kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনন্দিন ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুন্নাতে মুআক্কাদার প্রথম বৈঠকে দরুদ পড়লে

প্রশ্ন : চার রাকাতবিশিষ্ট সুন্নাতে মুআক্কাদা এবং জায়েদার প্রথম বৈঠকে তাশাহুদের পর দরুদ পড়ে ফেললে সাহু সিজদা দিতে হবে?

এনায়েত উল্লাহ, মাদারীপুর।

উত্তর : ফিকহবিদগণের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ ও সুন্নতে মুআক্কাদায় প্রথম বৈঠকে তাশাহুদের পর ভুলক্রমে দরুদ শরিফের ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ’ পর্যন্ত পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। আর ইচ্ছাকৃত এ রকম করলে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে। এতে ব্যতিক্রম হলো জুমার চার রাকাত সুন্নত।

বিজ্ঞাপন

তাতে প্রথম বৈঠকে ভুলে দরুদ শরিফ পড়ার দ্বারা সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে সুন্নতে জায়েদা ও নফল নামাজের ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠকে তাশাহুদের পর দরুদ শরিফ ও দোয়ায়ে মাসুরা এবং তৃতীয় রাকাতের শুরুতে ছানা পড়া উত্তম হওয়ায় দরুদ শরিফ পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। (তাবয়িনুল হাকায়েক : ১/১৯৩, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৮১, ২/১৬, হিন্দিয়া : ১/১১৩, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ১/১৯০)

 

লঞ্চের যাত্রীদের জুমার বিধান

প্রশ্ন : জুমার নামাজের সময় আমরা লঞ্চে ছিলাম, লঞ্চ নদীতে চলন্ত ছিল এবং আমরা সবাই মুসাফির ছিলাম। প্রশ্ন হলো, আমরা জুমার নামাজ আদায় করব নাকি জোহর? যদি জোহর আদায় করি তাহলে আজান-ইকামতসহ জামাতে আদায় করব না একাকী আদায় করব?

মাহফুজুর রহমান রাসেল, হাতিয়া।

উত্তর : যে লঞ্চের মধ্যে সাধারণ যাত্রী ও ভেতরে বাইরের লোকজনের আনাগোনা থাকে না, সেই লঞ্চে জুমার নামাজ শুদ্ধ নয়, যাত্রীরা মুসাফির হোক বা মুকিম। উপরন্তু যাত্রীরা মুসাফির হলে এমনিতেই জুমা ফরজ থাকে না। সুতরাং নদীতে লঞ্চের মধ্যে মুসাফিরের জন্য জোহরই পড়তে হবে, জুমা পড়া বৈধ নয়। জোহরের নামাজ একাকী পড়া উত্তম, জামাত করলেও নামাজ হয়ে যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/১৫৭, রদ্দুল মুহতার : ১/১৫৭, এমদাদুল ফাতাওয়া : ১/৬৩৮)

 

খুতবা চলাকালে মোবাইল ফোন বন্ধ করা

প্রশ্ন : খুতবার সময় বা নামাজ পড়া অবস্থায় মোবাইলে রিং হলে তা বন্ধ করা জায়েজ হবে কি? একবার বা একাধিকবার বন্ধ করার বিধান কি একই, না ভিন্ন?

মোবারক হোসেন, সুনামগঞ্জ।

উত্তর : মসজিদে আসার আগেই মোবাইল বন্ধ করে দেওয়া আবশ্যক। যদি তা করা না হয়, আর খুতবা বা নামাজ অবস্থায় রিং হতে থাকে, তাহলে এক হাতে যতটা সম্ভব সংযতভাবে তা বন্ধ করার অনুমতি আছে। তবে নামাজ অবস্থায় তিন তাসবিহ পরিমাণ সময়ের ভেতরে তিন বা ততোধিকবার বন্ধ করলে নামাজ ভেঙে যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬২৪, রদ্দুল মুহতার : ১/৬২৫, আল খানিয়া : ১/১২৮, আহসানুল ফাতাওয়া : ৩/৪১৯)

 

মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় কাউকে দাফন করা

প্রশ্ন : মসজিদের ৬ শতাংশ জমি ওয়াকফ করা হয়েছে ৩০ বছর আগে। এলাকার একজন সম্মানিত লোক এলাকাবাসীকে (মসজিদ কমিটিকে) এই মর্মে অসিয়ত করেন যে তিনি মারা গেলে তাঁকে যেন মেহরাবের দক্ষিণ পাশে কবর দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, উক্ত ব্যক্তির মসজিদে বহু অবদান আছে। উক্ত ব্যক্তিকে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তিতে কবর দেওয়া যাবে কি?

আব্দুল আউয়াল, লক্ষ্মীপুর।

উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে ওয়াকফ করা সম্পত্তিকে তাঁর নির্ধারিত খাত ছাড়া অন্য খাত ব্যবহার করার অধিকার কারো নেই। তাই মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তিতে মসজিদসংক্রান্ত কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত মসজিদের ওয়াকফ জমিতে কাউকে দাফন করা জায়েজ হবে না। অনুদানদাতা তো দূরের কথা, স্বয়ং ওয়াকফকারীকেও দাফন করা যাবে না। (হিন্দিয়া : ২/৪৬৪, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২০৩)

 



সাতদিনের সেরা