শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করে চলা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বৈশিষ্ট্য ছিল, ‘তিনি বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতেন। তাতে অংশগ্রহণকারী কেউ মনে করত না যে অন্য কেউ তার চেয়ে সম্মানী। কেউ তাঁর সঙ্গে বৈঠক করলে বা সাক্ষাতে এলে তিনি ধৈর্যসহ তাকে সময় দিতেন যতক্ষণ না সে ব্যক্তি নিজে সরে না যেত। ...তার হাসিমুখ ও উত্তম আচরণ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। ফলে তিনি তাদের কাছে পিতৃতুল্য ব্যক্তিতে পরিণত হন। অধিকার লাভের ক্ষেত্রে তারা সবাই ছিল তার কাছে সমান। তাঁর বৈঠক ছিল জ্ঞান, লজ্জা-শালীনতা, ধৈর্য ও আমানতের বৈঠক। সেখানে আওয়াজ উঁচু হতো না, তাদের সম্মান-সম্ভ্রম নষ্ট করা হতো না, কারো ত্রুটি বর্ণনা করা হতো না। তারা সবাই তাঁর কাছে সমান ছিল। তবে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির মাধ্যমে তারা অগ্রাধিকার লাভ করত। (সিফাতুর রাসুল, মুখতারাত মিন আদাবিল আরাবি : ২/১৫)



সাতদিনের সেরা