kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনন্দিন ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেয়ের বিয়েতে দেওয়া উপহার ফেরত নেওয়া

প্রশ্ন : আমার খালু তাঁর মেয়ের বিয়ের সময় সেগুন কাঠের একটি খাট, একটি আলমারি ও একটি ড্রেসিং টেবিল উপহার দেন। এখন সেই সংসারটি ভাঙাভাঙির উপক্রম হয়েছে। হয়তো তাদের সংসার আর টিকছে না। এখন কি আমার খালাতো বোন সেই আসবাব ফেরত চাইতে পারবে?

আব্বাস উদ্দিন, বগুড়া।

বিজ্ঞাপন

উত্তর : এজাতীয় উপহারগুলো বিয়ের সময় মেয়ের বাবা মূলত মেয়েকে উদ্দেশ করেই দিয়ে থাকেন। তাই কোনো কারণে সংসার ভেঙে গেলে মেয়ে তার বাবার দেওয়া খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল ইত্যাদি উপহার ফেরত চাইতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৬৪৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৭/৩৯৮)

 

নামাজের সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে

প্রশ্ন : ইমাম যদি নামাজের দ্বিতীয় বৈঠকের পর সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যান, পরে মুসল্লিদের লোকমা পেয়ে বসেন, তাহলে কি সাহু সিজদা লাগবে? লাগলে সিজদা দেওয়ার নিয়ম কী?

আব্দুল্লাহ, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।

উত্তর : প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ইমাম পূর্ণ দাঁড়িয়ে গেলে অথবা দাঁড়ানোর নিকটবর্তী থেকে ফিরে এলে সাহু সিজদা দিতে হবে। নিয়ম হলো, এ ক্ষেত্রে বসে আত্তাহিয়্যাতু না পড়েই এক সালাম ফেরাবে এবং সাহু সিজদা দেবে। অতঃপর পুনরায় বসে আত্তাহিয়্যাতু পড়বে এবং যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা ১৪৬, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ২/১৯৫)

 

কসমের কাফফারার কী

প্রশ্ন : আমাদের এলাকার একজন মুরব্বি বলেছেন, কসম (শপথ) করার পর কাফফারা দিয়ে দিলে তা ভাঙা যায়। প্রশ্ন হলো, কসমের কাফফারা কী?

মিনহাজ, গাজীপুর।

উত্তর : ইসলামে কসমের বিধান হলো, শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কসম করার পর তা ভাঙা উচিত নয়। হ্যাঁ, যদি নিষিদ্ধ ও হারাম কোনো বিষয়ে কসম করে, তাহলে ভাঙা জরুরি। তবে সর্বাবস্থায়ই কসম করার পর তা ভেঙে ফেললে কাফফারা দেওয়া আবশ্যক।

কাফফারা হলো, ১০ জন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো বা প্রত্যেককে এক জোড়া করে কাপড় দেওয়া কিংবা একজন গোলাম আজাদ করা। আর যদি উপরোক্ত কোনোটিতে সামর্থ্য না হয়, তাহলে ধারাবাহিক তিনটি রোজা রাখা। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২৪, সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮৯, মুসলিম, হাদিস : ১৬৫০)

 

বিসমিল্লাহর পরিবর্তে ৭৮৬ লেখা

প্রশ্ন : আমরা অনেক সময় চিঠিপত্র বা নির্বাচনী পোস্টারে বিসমিল্লাহ বোঝানোর জন্য ৭৮৬ লিখি। এটি কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ? ৭৮৬ লিখলে বিসমিল্লাহর সুন্নত আদায় হবে কি?

মুহাম্মদ জাভেদ সারোয়ার, ফেনী।

উত্তর : কোরআন শরিফের প্রতিটি আয়াত বা শব্দের হেফাজত ও আদব বজায় রাখা জরুরি। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত। তাই যেখানে এটি লিখলে এর মর্যাদাহানি হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেখানে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের স্থলে ৭৮৬ লেখার দ্বারা বিসমিল্লাহর সুন্নত আদায় হবে না। (হিন্দিয়া : ১/৩৯, জাদিদ ফিকহি মাসায়েল : ১/৩৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/৩৬৭)

 

 

 



সাতদিনের সেরা