kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনন্দিন ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দৈনন্দিন ১৫-২০ সেট কাপড় ব্যবহার করলে জাকাতের বিধান

প্রশ্ন : এক নারীর অনেক কাপড়চোপড়। তার দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ সেট কাপড় আছে। এ অবস্থায় তার ওপর কি জাকাত আসবে?

উম্মে মরিয়াম, রায়েরবাগ

উত্তর : প্রশ্নোক্ত নারী তার ১৫-২০ সেট কাপড় দৈনন্দিন ব্যবহার করুক বা না করুক, তা সম্পদ ক্রমবর্ধমান (নামি) না হলে তার ওপর জাকাত আসবে না। (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১, রুহুল মাআনি : ৯/৭১, শরহে মুখতাসারুল মাআনি : ১৪৯, আল ফিকহুল হানাফি : ১/৩৫৬)

 

সুদের টাকায় নির্মিত বাড়ির ভাড়ার বিধান

প্রশ্ন : কেউ যদি সুদের টাকা নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে, ওই বাড়ির ভাড়া তার জন্য হালাল হবে, নাকি হারাম?

আব্দুল ওয়াহাব, কুমিল্লা

উত্তর : সুদের টাকা দিয়ে যে বাড়ি বানানো হয়েছে ওই ঘর ভাড়া দেওয়া হলে তার ভাড়া গ্রহণ করা জায়েজ হলেও তা অপবিত্রতা থেকে মুক্ত নয়।

বিজ্ঞাপন

এর থেকে মুক্ত হতে তার জন্য আবশ্যক হলো যে পরিমাণ সুদের টাকা সে এই বাড়িতে লাগিয়েছে, তা সুদদাতাদের ফেরত দিয়ে দেওয়া, তা সম্ভব না হলে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেওয়া। (আদ্দুররুল মুখতার : ৭/৫১৮, রদ্দুল মুহতার : ৫/২৩৫, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ : ১৭/৩০১)

 

ধারকৃত বস্তু বন্ধক রাখা

প্রশ্ন : ধারকৃত বস্তু ধার গ্রহণকারী তার কোনো ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখতে পারবে কি?

মামুন, মিরপুর

উত্তর : ধারকৃত বস্তু ধার গ্রহণকারী তার কোনো ঋণের মোকাবেলায় বন্ধক রাখতে পারবে না। (আল ফিকহুল হানাফি : ৪/৪৬৪, তাবয়িনুল হাকায়েক : ৭/১৫৩, আদ্দুররুল মুখতার : ১০/১০৬, রদ্দুল মুহতার : ১/৪৯২, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ১৭/৪৩১)

 

রাগের মাথায় কুফরি কথা বলার বিধান

প্রশ্ন : কারো সঙ্গে তর্ক করতে গিয়ে রাগের মাথায় এ কথা বলা যে ‘তোকে আল্লাহও বুঝতে পারবে না’—এর দ্বারা তার ঈমান থাকবে কি? প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির অন্তরে কিন্তু আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা ও ঈমান আছে, তবে সে রাগের মাথায় কথাটি বলে ফেলেছে, তার বিধান কী?

মাহতাব চৌধুরী, সোনারগাঁও

উত্তর : রাগের মাথায় মুখ থেকে কুফরি কথা বের হয়ে গেলে কুফরি হয়ে যায়। সুতরাং তার জন্য জরুরি হলো, নতুনভাবে কলেমা পড়ে নেওয়া এবং বিবাহিত হলে বিয়ে নবায়ন করে নেওয়া। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ৪/৩৮৩, মাজমাউল আনহুর : ২/৫০৪, আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩৪৩, রদ্দুল মুহতার : ৪/২২২, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ১২/৩৪৩)

 

মসজিদে প্রবেশকালে সালাম প্রদান করা

প্রশ্ন : আমাদের এলাকার মসজিদগুলোর অবস্থা এই যে মসজিদের ভেতরে বসে বসে বিভিন্ন ধরনের দুনিয়াবি আলোচনা চলে। এটাকে কেউ নিষেধ করলে মানে না। কিন্তু কোনো ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশকালে সালাম দিলে সবাই একসঙ্গে বলে মাকরুহ। জানার বিষয় হলো, মসজিদে প্রবেশকালে সালাম দিলে কোন কোন অবস্থায় মাকরুহ, আর কোন অবস্থায় জায়েজ?

     বশির আহমদ, ইসলামপুর, ঢাকা

উত্তর : মসজিদে প্রবেশকালে ফেরেশতাদের নিয়তে মৃদুস্বরে নিম্নে লিখিত সালাম দেওয়ার অনুমতি আছে, ‘আসসালামু আলাইনা মিন রাব্বিনা, ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহিন’ যদি লোকজন নীরবে বসে থাকে বা আলাপ-আলোচনায় রত থাকে তাদের সম্বোধন করে সালাম দেওয়াও সুন্নত। তবে কেউ যদি নামাজে বা তিলাওয়াতে মগ্ন থাকে তাকে সালাম দেওয়া যাবে না। যারা মসজিদে প্রবেশকালে সর্বাবস্থায় সালাম দেওয়া মাকরুহ বলে, তাদের কথা সঠিক নয়। (হিন্দিয়া : ৫/৩২১, রাদ্দুল মুহতার : ১/৬১৮, ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়া : ৫/৯০)



সাতদিনের সেরা