kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শহীদদের স্মরণে নবীজি (সা.)-এর কান্না

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহীদরা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত বান্দা। যাদের মহান আল্লাহ পরকালে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেবেন, তাদের মধ্যে শহীদরা অন্যতম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর কেউ আল্লাহ এবং রাসুলের আনুগত্য করলে সে নবী, সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ), শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণ, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন তাদের সঙ্গী হবে এবং তারা কত উত্তম সঙ্গী! (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬৯)

প্রিয় নবী (সা.)-তাঁর সাহাবিদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন, তাদের সুখে সুখী হতেন, তাঁদের দুঃখে দুঃখী হতেন। বিভিন্ন সাহাবির মৃত্যুতে রাসুল (সা.)-এর মর্মাহত হওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-কে মৃত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.) চুম্বন করেছিলেন আর কাঁদছিলেন। অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ৯৮৯)

অনেকের প্রশ্ন জাগতে পারে, কারো মৃত্যুতে ক্রন্দন করার ব্যাপারে তো রাসুল (সা.) নিষেধ করেছেন, তাহলে মদিনায় মৃত্যুবরণকারী প্রথম মুহাজিরের ইন্তেকালে কেন কেঁদেছিলেন? উল্লেখ্য, প্রিয় মানুষের মৃত্যুতে চিৎকার করে কান্না করা, জামা-কাপড় ছেঁড়া ও মুখমণ্ডলে আঘাত করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ। কিন্তু তার বিয়োগব্যথায় নীরবে কাঁদার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, আবদুর রাহমান ইবনে আওফ (রা.)-এর হাত ধরে তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ পুত্র ইবরাহিম (আ.)-এর কাছে গেলেন। তাঁকে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পেলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে কোলে তুলে নিলেন এবং কাঁদলেন। আবদুর রাহমান (রা.) তাকে বলেন, আপনিও কাঁদছেন? আপনি কি কান্না করতে বারণ করেননি? তিনি বলেন, না; বরং আমি দুটি নির্বোধসুলভ ও পাপাচারমূলক চিৎকার নিষেধ করেছি; বিপদের সময় চিৎকার করা, মুখমণ্ডলে আঘাত করা এবং জামার সম্মুখভাগ ছিঁড়ে ফেলা আর শয়তানের মতো (চিৎকার) কান্নাকাটি করা। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ১০০৫)

সাহাবায়ে কেরামকেও রাসুল (সা.) তাঁর সন্তানের মতোই ভালোবাসতেন। যা বিভিন্ন সময় রাসুল (সা.)-এর বিভিন্ন আচরণ দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায়। এর ছোট্ট একটি উদাহরণ হলো, মুতার যুদ্ধের ঘটনা।

আনাস (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) জায়দ, জাফর ও আবদুল্লাহ (রা.)-এর মৃত্যু সংবাদ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আসার আগেই আমাদের শুনিয়েছিলেন। তিনি বলছিলেন, জায়দ (রা.) পতাকা ধারণ করে শাহাদাত লাভ করেছে। অতঃপর জাফর (রা.) পতাকা ধারণ করে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করল। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) পতাকা হাতে নিয়ে শাহাদাত লাভ করল। তিনি যখন এ কথাগুলো বলছিলেন তখন তাঁর দুই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। (অতঃপর বলেন) আল্লাহ তাআলার তরবারিগুলোর এক তরবারি অর্থাৎ খালিদ ইবনে ওয়ালিদ পতাকা উঠিয়েছেন। অবশেষে আল্লাহ মুসলিমদের বিজয় দিয়েছেন। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩৭৫৭)

আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের। কিন্তু তবু শহীদদের কথা স্মরণ করতে গিয়ে সাময়িত দূরত্বের কারণে মহানবী (সা.)-এর চোখ থেকে অশ্রু ঝরেছিল। যা ছিল তাদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অশ্রু।



সাতদিনের সেরা