kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনন্দিন ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জুমার সানি আজানের উত্তর দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন : জুমার দিন ইমাম সাহেব খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে ওঠার আগে যে আজান দেওয়া হয়, ওই আজানের উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? মুখে উচ্চারণ করে দেওয়া যাবে?

নিলয় চৌধুরী, বরিশাল

উত্তর : জুমার সানি আজানের জবাব মুখে দেওয়ার পরিবর্তে মনে মনে দেওয়ার অবকাশ আছে। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/২৯৯, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ২/৫৮, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/২১২)

 

মনে মনে কিছু পড়ে বুঝলে নামাজের বিধান

প্রশ্ন : নামাজরত অবস্থায় লিখিত বস্তু কতটুকু পড়লে নামাজ নষ্ট হয়? যেমন কোনো ব্যক্তি মসজিদের নামাজের কাতার সংকুলান না হওয়ায় বাইরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াকালে কোনো পোস্টারের লেখা মনে মনে পড়ে ফেলেছে বা অনুধাবন করেছে, বুঝে তার অর্থ নিয়ে মাথায় চিন্তাও এসেছে, তাহলে তার নামাজ শুদ্ধ হবে?

মনজুরুল কাদের, রাজশাহী

উত্তর : নামাজবহির্ভূত কোনো শব্দ মুখে উচ্চারণ করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। তবে মনে মনে পড়ে অর্থ বুঝে ফেললে নামাজ নষ্ট হবে না। কিন্তু নামাজে অন্যদিকে দেখা ও মনে মনে কিছু পড়া, যা প্রশ্নে বর্ণনা করা হয়েছে মাকরুহ।

বিজ্ঞাপন

এতে নামাজের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। (ফাতাওয়ায়ে কাজি খান : ১/৬৬, আল বাহরুর রায়েক : ২/১৪, আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬৩৪, আফকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ২/৩১৩)

 

চামড়া উঠালে অজু নষ্ট হয়?

প্রশ্ন : অজু করার সময় শরীরের যেসব অঙ্গ ধুতে হয়, নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেসব অঙ্গের কোনো অংশের গোটা বা এমনিতেই চামড়া উঠালে অজু ভেঙে যাবে কি না? কারণ চামড়ার ওপরের অংশ ধোয়া হয়েছিল। কিন্তু নিচের অংশ অর্থাৎ চামড়া উঠানোর পর যে অংশ বের হয়েছে তা ধোয়া হয়নি।

মেহেদি হাসান, গাজীপুর।

উত্তর : এরূপ করার দ্বারা অজুর কোনো ক্ষতি হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/৩৩, আল খানিয়া : ১/২২, হিন্দিয়া : ১/৫)

 

শুধু নিয়ত করলেই ওয়াকফ হয়?

প্রশ্ন : আমার নিজস্ব জমি থেকে নির্দিষ্ট এক টুকরা জমি মক্তবের জন্য ওয়াকফ করার নিয়ত করি। কিছু দিন পর আমার এক ছেলে অন্যান্য জমির সঙ্গে ওই জমিটা রেজিস্ট্রি করে নিয়ে যায়। সে সময় আমার মনের ইচ্ছাটা ব্যক্ত করার পর সে বলল যে এ ব্যাপারে আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। এখন সে এ ব্যাপারে কোনো কথাই বলছে না। ওই নিয়ত পূরণ না করার কারণে আল্লাহর কাছে দায়ী থাকতে হবে? পরকালে আমার কোনো অসুবিধা হবে?

জহিরুল ইসলাম, রানীবাজার, কুমিল্লা

উত্তর : ওয়াকফের শব্দ উচ্চারণ ছাড়া শুধু ওয়াকফের নিয়তের কারণে ওয়াকফ করা জরুরি হয় না। উল্লিখিত ব্যক্তি যদি মক্তবের জন্য ওই জায়গা ওয়াকফ করার কথা মুখে উচ্চারণ না করে শুধু অন্তরে ওয়াকফের নিয়ত করে থাকে, তাহলে এতে ওয়াকফ সাব্যস্ত হবে না। তাই আল্লাহর কাছে দায়ী হবে না। (আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু : ৮/১৫৭, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৫/৩৩৫)

 

 



সাতদিনের সেরা