kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

যেসব কারণে আল্লাহ রাগান্বিত হন

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষের জীবনে সর্বাধিক দুর্ভাগ্যের কথা হলো, তার ওপর আল্লাহর গজব বা ক্রোধ নেমে আসা। কেননা আল্লাহ যার ওপর রাগান্বিত হন, তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। তার যাবতীয় আমল বরবাদ হয়ে যায় এবং সে ইহকাল ও পরকালে সৌভাগ্য লাভ করতে পারে না। মহান আল্লাহ অতীতে বিভিন্ন জাতির ওপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন, যখন তারা শিরকে লিপ্ত হয়েছে এবং পাথর, বৃক্ষ ও জড়বস্তুকে তাঁর সমকক্ষ বানিয়েছে এবং এগুলোর পূজা শুরু করে দিয়েছে। নিম্নে আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসার কারণ বর্ণনা করা হলো—

এক. কুফরি করা এবং নবীদের হত্যা করা আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসার অন্যতম কারণ। বনি ইসরাঈল আল্লাহর ক্রোধপ্রাপ্ত অন্যতম জাতি। তাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘তারা লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হলো আর তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হলো। এটা এ জন্য যে তারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করত এবং নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করত। অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘন করার কারণেই তাদের এই পরিণতি হয়েছিল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬১)

দুই. চতুষ্পদ জন্তুর উপাসনা করা আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসার কারণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে, পার্থিব জীবনে তাদের ওপর তাদের রবের ক্রোধ ও লাঞ্ছনা আপতিত হবেই। আর এভাবে আমি মিথ্যা রচনাকারীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫২)

তিন. মুরতাদ হওয়া বা দ্বিন থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং কুফরির জন্য হৃদয় উম্মুক্ত রাখলে তার ওপর আপতিত হবে আল্লাহর ক্রোধ এবং তার জন্য আছে মহাশাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে কুফরির জন্য বাধ্য করা হয়, কিন্তু তার অন্তর ঈমানে অবিচলিত।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৭)

চার. কোনো মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন। তাকে লানত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৯৩)

পাঁচ. মা-বাবা অসন্তুষ্ট হলে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর মা-বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৯৯)

ছয়. অসংযত ও বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলার কারণে আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই বান্দা কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো কথা বলে, অথচ সে কথা সম্পর্কে তার চেতনা নেই। কিন্তু এ কথার দ্বারা আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবার বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা বলে ফেলে—যার পরিণতি সম্পর্কে তার ধারণা নেই, অথচ সে কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৮)। মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর ক্রোধ থেকে রক্ষা করুন।



সাতদিনের সেরা