kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভে করণীয়

সাআদ তাশফিন   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোনো ব্যক্তি যদি পরীক্ষার ব্যাপারে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তাহলে সে অবশ্যই সফল হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)

আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করার মানে এই নয় যে পড়ালেখা না করেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য বসে থাকবে। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে দারুল আসবাব তথা উপকরণের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছেন। তাই উপকরণ গ্রহণ করতে হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন হজ করত কিন্তু সঙ্গে পাথেয় নিয়ে আসত না। আবু মাসউদ বলেন, ইয়েমেনের কিছু লোক হজে যেত; কিন্তু সঙ্গে পাথেয় আনত না এবং তারা বলত যে আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করেছি। অথচ মক্কায় পৌঁছার পর তারা ভিক্ষা করত। ফলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, ‘তোমরা হজের সফরে সঙ্গে পাথেয় নিয়ে যাবে, আর জেনে রেখো তাকওয়াই হলো উত্তম পাথেয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৭৩০)

কঠোর পরিশ্রম : তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার পাশাপাশি অলসতা ত্যাগ করে নিজের সাধ্যানুযায়ী কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কারণ আল্লাহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের পরিশ্রম ও চেষ্টার ওপর ভিত্তি করে তাকে সফলতা দান করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সবার জন্যই তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে। আর আল্লাহ যেন তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিতে পারেন। আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।’ (সুরা আল-আহকাফ, আয়াত : ১৯)

সালাতুল হাজত : পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে দুই রাকাত ‘সালাতুল হাজত’ পড়ে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হওয়া যেতে পারে। কারণ রাসুল (সা.) যখন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন ‘সালাতুল হাজত’ বা প্রয়োজন পূরণের নামাজ পড়তেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩১৯)

স্থিরতা অবলম্বন করা : অনেকে পরীক্ষার সময় অস্থির হয়ে পড়েন। খুব বেশি তাড়াহুড়া করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভুল উত্তরও দিয়ে বসেন। ইসলাম তাড়াহুড়া পছন্দ করে না। কারণ এটি শয়তানের অভ্যাস। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ধীরস্থিরে কাজ করা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আর তাড়াহুড়া করা শয়তানের পক্ষ থেকে।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ২০৭৬৭)

বিসমিল্লাহর সহিত শুরু করা : যেকোনো ভালো কাজই বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতে হয়। তাই পরীক্ষার্থীরাও প্রশ্নপত্র গ্রহণ করার পর বিসমিল্লাহ বলে তা শুরু করতে পারেন। সঙ্গে দরুদ শরিফও পাঠ করে নিতে পারেন। কারণ কোনো ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ওপর একবার দরুদ পড়লে মহান আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। এবং উত্তরপত্রে লেখা শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতে পারেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, যেসব কাজ আল্লাহর নাম না নিয়ে শুরু করা হয়, সেগুলো বরকতশূন্য। কোনো বর্ণনায় আল্লাহর প্রশংসার কথাও বলা হয়েছে।

বেশি বেশি দোয়া করা : পরীক্ষায় সঠিক উত্তর প্রদানে মহান আল্লাহর সাহায্যের জন্য মনে মনে তাঁর কাছে দোয়া করা যেতে পারে। যেমন ‘রব্বি জিদনি ইলমা’। মহান আল্লাহ নিজেই তাঁর বন্ধুকে এই দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে। ‘এবং দোয়া করো, হে আমার পরওয়ারদিগার, আমাকে আরো জ্ঞান দাও। (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১১৪)

নকল না করা : নকল করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রতারণার শামিল। মুমিন কখনো প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারে না। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০২) আল্লাহ আমাদের সব পরীক্ষার্থীকে সফলতা দান করুন। আমিন।

 



সাতদিনের সেরা