kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

বন্ধকি সম্পদ সংরক্ষণের বিধান

মুফতি আবদুল্লাহ নুর   

১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বন্ধকের আরবি প্রতিশব্দ রাহন। যার অর্থ আটকে রাখা। মূলত পরিশোধ করা সম্ভব এমন কোনো অধিকার বিনিময়ে কোনো জিনিস বন্ধক রাখাকেই বন্ধক। শর্তসাপেক্ষে ইসলামী শরিয়তে রাহন বৈধ।

বিজ্ঞাপন

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যদি সফরে থাক এবং (লেনদেন লিপিবদ্ধ) কোনো লেখক না পাও তবে হস্তান্তরকৃত বন্ধক রাখবে। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৩)

বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ইহুদির কাছ থেকে কিছু খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করেছিলেন এবং তাঁর লৌহবর্মটি বন্ধক রেখেছিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)

দাতা যখন বন্ধকি বস্তু হস্তান্তর করে ফেলবে, তখন তার বন্ধকি সম্পদ গ্রহীতার দায়িত্বে চলে যাবে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ তার দায়িত্বে বর্তাবে। কেননা তার পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধের পথ সুগম করার লক্ষ্যে শরিয়ত বন্ধক অনুমোদন করেছে। সুতরাং এই বন্ধকি তার পাওনা আদায়ের গ্যারান্টিস্বরূপ। সে এটির মালিকও নয়, আবার এটা তার হাতে নিছক আমানতও নয়। অবশ্য বন্ধকি বস্তু যদি তার কাছ থেকে হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে তাকেই এই ভর্তুকি বহন করতে হবে। অন্যদিকে বন্ধকি বস্তুটি ঋণ পরিশোধের আগ পর্যন্ত নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি এর ব্যয়ভার তাকেই বহন করতে হবে।

বন্ধকি বস্তু যদি গ্রহীতার হাত থেকে হারিয়ে যায় তাহলে দেখতে হবে, তার মূল্য ও মূলধনের মধ্যে কোনো ব্যবধান আছে কি না? যদি না থাকে অর্থাৎ মূলধন আর বন্ধকি সম্পদের মূল্য সমান সমান হয়, তাহলে বন্ধকি বস্তু হারিয়ে গেলে ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে বলে ধরে নিতে হবে। আর যদি দাম বেশি হয় তাহলে সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ আর অতিরিক্তটুকু গ্রহীতার হাতে আমানত মনে করতে হবে। যদি বন্ধকি বস্তুর চেয়ে ঋণের পরিমাণ বেশি হয়, তবে বন্ধকি সম্পদের মূল্য পরিমাণ ঋণ পরিশোধিত বলে বিবেচিত হবে। ঋণদাতা অবশিষ্ট ঋণ পরে আদায় করে নেবে।

উল্লেখ্য, যেদিন বন্ধকি গ্রহীতা তা কবজা করবে সেদিনের মূল্যই হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বন্ধকি সম্পদের মান নির্ধারণের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে। (বন্ধক অধ্যায়, হেদায়া)

 



সাতদিনের সেরা